শনিবার, জুলাই ২০

আবারও অনন্তনাগ, জঙ্গির গুলিতে ঝাঁঝরা আর্মি মেজর, জখম তিন জওয়ান, চলছে গুলির লড়াই

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের জঙ্গি নাশকতায় অশান্ত হয়ে উঠল উপত্যকা। আবারও জঙ্গিদের গুলি চলল দক্ষিণ কাশ্মীরের সেই অনন্তনাগে। গত ১২ জুন এই অনন্তনাগেই জঙ্গিদের গুলিতে প্রাণ গিয়েছিল দুই সেনা অফিসার-সহ পাঁচ সিআরপিএফ জওয়ানের। সোমবার জঙ্গিদের সঙ্গে দফায় দফায় গুলি বিনিময় হলো সেনাবাহিনীর। সংঘর্ষে শহিদ হলেন আর্মি মেজর। গুরুতর জখম আরও তিন জওয়ান। সেনা সূত্রে খবর, জঙ্গিদের সঙ্গে গুলি বিনিময় চলছে। এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিশাল সেনাবাহিনী।

অনন্তনাগের আচাবল এলাকা গুলির শুরু হয় সোমবার দুপুর নাগাদ। জঙ্গিদের গোপন ডেরার খোঁজে এলাকা ঘিরে ফেলে সেনা-পুলিশ যৌথ বাহিনী। শুরু হয় এনকাউন্টার। নিজেদের গোপন আস্তানা থেকে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে সন্ত্রাসবাদীরা। পাল্টা জবাব দেয় সেনারাও। সূত্রের খবর, জঙ্গিদের গুলিতে মারাত্মক ভাবে জখম হন আর্মি মেজর। সেনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় তাঁর। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন আরও তিন জওয়ান।

পুলওয়ামায় সেনা কনভয়ে আত্মঘাতী জইশ হামলার পর থেকেই লাগাতার এনকাউন্টার চলছে উপত্যকায়। চলতি মাসেই পুলওয়ামা থেকে সোপিয়ান, সোপোর, অনন্তনাগে একাধিক বার জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াই লড়েছে। দিন কয়েক আগে অবন্তীপোরায় সেনার গুলিতে খতম হয় দুই জঙ্গি। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, গোটা উপত্যকায় শান্তি ভঙ্গ করার জন্য দফায় দফায় নাশকতা চালানোর চেষ্টা করছে জঙ্গিরা। জইশ, হিজবুলের তো রয়েছেই, পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গি সংগঠন থেকেও মদত আসছে উপত্যকার জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির কাছে। এমনকি পুলওয়ামাতে ফের বড়সড় নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে জঙ্গিদের।

ইদের দিন সকালে বাড়িতে ঢুকে এক মহিলাকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেয় জঙ্গিরা। জখম হন আরও এক গ্রামবাসী। দিন কয়েক আগে পুলওয়ামারই লসিপোরার পঞ্জরন গ্রামে অভিযান চালায় সেনার ৪৪ আরআর কম্যান্ডো, স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ এবং সিআরপিএফ জওয়ানেরা। নিকেশ হয় চার জইশ জঙ্গি। তার পর থেক পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রনে এলেও ফের ১২ জুন বড়সড় জঙ্গি নাশকতা হয় অনন্তনাগে। কেপি রোডে জেনারেল বাস স্ট্যান্ডের কাছে একটি নাকায় মোতায়েন সিআরপিএফ ও পুলিশের যৌথ দলের উপরে হামলা চালায় জঙ্গিরা। প্রথমে জওয়ানদের লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছোড়া হয়, তারপর শুরু হয় গুলির লড়াই। সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত হন দুই অফিসার-সহ পাঁচ জন সিআরপিএফ জওয়ান। জখম হন  অনন্তনাগ সদর থানার স্টেশন হাউস অফিসার (ওসি) ইরশাদ আহমেদ-সহ তিন জওয়ান ও এক স্থানীয় মহিলা। নিহত হয় এক জঙ্গিও। এই হামলার দায় স্বীকার করে মুস্তাক আহমেদ জ়ারগারের জঙ্গি সংগঠন আল উমর মুজাহিদিন। যদিও গোয়েন্দাদের ধারণা, আল উমর মুজাহিদিনকে সামনে রেখে এই নাশকতার কলকাঠি নেড়েছে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ।

Comments are closed.