শুক্রবার, আগস্ট ২৩

গাড়ি বিক্রি কমায় বাড়ছে দুশ্চিন্তা, জানুন ৬ তথ্য

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তবে কি ফের অর্থনৈতিক মন্দা গ্রাস করছে ভারতকে। একে শিল্পে উৎপাদন কমছে। সেই সঙ্গে এ বার গাড়ি বিক্রি হু হু করে কমতে শুরু করে দিল।

সোসাইটি ফর ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স তথা সিআম-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী জুলাই মাসে ভারতের বাজারে প্যাসেঞ্জার কার তথা সাধারণের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য গাড়ি বিক্রি প্রায় ৩১ শতাংশ কমে গিয়েছে। গোটা জুলাই মাসে মাত্র ২ লক্ষ ৭৯০ টি গাড়ি বিক্রি হয়েছে।

স্বাভাবিক ভাবেই গাড়ি উৎপাদন কমিয়েছে প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি। বিভিন্ন সংস্থা মিলিয়ে প্রায় ১৭ শতাংশ উৎপাদন কমে গিয়েছে। দেশের দুই প্রথম সারির গাড়ি নির্মাতা সংস্থা টাটা মোটরস ও মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা শুক্রবার জানিয়েছে, বাজারে চাহিদা যে হারে কমেছে, তাতে তারা কয়েকটি কারখানায় উৎপাদন কমিয়ে দেবে। গাড়ি শিল্পের কর্তারা জানিয়েছেন, অর্থনীতির এই ক্ষেত্রে এতবড় মন্দা খুব কমই এসেছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, বিক্রি কমে যাওয়ার অর্থাৎ হলই অটোমোবাইল শিল্পে কর্মসংস্থানেও এ বার আঘাত লাগার আশঙ্কা রয়েছে। প্রচুর লোক ছাঁটাই হতে পারে। দেশে বিভিন্ন গাড়ি ও মোটর সাইকেল ও তার যন্ত্রাংশ নির্মাতা সংস্থা ও ডিলাররা ইতিমধ্যেই সাড়ে তিন লক্ষ কর্মী ছাঁটাই করেছেন।

দেখে নিন এই বিষয়ে আরও কিছু তথ্য

  • সিআম-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী প্যাসেঞ্জার কার তথা সাধারণের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য গাড়ি উৎপাদনের পরিমাণও এক মাসে ১৬.৫২ শতাংশ কমেছে। গত বছরের জুলাই মাসের হিসেবে এই উৎপাদন কমেছে ২০.০৮ শতাংশ।
  • শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য গাড়ি নয়, ব্যবসায়িক ব্যবহারের জন্য গাড়ি বিক্রির পরিমাণও কমেছে। ব্যবসায়িক গাড়ি উৎপাদনের পরিমাণ কমেছে ৩২.৮৭ শতাংশ। আর ব্যবসায়িক গাড়ি বিক্রির পরিমাণ কমেছে ২৫.৭১ শতাংশ।
  • সিআম-এর ডিরেক্টর জেনারেল বিষ্ণু মাথুর জানিয়েছেন, অটোমোবাইল সেক্টরে ইতিমধ্যেই প্রায় ৩ লক্ষ কর্মী কাজ হারিয়েছেন। উৎপাদন ও বিক্রি, দুইই কমে যাওয়ায় আরও ১০ লক্ষ লোক কাজ হারাতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
  • অবশ্য এর থেকে বেরিয়ে আসারও উপায় আছে বলেই মনে করেন মাথুর। তাঁর বক্তব্য, সরকার যদি অটোমোবাইলের উপর থেকে জিএসটির পরিমাণ ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করে দেয় তাহলে ফের এই শিল্পে জোয়ার আসতে পারে।
  • অটোমোবাইল শিল্পে এই উৎপাদন ও বিক্রি কমে যাওয়ার ফলে প্রভাব পড়েছে শেয়ার মার্কেটেও। নিফটি, এস অ্যান্ড পি বিএসই অটোর শেয়ার ইতিমধ্যেই অনেক পড়েছে।
  • মাঝারি ও ভারী ব্যবসায়িক মালবাহী গাড়ির বিক্রির পরিমাণও কমেছে। মাঝারি গাড়ি ৩৭.৪৭ শতাংশ, ভারী গাড়ি ৩৭.৭৭ শতাংশ ও হালকা গাড়ির বিক্রির পরিমাণ কমেছে ১৮.৭৯ শতাংশ।

শিল্পে উৎপাদন বৃদ্ধি কমে মাত্র ২ শতাংশ

শুধু গাড়ি নয়, সামগ্রিকভাবে শিল্পে উৎপাদন বৃদ্ধির হারই কমছে। শিল্পে উৎপাদন বৃদ্ধির হার মাপা হয় ইনডেক্স অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন নামে এক সূচক দিয়ে। তাতে দেখা যাচ্ছে, গত মে মাসে শিল্পে উৎপাদন বৃদ্ধির হার ছিল ৩.১ শতাংশ। জুন মাসে আরও কমে হয়েছে দুই শতাংশ। ২০১৮ সালের জুন মাসে শিল্পে উৎপাদন বৃদ্ধির হার ছিল সাত শতাংশ। এ বছর শিল্পে বৃদ্ধির হার কয়েক মাস ধরে টানা কমছে। কেন্দ্রীয় সরকারের স্ট্যাটিসটিকস অ্যান্ড প্রোগ্রাম মন্ত্রক থেকে এই তথ্য জানা যায়।

শিল্পে উৎপাদন বৃদ্ধি কমার জন্য দায়ী করা হচ্ছে মূলত খনি ও ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রকে। ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রে জুন মাসে উৎপাদন বেড়েছে মাত্র ১.২ শতাংশ। ২০১৮ সালের জুন মাসে বেড়েছিল ৬.৯ শতাংশ। খনি ক্ষেত্রে জুনে উৎপাদন বেড়েছে মাত্র ১.৬ শতাংশ। গত বছর এইসময় উৎপাদন বৃদ্ধির হার ছিল ৬.৫ শতাংশ।

Comments are closed.