শুক্রবার, জুলাই ১৯

চার নম্বর বিয়ে করতে যাচ্ছিলেন স্বামী, তার আগেই জুটল বেধড়ক মার, তাও আবার প্রথম বউয়ের হাতে!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘বিয়ে পাগল’ বলে একটা বিশেষণ রয়েছে বটে। তবে এ বার বাস্তবেও দেখা মিলল এমনই এক ব্যক্তির।

চতুর্থ বারের জন্য বিয়ের পিঁড়িতে বসতে গিয়েছিলেন বিহারের বাসিন্দা মুমতাজ। কোর্ট ম্যারেজ করার জন্য পৌঁছে গিয়েছিলেন আদালতেও। কিন্তু সেখানেই ঘটল বিপত্তি। আচমকাই নিজের প্রথম স্ত্রী’র সঙ্গে দেখা হয় যায় মুমতাজের। ব্যাস আর যায় কোথায়! হাতের কাছে প্রাক্তন স্বামীকে পেয়ে এতদিন যত রাগ পুষেছিলেন, সব মিটিয়ে নিলেন ওই মহিলা। কোর্ট চত্বরেই তিনি বেদম মারধর শুরু করেন মুমতাজকে। যাকে বলে একেবারে জুত করে হাতের সুখ করে নেওয়া। সব দেখে হতভম্ব হয়ে যান আদালতে হাজির আশেপাশের সকলেই।

পুলিশ জানিয়েছে, ফেসবুকের মাধ্যমেই এই নতুন মহিলার সঙ্গে আলাপ হয়েছিল মুমতাজের। তারপরেই চতুর্থ বারের জন্য বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কিন্তু আদালত চত্বরে তাঁকে দেখতে পেয়ে যান তাঁর প্রথম স্ত্রী’র পরিবারের লোকজন। দ্রুত খবর পৌঁছে যায় মুমতাজের প্রথম স্ত্রী’র কানেও। এরপরেই শুরু হয় ঝামেলা। একেবারে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন ওই মহিলা। প্রকাশ্যেই শুরু হয় মারধর।

পুলিশ জানিয়েছে, বিহারের আরারিয়া জেলার আদালতে ঘটেছে এই ঘটনা। মুমতাজের প্রথম স্ত্রী খবর পেয়েই চলে আসেন আদালতে। জানতে পারেন চতুর্থ বারের জন্য বিয়ে করতে চলেছেন মুমতাজ। আর সহ্য হয়নি মহিলার। ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে। শেষ পর্যন্ত লোকলজ্জা ভুলে পারিবারিক অশান্তি শুরু করে দেন রাস্তাতেই। সকলের সামনেই মারধর করতে থাকেন মুমতাজকে। মজা দেখতে আশেপাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন অনেকেই। তাঁদের মধ্যেই কেউ কেউ ধোলাই দিতে হাতে লাগান। গোলমালের খবর পেয়েই আদালত চত্বরে আসে পুলিশবাহিনী।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁরা দেখেন যে উন্মত্ত জনতা রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করছে ওই ব্যক্তিকে। পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করেও ইট-পাথর ছুঁড়তে শুরু করে তারা। কোনওরকমে পরিস্থিতি সামাল দেয় পুলিশবাহিনী। এরপর ওই মহিলা এবং মুমতাজকে নিয়ে যাওয়া হয় থানায়। পুলিশ জানিয়েছে, মুমতাজের প্রথম স্ত্রী’র বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই রুজু হয়েছে মামলা।

স্বামী চতুর্থ বারের জন্য বিয়ে করতে যাচ্ছে বলেই কি এত অশান্তি, নাকি মুমতাজকে বেধড়ক মারধরের পিছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তারা জানিয়েছে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে মুমতাজ এবং তাঁর প্রথম স্ত্রীকে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই পরিবারের লোকজনকেও ডেকে পাঠানো হয়েছে থানায়।

Comments are closed.