আমরা শান্তি চাই, তবে পাকিস্তান যুদ্ধ চাইলে ভারতীয় সেনা তৈরি: বিপিন রাওয়াত

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো : কাশ্মীরের উপর থেকে স্পেশ্যাল স্ট্যাটাস তুলে নেওয়ার বিষয়ে ফের মুখ খুললেন ভারতের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত। যে সময়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তাকে একদম ঠিক বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। বিপিন রাওয়াত জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের মানুষ ও জঙ্গিদের কাছে একটা শান্তির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য।

    একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেনারেল রাওয়াত বলেন, “যে সময়ে কাশ্মীরের উপর থেকে স্পেশ্যাল স্ট্যাটাস তুলে নেওয়া হয় সেটা একদম ঠিক ছিল। কারণ আন্তর্জাতিক মহলে ক্রমশ কোণঠাসা হতে থাকা পাকিস্তান তখন যথেষ্ট চাপের মধ্যে ছিল। তাই কাশ্মীরে যে কোনও মুহূর্তে ফের একটা অশান্তি শুরু হতে পারত। আমি সরকারকে জানিয়েছিলাম, এই সিদ্ধান্তের পর উপত্যকার শান্তি বজায় রাখতে সেনা সরকারকে সাহায্য করবে।”

    জম্মু-কাশ্মীরে হিংসার পরিবেশ ছেড়ে শান্তির পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পক্ষেও সওয়াল করেছেন জেনারেল রাওয়াত। তিনি বলেন, “৩০ বছর ধরে ওখানে হিংসার পরিবেশ রয়েছে। আমি আবেদন করছি, রাগ-হিংসা সরিয়ে রেখে শান্তির পরিবেশ তৈরি করুন। আমরা জঙ্গিদের পিছনে দৌড়ই না। কারণ আমরা চাই না গুলির লড়াই উপত্যকার পরিবেশ নষ্ট করুক। আমরাও চাই না, সবসময় তল্লাশি অভিযান চালাতে। কিন্তু এক হাতে তালি বাজে না। তাই নতুন প্রজন্মের কথা ভেবে বন্দুক নামিয়ে রাখুন।”

    উপত্যকায় শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার জন্য কিছু ক্ষমতালোভী রাজনৈতিক ব্যক্তিকেই দায়ী করেছেন সেনা প্রধান। তাঁর দাবি, এই সব লোকেরা নিজেদের স্বার্থের কথা ভেবে উপত্যকায় শান্তি ফিরতে দিচ্ছে না। তারাই মানুষকে উস্কাচ্ছে, হিংসায় মদত দিচ্ছে। উপত্যকার মানুষকে ভুল বোঝানো হচ্ছে বলেই দাবি করেছেন তিনি।

    অবশ্য শান্তি চাইলেও ভারতীয় সেনা যে সবরকম পরিস্থিতির জন্য তৈরি তা জানাতে ভোলেননি বিপিন রাওয়াত। তিনি বলেছেন, “পাকিস্তান যা চায়, তার জন্যই আমি তৈরি। যদি তারা ব্যাট ( বর্ডার অ্যাকশন টিম ) অ্যাকশন চায়, তার জন্য আমি তৈরি। যদি পাকিস্তান যুদ্ধ চায়, তাহলেও ভারতীয় সেনা তৈরি।”

    তবে আন্তর্জাতিক মহলে যে পাকিস্তানের মুখোশ খুলে গেছে, তাও এই সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট বলেন সেনা প্রধান। তিনি জানান, “গোটা বিশ্ব জানে, ১৫ দিনে জঙ্গি তৈরি হয় না। গোটা বিশ্ব জানে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে কোথায় কোথায় জঙ্গি শিবির আছে। প্রতিদিন ভারতে অনুপ্রবেশের জন্য সীমান্তের ওপার থেকে চেষ্টা চালাচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ জঙ্গি। কিন্তু সীমান্তে মোতায়েন জওয়ানরা প্রতিদিন তাদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করছে। কিন্তু এটা কতদিন চলবে? এর ফলে সবথেকে বেশি খেসারত দিতে হচ্ছে কাশ্মীরের জনগণকেই। তাঁদের এটা বুঝতে হবে। তবেই উপত্যকায় শান্তি কায়েম হবে।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More