আহমেদাবাদের হাসপাতাল ‘অন্ধকূপ’, করোনায় মৃত্যু ৩৫০-র বেশি, ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুজরাতের মধ্যে আহমেদাবাদে করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সবথেকে বেশি। আর এই আহমেদাবাদের সিভিল হাসপাতালেই শুধুমাত্র ৩৫০-র বেশি করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। গোটা রাজ্যে কোনও একটি নির্দিষ্ট হাসপাতালে মৃত্যুর ঘটনা এখানেই সবথেকে বেশি। তারপরে এই হাসপাতালকে অন্ধুকূপের সঙ্গে তুলনা করে ভর্ৎসনা করল গুজরাত হাইকোর্ট। আদালতের বক্তব্য, গরিব ও অসহায় মানুষগুলির কাছে এই হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোথাও যাওয়ার সম্বল নেই। আর হাসপাতালের অবস্থা হয়েছে অন্ধুকূপের মতো।

    গুজরাত হাইকোর্টের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছে, “আমরা আগেই জানিয়েছি সিভিল হাসপাতাল মানে সেখানে গরিব মানুষের চিকিৎসা হবে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত দেখে মনে হচ্ছে এই হাসপাতাল একটা অন্ধকূপ। গরিব ও অসহায় মানুষদের দুর্ভাগ্য যে তাঁদের আর কোথাও যাওয়ার সম্বল নেই।”

    হাইকোর্টের বিচারপতিদের বেঞ্চ জানিয়েছে, “আমরা যদি সপ্তাহের হিসেব ধরি তাহলে গত আট সপ্তাহ ধরে এই হাসপাতালেই সবথেকে বেশি করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। বেশিরভাগ রোগীই চারদিন বা তারও বেশি চিকিৎসা পাওয়ার পরে মারা যাচ্ছেন। এতেই বোঝা যাচ্ছে, হাসপাতালের চিকিতসাতেই গলদ রয়েছে।”

    নিজেদের নির্দেশিকায় গুজরাতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী নীতিনভাই রতিলাল পটেলকেও ভর্ৎসনা করেছে আদালত। এই সংক্রান্ত একটি রিপোর্টও সরকারের কাছ থেকে চাওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট জানিয়েছে, “আমরা খুব দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি আহমেদাবাদের সিভিল হাসপাতালের হাল খুবই খারাপ। সাধারণত গরিব মানুষরাই এই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান। তার মানে এই নয়, মানুষের প্রাণের কোনও দাম নেই। প্রতিটি মানুষের জীবনের দাম খুব মূল্যবান। এভাবে সিভিল হাসপাতালের মতো জায়গায় সেই প্রাণ হারাতে দেওয়া চলবে না।”

    আদালত আরও জানিয়েছে, “আমরা জানি না, রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কতবার এই সিভিল হাসপাতালে গিয়েছেন, কিংবা সেখানকার পরিষেবার দিকে নজর দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে রোগী, ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরা কী সমস্যার মধ্যে রয়েছেন, সেই বিষয়ে কি গুজরাতের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কোনও নজর রয়েছে?”

    আহমেদাদের এই সিভিল হাসপাতালকে এশিয়ার মধ্যে সবথেকে বড় সিভিল হাসপাতাল বলা হয়। এই হাসপাতালে শুধুমাত্র করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য ১২০০ বেড রয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ রোগীকেই জেনারেল ওয়ার্ডে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই বিষয়েও আদালত জানিয়েছে, “জানা গিয়েছে, কোভিড ১৯ রোগীদেরও এখানে জেনারেল ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছে। এদিকে বেশিরভাগ ঘরই ফাঁকা রয়েছে। অথচ কৃত্রিমভাবে জায়গার অভাব তৈরি করা হয়েছে।”

    কয়েক দিন আগে আহমেদাবাদের কংগ্রেস বিধায়ক গিয়াসুদ্দিন শেখ সিভিল হাসপাতালে এই মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের হস্তক্ষেপের দাবি করেন। তারপরেই এই বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয় গুজরাত হাইকোর্টে। সেই সংক্রান্ত শুনানিতেই এই বক্তব্য জানিয়েছে আদালত।

    গুজরাতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ হাজারের বেশি। তারমধ্যে শুধুমাত্র আহমেদাবাদেই আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। রাজ্যের ৮২৯ জন মৃতের মধ্যে এই শহরেই ৬৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More