মানচিত্র নিয়ে বিতর্কের মাঝেই নেপাল সফরে যাচ্ছেন সেনাপ্রধান

৮০০

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী মাসে তিনদিনের নেপাল সফরে যাচ্ছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান এম এম নারাভানে। ৪ নভেম্বর নেপালে যাচ্ছেন তিনি। নেপালের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের যে সমস্যা তৈরি হয়েছে সেই আবহে এই নেপাল সফর অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ হতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

সূত্রের খবর, নেপালে গিয়ে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তা থেকে শুরু করে সেনার উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে কথা বলার কথা সেনাপ্রধান এম এম নারাভানের। এমনকি নেপালের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল পূর্ণ চন্দ্র থাপার সঙ্গে ১৮০০ কিলোমিটার লম্বা সীমান্ত নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা সেনাপ্রধানের।

সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, “আগামী ৪ থেকে ৬ নভেম্বর নেপাল সফরে যাওয়ার কথা সেনাবাহিনীর প্রধান এম এম নারাভানের। সীমান্ত থেকে শুরু করে সুরক্ষা আরও অন্যান্য বিষয়ে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক ভাল করার উদ্দেশ্য নিয়েই সেখানে যাচ্ছেন তিনি।”

সূত্রের খবর, ১৯৫০ সাল থেকে চলে আসা প্রথা অনুযায়ী জেনারেল নারাভানেকে ‘জেনারেল অফ নেপাল আর্মির’ সম্মান দেওয়া হবে। কাঠমাণ্ডুতে একটি অনুষ্ঠানে নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারি এই সম্মান দেবেন। নেপাল সেনাবাহিনীর প্রধানকেও ভারতের তরফে ‘জেনারেল অফ ইন্ডিয়ান আর্মির’ সম্মান দেওয়া হবে।

গত মে মাসে নেপালের তরফে যে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে তাতে উত্তরাখণ্ডকে নেপালের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। ভারতের তরফে এই মানচিত্রের বিরোধিতা করা হয়েছে। শুরু হয়েছে বিতর্কও।

এর মধ্যে সেনাপ্রধানের নেপাল সফর খুবই ইঙ্গিতবহ। কারণ, মায়ানমার, মলদ্বীপ, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল করার চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি। সেই কাজই এবার নেপালের সঙ্গেও করতে চাইছে তারা। এভাবে চিনের বিরুদ্ধে একটা জোট তৈরি করার চেষ্টা চালাচ্ছে ভারত। এই মাসেই মায়ানমারে গিয়েছিলেন সেনাপ্রধান। সেখানে বিদেশসচিব হর্ষ বর্ধন শৃংলাও ছিলেন। সেখানে মায়ানমারকে একটি সাবমেরিনও পাঠিয়েছে ভারত। মায়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে ভারত।

পরিবহণের জন্য ভারতের উপর অনেকাংশেই নির্ভর করে নেপাল। এমনকি সমুদ্রকে ব্যবহার করতে গেলেও ভারতের মধ্যে দিয়েই যেতে হয় তাদের। ভারতের কাছ থেকে সবথেকে বেশি সামগ্রী আমদানি করে নেপাল। তারপরে চিনের কাছে নির্ভরশীল তারা।

সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, কূটনৈতিক মহলের ধারণা সাম্প্রতিক সময়ে নেপালের এলাকা ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে তাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে চিন। যদিও কাঠমাণ্ডুর তরফে এই সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই ৮ মে উত্তরাখণ্ডে ধারচুলার সঙ্গে লিপুলেখ পাসের মধ্যে সংযোগকারী ৮০ কিলোমিটার লম্বা রাস্তার উদ্বোধন করেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

ভারতের এই রাস্তা উদ্বোধনের বিরোধিতা করা হয়েছে নেপালের তরফে। তারপরেই নেপালের তরফে একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করা হয়। সেখানে লিপুলেখ, কালাপানি ও লিম্পিয়াধুরাকে নিজেদের অংশ হিসেবে দেখায় নেপাল। এমনকি জুন মাসে নেপালের পার্লামেন্ট সেই মানচিত্রকে স্বীকৃতিও দেয়।

যদিও যেই সময় সেনাপ্রধান জেনারেল নারাভানে জানান, ভারতের এই রাস্তার বিরোধিতা নেপাল অন্য কোনও দেশের প্রভাবে করছে। নেপালের উপর চাপ দেওয়া হচ্ছে। ভারতের তরফেও একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করা হয়। সেখানে এই অংশগুলিকে ভারতের হিসেবে দেখানো হয়। এই আবহের মধ্যেই এবার সেনাপ্রধানের এই নেপাল সফরের একটা অন্যরকমের গুরুত্ব রয়েছে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More