পাইলটকে কটাক্ষ গেহলটের, সুন্দর চেহারা আর ভাল ইংরেজি জানলেই হয় না, আদর্শ থাকাটাও জরুরি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: চারদিনের উপর হয়ে গিয়েছে রাজস্থানের কংগ্রেস সরকার নিয়ে নাটক অব্যাহত। একদিকে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট দাবি করেছেন, শচীন পাইলট তাঁর সরকারের কোনও ক্ষতি করতে পারেনি। সরকার সুরক্ষিত রয়েছে। অন্যদিকে শচীন পাইলট ও তাঁর অনুগামীদের দাবি, রাজস্থানে সরকার ফেলার ক্ষমতা তাঁদের রয়েছে। এই চাপানউতোরের মধ্যেই এবার শচীন পাইলটকে কঠাক্ষ করলেন অশোক গেহলট। বললেন, দেখতে সুন্দর হলে আর ভাল ইংরেজি জানলেই হয় না। আদর্শ থাকাটাও জরুরি।

    বুধবার সংবাদমাধ্যমের সামনে গেহলট বলেন, “ভাল ইংরেজি বললে, ভাল ভাল মন্তব্য করলে আর দেখতে সুন্দর হলেই হয় না। মনের মধ্যে দেশের সম্পর্কে কী ধারণা রয়েছে, কোন আদর্শে বিশ্বাসী, নিজের কাজের প্রতি কতটা উদ্যম রয়েছে সবকিছুই খুব গুরুত্বপূর্ণ।”

    এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীর কথা শুনে মনে হচ্ছিল, মরু রাজ্যের এই লড়াইয়ে তিনি বাজি জিতে গিয়েছেন। আগের দিনের বৈঠকেই যেন ঠিক হয়ে গিয়েছে তাঁর সরকারের কোনও ভয় নেই। সেইসঙ্গে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পাইলটকে বহিষ্কার করেছে কংগ্রেস। এদিন গেহলট বলেন, “একটা সোনার ছুরি খাওয়ার জন্য ব্যবহার করা যায় না। আমার কথা কি আপনারা বুঝতে পেরেছেন।”

    গেহলটের কথা থেকেই পরিষ্কার তিনি বলতে চেয়েছেন তাঁর তুলনায় পাইলটদের রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি অনেক কম। কারও নাম না নিয়ে তিনি বলেছেন, রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য যে পরিশ্রম তাঁকে করতে হয়েছে তার সিকিভাগও করতে হয়নি এখনকার রাজনীতিবিদদের। গেহলেট বলেন, “আমি ৪০ বছর ধরে রাজনীতিতে আছি। আমি নতুন প্রজন্মকে ভালবাসি। আমাদের ভবিষ্যৎ তাঁরাই। আমাদের সময়ে যেভাবে পরিশ্রম করে রাজ্যের সভাপতি বা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হতে হত, এখনকার প্রজন্মকে সেই পরিশ্রম করতে হলে তবেই তারা সবটা বুঝতে পারবে।”

    প্রায় মাস খানেক ধরে অশোক গেহলট অভিযোগ করে আসছেন রাজস্থানে কংগ্রেসের একাধিক বিধায়ককে টাকা ও অন্যান্য সুযোগ- সুবিধার লোভ দেখিয়ে কিনতে চাইছে বিজেপি। শনিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে গেহলেট জানান, কংগ্রেসের অনেক বিধায়ককে ১৫ কোটি টাকা করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিজেপি। এই ঘটনার পরদিনই দিল্লি চলে আসেন শচীন পাইলট ও তাঁর অনুগামীরা। রাজস্থানের সরকার ফেলে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেখান পাইলট। তারপরেই রবিবার গভীর রাত আড়াইটেতে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে সরকার সুরক্ষিত আছে বলে ঘোষণা করে কংগ্রেস।

    এদিন গেহলট ফের বলেন, “জয়পুরে ঘোড়া কেনাবেচা হচ্ছিল। আমাদের কাছে প্রমাণ আছে। আমাদের বিধায়কদের ১০ দিন হোটেলে রাখতে হয়েছিল। যদি আমরা তা না করতাম, তাহলে মানেসরে যা হয়েছে সেটাই জয়পুরে হত। কিন্তু এখন আমার সঙ্গে ১০৬ বিধায়কের সমর্থন রয়েছে।” অর্থাৎ পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেই জানিয়েছেন তিনি।

    শচীন পাইলট অবশ্য বুধবারেও বলেছেন, তিনি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন না। পাইলট বলেন, “আমি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছি না। আমি সবাইকে পরিষ্কার করে বলতে চাই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা আমার নেই। গান্ধী পরিবারের চোখে আমার ভাবমূর্তি খারাপ করার জন্যই বিজেপি এটা করছে।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More