অনলাইনে বিরিয়ানি বেচছে কেরলের জেল, রাঁধছেন কয়েদি-বন্ধুরা, কী কী রয়েছে কম্বো-প্যাকে?

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাতে গরম নরম রুটি চাই? না খাস্তা করে বানানো চাপাটি? নাকি জিভে আর একটু ঠেলা দিতে, ডুমো ডুমো আলু দেওয়া ধোঁয়া ওঠা বিরিয়ানি, সঙ্গে চিকেনের লেগ পিস! না পুরোটাই একসঙ্গে, ওই কম্বো অফারে!  পেটুক মনে যদি ছটফটানি শুরু হয়, তাহলে জেনে রাখুন এই সবকিছুই গুছিয়ে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছে সুইগি। রাঁধছে কারা? না সিরাজ, আমিনিয়া, রয়্যাল, নিজাম নয়- যত্ন সহকারে এই বিরিয়ানি বানাচ্ছেন জেলের কয়েদিরা। তাঁদের অপরাধের বহর কতটা জানা নেই, তবে এই রাধুঁনীদের হাতের স্বাদের নাকি তুলনা নেই।

    কেরলের ভিউর সেন্ট্রাল জেলের বন্দিরা বহুদিন ধরেই খাবার বানিয়ে আসছেন। সেই খাবার বেশ জনপ্রিয় এলাকায়। এই প্রথমবার তাঁরা অনলাইনে। তাও আবার কম্বো প্যাকেজে। অনলাইন ফুড ডেলিভারি সংস্থা সুইগির হাত ধরে তাঁদের বানানো বিরিয়ানি-চাপাটি পৌঁছে যাচ্ছে ত্রিসূর পুরসভার ভিউর ওয়ার্ডের নানা জায়গায়। আর শুরুর কয়েকদিনের মধ্যেই নাকি এই বিরিয়ানি খেয়ে মুখ ঘুরে গেছে এলাকার বাসিন্দাদের।

    কী কী রয়েছে কম্বো প্যাকেজে? ৩০০ গ্রাম চালের বিরিয়ানি, সঙ্গে একটা পেল্লায় রোস্টেট চিকেন লেগ পিস। তিনটে মোটা মোটা খাস্তা করে ভাজা চাপাটি, স্যালাড, আচার। শেষ পাতে মিষ্টি মুখের জন্য একটা কাপ কেক এবং সঙ্গে এক বোতল জল। পাত পেড়ে খাওয়ার জন্য সাজিয়ে কলাপাতা দিতেও ভুলছেন না কয়েদি-বন্ধুরা। দামও একেবারে সাধ্যের মধ্যে, মাত্র ১২৭ টাকা।

    “২০১১ সাল থেকে খাবার বানানোর কাজ শুরু করেছেন এই জেলের বন্দিরা। প্রথমটা শুরু হয়েছিল রুটি সেঁকা দিয়ে। তারপর চাপাটি। মানুষজনের চাহিদা দেখে রীতিমতো চাপাটির ব্যবসা শুরু করে দিয়েছি আমরা,” বলেছেন ভিউর সেন্ট্রাল জেলের সুপার নির্মলানন্দন নায়ার। তাঁর কথায়, “এতদিন কাউন্টার থেকেই মিলত খাবার। অনলাইনের প্রস্তাবটা দিয়েছেন জেলের ডিজিপি ঋষিরাজ সিং।”

    এতদিন ভিউর সেন্ট্রাল জেলের খাবার বেচত ফ্রিডম ফুড ফ্যাক্টরি। এ বার তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে সুইগিও। প্রাথমিক ভাবে জেলের ৬ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় এই কম্বো প্যাকেজ পৌঁছে দিচ্ছে সুইগি। তবে চাহিদা বাড়লে, দূরত্ব আরও খানিকটা বাড়বে বলে জানিয়েছে তারা।

    শুধু বিরিয়ানি-চাপাটির কম্বো প্যাক নয়, এই জেলের কয়েদিরা নিরামিষ থালি বানাতেও ওস্তাদ, জানিয়েছেন জেল সুপার। মাছ-মাংস থেকে নিরামিষ কারি, বেকারি আইটেম, সবই রয়েছে তাঁদের তালিকায়।

    ফি দিন প্রায় ২৫ হাজার চাপাটি, ৫০০ প্যাকেট বিরিয়ানি সাপ্লাই হয় জেল থেকে। তৈরি করেন ১০০ জন। তদারকিতে থাকেন জেল কর্তৃপক্ষেরা। তাঁরাই জানিয়েছেন, স্বাদের সঙ্গে কয়েদিদের পরিশ্রম-স্নেহও মিশে রয়েছে খাবারে। তাই এই বিরিয়ানির স্বাদ একটু বেশিই পছন্দ করেছেন এলাকাবাসী। আর এর চাহিদা নাকি বেড়েই চলেছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More