রবিবার, অক্টোবর ২০

হোমওয়ার্ক দেখতে চাওয়ায় ক্লাসের ভিতরেই শিক্ষিকার পেটে ছুরির কোপ, হরিয়ানার স্কুলে পাকড়াও ছাত্র

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রোজকার মতোই হোমওয়ার্ক দেখতে চেয়েছিলেন শিক্ষিকা। তাতেই মাথা গরম হয়ে গিয়েছিল ছাত্রের। হোমওয়ার্ক না করে আনায়, দু’চার কথা শুনতেও হয়েছিল তাকে। সেই রাগে ব্যাগ থেকে ছুরি বার করে এলোপাথাড়ি কোপ বসিয়ে দেয় শিক্ষিকার পেটে। ঘটনাকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে হরিয়ানার একটি বেসরকারি স্কুলে।

সোনিপতের ভিগান গ্রামের ওই স্কুলে এই ঘটনা ঘটে সোমবার। মুকেশ কুমারী নামে ৪৫ বছরের ওই শিক্ষিকার জখম গুরুতর। তাঁর চিকিৎসা চলছে। পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, একাদশ শ্রেণির ওই ছাত্র কোনও দিনই হোমওয়ার্ক করে আনত না। তাই তিনি বকাবকি করতেন। ঘটনার দিন বাকিদের সঙ্গে তাঁকেও হোমওয়ার্ক দেখাতে বলেন তিনি। প্রথমে ছাত্রটি চুপ করে ছিল। পরে বকাবকি করায় আচমকাই ব্যাগ থেকে ছুরি বার করে কোপ বসিয়ে দেয় তাঁর পেটে। পর পর তিন বার আঘাত করে তাঁকে।  রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি লুটিয়ে পড়েন।

শিক্ষিকাকে ছুরি মারার পর অভিযুক্ত ছাত্র দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে।  কিন্তু স্কুলের অপর শিক্ষকরা তাকে ধরে ফেলে।  আহত মুকেশ কুমারীকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় হাসপাতালে। পরে তাঁকে খানপুরের পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ইনস্টিটিউটে (পিজিআই) স্থানান্তরিত করা হয়।

স্কুলের প্রিন্সিপাল নীরজ ত্যাগী বলেছেন, ছাত্রটিকে স্কুলেই আটকে রাখা হয়েছে। পুলিশ তাকে জেরা করছে। বাকি ছাত্রদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা চলছে। স্কুলের অপর এক শিক্ষিকার কথায়, ওই ছাত্রের আচরণ সম্পর্কে অনেকবারই অভিযোগ করেছিলেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। ক্লাসে কখনওই মনোযোগ দিত না সে। শিক্ষকরা বকলে তাঁদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করত। মুকেশ কুমারী কড়া ধাঁচের শিক্ষিকা ছিলেন বলে, তাঁর উপরেও ছাত্রটির রাগ ছিল। তবে সে যে ব্যাগে করে ছুরি নিয়ে ক্লাসে আসবে, সেটা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি কেউই।

সোনিপতের ডেপুটি সুপারিন্টেডেন্ট অফ পুলিশ (ডিএসপি) বীরেন্দ্র রাও জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ছাত্রটির বয়স ১৬ বছর।  তাকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

Comments are closed.