কমিউনিস্টদের ‘মিরাকেল শিশু’কেই কেরলে ঘুরে দাঁড়ানোর মুখ করল গেরুয়া শিবির

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনেক চেষ্টা করেও কেরলে দাঁত ফোটাতে পারেনি গেরুয়া শিবির। ইএমএস নাম্বুদিরিপাদের রাজ্যে এখনও পতপত করে উড়ছে লাল পতাকা। শবরীমালা ইস্যুকে ব্যবহার করেও দক্ষিণের এই রাজ্যে মেরুকরণকে তীব্র জায়গায় নিয়ে যেতে পারেননি নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহরা। দেশের একমাত্র বাম রাজ্য কেরল। এ বার সেই রাজ্যে মিরাকেল ঘটাতে একদা কমিউনিস্টদের ‘মিরাকেল শিশু’কে রাজ্য সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে তুলে আনল বিজেপি।

    এপি আবদুল্লাকুট্টি। সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই থেকে উত্থান তাঁর। ছিলেন পার্টির রাজ্য কমিটিতেও। কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা ভিএস অচ্যুদানন্দনের অত্যন্ত স্নেহভাজন কুট্টিকে সিপিএম বহিষ্কার করেছে অনেক দিন হয়ে গেল। তারপর কংগ্রেসেও যোগ দিয়েছিলেন। কংগ্রেসের টিকিটে হয়েছিলেন বিধায়কও। এ বার তাঁকেই বিজেপির কেরল রাজ্য কমিটির সহ-সভাপতি করল গেরুয়া শিবির।

    সেটা ১৯৯৯ সাল। কান্নুর জেলাকে তখন সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি হিসেবেই জানে মালায়লি জনতা। কিন্তু কান্নুর আসন দখলে কংগ্রেসের। ততদিনে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে ঝড় তুলেছেন কুট্টি। তৎকালীন সর্বভারতীয় এসএফআই-এর এক বাঙালি নেতার কথায়, “কুট্টি তখন হিরো। কেরলে সর্বভারতীয় একটি কনভেনশনে গিয়ে দেখেছিলাম ওঁর কী জনপ্রিয়তা!” সেই জনপ্রিয় কুট্টিকে কান্নুর পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব দিয়েছিল কেরল সিপিএম। ঠিক যেমন বাংলায় ২০০৪-এ দমদম পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব পড়েছিল সুভাষ চক্রবর্তীর কাঁধে। কুট্টি দায়িত্ব পেয়েছেন শুনে কংগ্রেসের এক বর্ষীয়ান নেতা বিদ্রুপ করে বলেছিলেন, “ও তো কুট্টি (শিশু)!”

    সেই ‘শিশু’ই মিরাকেল করেছিলেন। সেই প্রথম কান্নুর লোকসভা জিতেছিল সিপিএম। নেতৃত্বে কুট্টি। তারপর ২০০৪ সালে আরও মার্জিন বাড়িয়ে নেয় ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)। কিন্তু এ হেন কুট্টির সঙ্গে দলের সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে ২০০৬-এর মাঝামাঝি সময় থেকে। ২০০৮ সালে কুট্টিকে বহিষ্কার করে সিপিএম। অচ্যুদানন্দন পাশে থাকলেও পিনারাই বিজয়নদের দাপটে রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য চলে যান কুট্টির বিরুদ্ধে।

    তারপর কংগ্রেসে যান এই বাম নেতা। ২০১১ তে জিতে হন বিধায়ক। কিন্তু ১৬-র ভোটে প্রথম সংসদীয় রাজনীতিতে হারের মুখ দেখতে হয় তাঁকে। এরপর সাবেক দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ান নিজেকে জাতীয়তাবাদী মুসলিম বলা এই নেতা। গুজরাত মডেলের প্রশংসা করে অচিরেই চলে আসেন বিজেপি-র কাছে। গেরুয়া শিবির দলে নিয়ে নেয় তাঁকে। বুধবার কুট্টির সহ-সভাপতি হওয়ার কথা জানিয়েছেন বিজেপির কার্যকরী সভাপতি জেপি নাড্ডা। দেশের একমাত্র লালদুর্গ কেরলে গেরুয়া ঝান্ডা তুলতে একদা কমিউনিস্টদের ‘মিরাকেল শিশু’ কুট্টির উপরেই ভরসা রাখল কেন্দ্রের শাসক দল। এখন দেখার কুট্টি আবার মিরাকেল দেখাতে পারেন কি না!

    পড়ুন, দ্য ওয়ালের পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More