দিল্লির পরে প্লাজমা ব্যাঙ্ক খুলল অসমে, কোভিড সারিয়ে প্রথম প্লাজমা দিলেন একজন ডাক্তার

গত শুক্রবারই প্লাজমা ব্যাঙ্ক চালু করার কথা ঘোষণা করেছিল অসম সরকার। গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজে চলছিল তার প্রস্তুতি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা রোগীদের চিকিৎসা করতে গিয়েই আক্রান্ত হয়েছিলেন। সংক্রমণ সারিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েই প্লাজমা দান করলে ডাক্তার লিখিতেশ। গত ২ জুন দেশের প্রথম প্লাজমা ব্যাঙ্ক খুলেছে দিল্লিতে। এবার সেই পথই অনুসরণ করল অসম। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের গাইডলাইন মেনেই গুয়াহাটিতে রাজ্যের প্রথম প্লাজমা ব্যাঙ্ক চালু হল আজ, রবিবার থেকে।

    গত শুক্রবারই প্লাজমা ব্যাঙ্ক চালু করার কথা ঘোষণা করেছিল অসম সরকার। গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজে চলছিল তার প্রস্তুতি। রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা টুইট করে জানিয়েছেন, “গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার লিখিতেশ প্রথম এগিয়ে এসে প্লাজমা দান করেছেন। তিনিই রাজ্যের প্রথম কনভালেসেন্ট প্লাজমা দাতা।  আমরা গর্বিত।  ডাক্তারের এই উদ্যোগ বাকিদেরও উৎসাহিত করবে। “

    মে মাসে প্রথম করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ে ডাক্তার লিখিতেশের। জানিয়েছেন, সংক্রমণ কমে যাওয়ার পরেও ২৮ দিন কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন তিনি। করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পরেই প্লাজমা দানের সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর শারীরিক পরীক্ষা করে ডাক্তাররা অনুমতি দেওয়ার পরেই প্লাজমা দান করেছেন তিনি।

    প্লাজমা এক্সচেঞ্জের থেকেও কনভালেসেন্ট প্লাজমা থেরাপি করোনা চিকিৎসায় বেশি উপযোগী বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। প্লাজমা এক্সচেঞ্জ পদ্ধতিতে রোগীর শরীরের পুরো রক্তরস বা প্লাজমাই প্রতিস্থাপন করা হয়। এই পদ্ধতি সময়সাপেক্ষ। কনভালেসেন্ট প্লাজমা থেরাপিতে শুধুমাত্র দাতার থেকে নেওয়া প্লাজমাই ট্রান্সপ্লান্ট করা হয় রোগীর শরীরে। এই থেরাপির উদ্দেশ্য হল, সংক্রমণ সারিয়ে উঠেছেন যিনি, তাঁর রক্তরসে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে সেই অ্যান্টিবডি প্লাজমা ট্রান্সপ্লান্টের মাধ্যমে রোগীর শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া। ডাক্তাররা দাবি করেছেন, করোনা চিকিৎসায় এই থেরাপি বিশেষ কার্যকরী প্রমাণিত হয়েছে। করোনা সংক্রমণ সারিয়ে উঠেছেন যে ব্যক্তি তাঁর শরীরে তৈরি হওয়া ভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি আক্রান্তের শরীরে গিয়েও একইভাবে কাজ করেছে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়েছে।

    এই প্লাজমা দানের জন্য কিছু বিধিনিষেধও বেঁধে দিয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ। যেমন, করোনা সংক্রমণ সম্পূর্ণ সেরে যাওয়ার পরে ডাক্তারি পরীক্ষায় চূড়ান্ত পর্যায়ের টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ এলেই প্লাজমা দান করা যাবে। প্রথমে গাইডলাইনে বলা হয়েছিল প্লাজমা দানের আগে দাতাকে আরও ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে, এখন সেটা বাড়িয়ে ২৮ দিন করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে যদি কোনওরকম উপসর্গ বা সিম্পটম্প দেখা না দেয় তাহলেই তাঁকে প্লাজমা দানের জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হবে। ডায়াবেটিসের রোগী যাঁরা ইনসুলিন নেন, অথবা ক্যানসারের রোগী, উচ্চরক্তচাপের সমস্যা রয়েছে বা ক্রনিক লিভার, কিডনির সুখ রয়েছে এমন ব্যক্তির থেকে প্লাজমা নেওয়া যাবে না। তাছাড়াও, দাতা ও গ্রহীতার রক্তের গ্রুপ ও অন্যান্য শারীরিক পরীক্ষার পরেই প্লাজমা দান করা যাবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More