খুনি সন্দেহে অসমে এক মহিলা ও তাঁর ছেলেকে পিটিয়ে মারল উত্তেজিত জনতা, নীরব দর্শক পুলিশ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজের বউ ও তাঁর দু’বছরের শিশুকন্য়াকে খুনের অভিযোগ উঠেছিল স্বামীর বিরুদ্ধে। সঙ্গ দিয়েছিলেন শাশুড়িও। সেই অভিযোগেই ক্ষোভের আগুন জ্বলল অসমের তিনসুকিয়া জেলার শিউপুর চা বাগান সংলগ্ন এলাকায়। উত্তেজিত জনতা পিটিয়ে মারল ওই মহিলা ও তাঁর ছেলেকে। নীরব দর্শক হযে দেখল পুলিশ।

ঘটনা শুক্রবারের। শিউপুর চা বাগানের কর্মী অজয় তান্তি ও তাঁর মা যমুনা তান্তিকে নির্মম ভাবে পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠল ওই চা বাগানেরই একাধিক কর্মী ও এলাকার বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে। গণপিটুনির সেই ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, মারের চোটে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছিল যমুনার। শনিবার সকালে জেলা হাসপাতালে মৃত্যু হয় অজয়ের।

স্থানীয় সূত্রে খবর, নিজের স্ত্রী রাধার উপর অত্যাচার চালাতেন অজয়। ছেলেকে সঙ্গ দিতেন তাঁর মা যমুনাও। গত ৫ জুন হঠাৎই অজয়ের স্ত্রী ও তাঁর বছর দুয়েকের মেয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। থানায় নিখোঁজ ডায়রিও করে পরিবার। তবে মানতে চাননি এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি ছিল, নিজের স্ত্রী ও মেয়েকে খুন করে কোথাও লাশ পাচার করে দিয়েছেন অজয় ও যমুনা। গত শুক্রবার, অজয়দের বাড়িরই সেপটিক ট্যাঙ্কে তাঁর স্ত্রী রাধা ও মেয়ের পচা-গলা দেহ ভাসতে দেখা যায়। এর পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, অজয় ও যমুনাকে বাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে বার করে উত্তেজিত জনতা। লাঠি, লোহার রড নিয়ে শুরু হয় বেধড়ক মার। ভিডিওতে দেখা গেছে, পুরুষদের সঙ্গে লাঠি নিয়ে দু’জনকে বেদম মারছেন মহিলারাও। ঘটনাস্থলে হাজির থেকেও নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় পৃথক ভাবে দু’টি অভিযোগ জমা পড়েছে। নিজেরে মেয়েকে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন রাধার বাবা। অন্যদিকে এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে গণপিটুনি ও হত্যার অভিযোগ দায়ের করেছেন অজয়ের পরিবারের লোকজন। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত বছর ছেলেধরা গুজবের জেরে কার্বি আংলংয়ের গ্রামে পিটিয়ে মারা হয়েছিল দুই যুবক নীলোৎপল দাস ও অভিজিৎ নাথকে। আড়াইশোর বেশি মানুষ জড়িত ছিলেন সেই হত্যাকাণ্ডে। ঘটনার প্রতিবাদে ঝড় বয়ে গিয়েছিল গোটা দেশে। গুয়াহাটি থেকে কার্বি খেদাও, বয়কট কার্বি আংলং— ডাক দিয়ে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপে শুরু হয়েছিল ধিক্কার। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছিল বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More