বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৭

‘জানতাম প্রাণের ভয় আছে, তারপরেও শবরীমালায় ঢুকেছি’, কারণ……

দ্য ওয়াল ব্যুরো : জানতেন অনেক বড় বিপদ হতে পারে। প্রাণের ভয়ও ছিল। কিন্তু কোনও ভয়ই তাঁদের আটকাতে পারেনি শতাব্দী প্রাচীন মন্দিরের ‘নিষেধাজ্ঞা’ ভেঙে দিতে। কীসের জোরে সে দিন ঢুকেছিলেন মন্দিরে? মুখ খুললেন বিন্দু আম্মিনি ও কনক দুর্গা।

সংবাদমাধ্যমের সামনে বিন্দু বলেন, “আমি জানতাম আমার প্রাণের ভয় আছে। কিন্তু তারপরেও আমি মন্দিরে যেতে চেয়েছিলাম। কারণ এটা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার।” এই প্রসঙ্গে কনক দুর্গা বলেন, “আমরা যা করেছি তার জন্য আমরা গর্বিত। আমাদের দেখে আরও অনেক ঋতুমতী মহিলা মন্দিরে যাওয়ার কথা ভাববেন। আমরা কিন্তু ওখানে প্রার্থনা করতেই গিয়েছিলাম। যদিও এর মধ্যে লিঙ্গবৈষম্যের ব্যাপারও জড়িয়ে ছিল।”

আরও পড়ুন মাত্র ১০ মাস বয়সে বিয়ে, ১৮ বছরের লড়াই শেষে শিকল ভেঙে ‘স্বাধীন’ হলো ঊর্মা

বুধবার ভোরে হঠাৎ করেই চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় কেরলের শবরীমালা মন্দিরে। কারণ ততক্ষণে বছর ৪০-এর দুই মহিলা প্রবেশ করেছেন মন্দির চত্বরে। যদিও তাঁদের বেরিয়ে যাওয়ার পরেই মন্দিরের দরজা বন্ধ করে পবিত্র করা হয় মন্দির। তারপর ফের খোলে শবরীমালার দরজা। তবে এখানেই থেমে থাকেনি। এরপর দুই মহিলার মন্দিরে প্রবেশ করা নিয়ে প্রতিবাদ নেমে আসে কেরলের রাস্তায়। দক্ষিণপন্থী বিভিন্ন সংগঠন তাঁদের মন্দিরে প্রবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। এর বিরোধিতা করে বামপন্থী কিছু সংগঠন। বিভিন্ন জায়গা থেকে হিংসার খবর আসতে থাকে। মুখ্যমন্ত্রী-সহ বিভিন্ন নেতা-মন্ত্রীদের বাড়ির সামনে শুরু হয় বিক্ষোভ। গণ্ডগোলে যুক্ত থাকায় এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৭০০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এই বিক্ষোভের প্রসঙ্গে বিন্দু বলেন, “মন্দিরে প্রবেশ করা নিয়ে যাঁরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন ও অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, তাঁদের সংখ্যা অনেক কম। অনেক বেশি মানুষ মন্দিরের মধ্যে প্রবেশ করায় তাঁদের প্রশংসা করেছেন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।” এমনকী মন্দিরের বেসক্যাম্পে পৌঁছানোর পর প্রশাসনের তরফেও সাহায্য পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, বুধবার ভোরে একটি তেলের ট্যাঙ্কারে চেপে তাঁরা মন্দিরের বেসক্যাম্পে গিয়ে হাজির হন। তারপর সেখান থেকে সাদা পোশাকের পুলিশের ঘেরাটোপে সবার নজর এড়িয়ে মন্দিরের পাশের একটি দরজা দিয়ে তাঁরা ভেতরে ঢোকেন। যতক্ষণে ব্যাপারটা বাকিদের নজরে এসেছে, ততক্ষণে তাঁদের প্রার্থনা করা হয়ে গিয়েছে। বিন্দু ও কনক দুর্গার পর শুক্রবার ৪৬ বছরের আরেক শ্রীলঙ্কান মহিলা শবরীমালা মন্দিরের ভিতরে প্রবেশ করেছেন।

মন্দিরে প্রবেশ করতে সক্ষম হলেও এখনও ভয় দেখানো হচ্ছে তাঁদের। যাতে বিক্ষোভকারীরা তাঁদের কোনও ক্ষতি করতে না পারে, তাই জন্য পুলিশি সুরক্ষায় তাঁদের গোপন ডেরায় রাখা হয়েছে। বিন্দু ও কনক দুর্গা চান, তাঁদের দেখাদেখি আরও বেশি সংখ্যায় ঋতুমতী মহিলারা যেন শবরীমালায় প্রবেশ করেন। তবেই এই প্রথা ভাঙা যাবে বলে তাঁদের মত।

শতাব্দীপ্রাচীন এই কেরলের শবরীমালা মন্দিরের নিয়ম হলো, ঋতুমতী মহিলারা এই মন্দিরের ভিতর প্রবেশ করতে পারেন না। তাহলে নাকি মন্দিরের পবিত্রতা নষ্ট হয়। এই নিয়মকে চ্যালেঞ্জ করে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছিল। মাসখানেক আগে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, সব বয়সের মহিলারা শবরীমালায় প্রবেশ করতে পারবেন। কিন্তু দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পরেও মন্দিরের সেবায়েত, ভক্ত ও কিছু দক্ষিণপন্থী সংগঠনের জন্য কোনও ঋতুমতী মহিলা শবরীমালায় প্রবেশ করতে পারছিলেন না। বিন্দু ও কনক দুর্গা প্রথম দুই মহিলা, যাঁরা এই অসাধ্য সাধন করেছেন।

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

Shares

Comments are closed.