শুক্রবার, এপ্রিল ২৬

টোকাটুকি করা যাবে না! প্রথম দু’দিনে বোর্ডের পরীক্ষাই দিতে এল না ৪০ হাজার ছাত্রছাত্রী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বোর্ডের পরীক্ষায় একেবারেই টুকলি করা যাবে না, গণ-টোকাটুকি রুখতে আগে থেকেই কড়া ব্যবস্থা নিয়েছিল উত্তরপ্রদেশ বোর্ড। সেই ভয়েতে মাধ্যমিক পরীক্ষাই দিতে এল না ৪০,৩৯২ জন ছাত্রছাত্রী।

গত বৃহস্পতিবার থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে উত্তরপ্রদেশে। শুক্রবার সন্ধেয় উত্তরপ্রদেশ মাধ্যমিক শিক্ষা পরিষদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার প্রথম দিনেই স্কুলে গড়হাজির ছিল প্রায় ২০,৬৭৪ জন ছাত্রছাত্রী। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মিলিয়ে সেই সংখ্যাটা ৪০,৩৯২ জনে দাঁড়িয়েছে। বোর্ডের সেক্রেটারি নীনা শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, ঠিক কী কারণে এত সংখ্যক ছাত্রছাত্রী পরীক্ষা দিতে আসেনি সেই বিষয়টা এখনই স্পষ্ট নয়। তবে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, পরীক্ষায় নকল করা আটকাতে এবং ভুয়ো পরীক্ষার্থীদের চিহ্নিত করতে বোর্ডের তরফ থেকে যে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তারই জেরে এই বিপুল সংখ্যক পড়ুয়া পরীক্ষা দিতে আসেনি।

তাঁর দাবি, আগের ঘটনার কথা মাথায় রেখেই এ বছর বোর্ড পরীক্ষায় গণ-টোকাটুকি রুখতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলে পরীক্ষায় নকল অনেকটাই ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। গত বছরও ১০ লক্ষের বেশি ছাত্রছাত্রী বোর্ড পরীক্ষা দিতে আসেনি।

শনিবার ভিডিও কলের মাধ্যমে সমস্ত জেলার জেলাশাসক ও স্কুল পরিদর্শকদের গণ-টোকাটুকি রুখতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এর আগে বহুবার বোর্ডের পরীক্ষায় নকল করতে গিয়ে ধরা পড়ে পড়ুয়ারা। বহিষ্কার করা হয় হাজারের বেশি ছাত্রছাত্রীকে। শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।  কী ভাবে ঘুষ নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষায় উতরে দেওয়া হয়েছে সেই ঘটনাও প্রকাশ্যে চলে আসে। শিক্ষাব্যবস্থার এমন হাল নিয়ে ঘরে বাইরে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হয় রাজ্য সরকারকে। তাই এ বছর আগেভাগেই ব্যবস্থা নিয়েছিল বোর্ড ও বিভিন্ন স্কুলের কর্তৃপক্ষেরা।

জেলা স্কুল পরিদর্শক মুকেশ কুমার সিংহের কথায়, “শুক্রবার কৃষিবিদ্যার পরীক্ষা ছিল। যে সমস্ত স্কুলে পরীক্ষার সিট পড়েছিল, সেখানে একাধিক শিক্ষক ক্লাসঘরগুলিতে তদারকি করেছেন। পরীক্ষা চলার সময় বহিরাগতরা যাতে স্কুলের ভিতর ঢুকতে না পারে সেই জন্য কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে মেলা হয়েছিল স্কুলগুলিকে। নকল আটকাতে আগামী দিনেও এমনই ব্যবস্থা রাখা হবে। “

Shares

Comments are closed.