বুধবার, অক্টোবর ১৬

গণপিটুনি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি, এ বার খুনের হুমকি অনুরাগ কাশ্যপকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের ভিতরে ক্রমাগত ঘটে চলা গণপ্রহারে মৃত্যু, আক্রমণের স্লোগান হিসেবে ‘জয় শ্রীরাম’–এর ব্যবহার সহ একাধিক ঘটনাতে দেশের ৪৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি বুধবার খোলা চিঠি পাঠিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে। তার পরেই খুনের হুমকি পান নাট্যকার ও অভিনেতা কৌশিক সেন। এ বার সেই একই কারণে খুনের হুমকি দেওয়া হলো বলিউডের নামকরা পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপকে।

এক সর্বভারতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এক ব্যক্তি নিজের টুইটারে লিখেছেন, তিনি সম্প্রতি নিজের রাইফেল ও শটগান পরিষ্কার করেছেন। অনুরাগের সঙ্গে সামনা-সামনি দেখা করতে চান তিনি। অর্থাৎ প্রত্যক্ষ না হলেও পরোক্ষভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে তাঁকে। এ ব্যাপারে সেই টুইটার ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে মুম্বই পুলিশে অভিযোগ করেছেন অনুরাগ। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে বলে জানা গিয়েছে।

বুধবার চিঠিতে নিজেদের ”শান্তিপ্রিয় ও গর্বিত ভারতবাসী” হিসেবে পরিচিতি দিয়ে ৪৯ জন লিখেছিলেন, ”প্রিয় প্রধানমন্ত্রী… মুসলিম, দলিত ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের গণপ্রহারে মৃত্যুর ঘটনাবলী এই মুহূর্তে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। এনসিআরবি (ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো)–র রিপোর্ট থেকে আমরা জানতে পেরেছি ২০১৬ সালে ৮৪০ জন দলিতের ওপর আক্রমণ নেমে এসেছে। এবং একই সঙ্গে হ্রাস পেয়েছে শাস্তির অনুপাত। ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ধর্মকে কেন্দ্র করে ঘৃণাবশত আক্রমণের ২৫৪টি ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহতের সংখ্যা ৫৭৯।”

‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিটি একটি প্ররোচনামূলক ‘ওয়ার ক্রাই’ বা রণহুঙ্কারে পরিণত হওয়াই যে বর্তমানে আইন শৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার অন্যতম কারণ সেই বিষয়টির উল্লেখ করে উদ্বিগ্ন স্বাক্ষরকারীরা জানান, ধর্মের নামে এমন অনৈতিক আচরণ মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে মনে করিয়ে দেয়। ”দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের কাছে রাম একটি পবিত্র নাম। দেশের সর্বোচ্চ আধিকারিক হিসেবে আপনার উচিৎ রাম নামের এই বিকৃতি বন্ধ করা।”

শুক্রবার অবশ্য এর পাল্টা ৬২ জন চিঠি লিখে পাঠান প্রধানমন্ত্রীকে। প্রসূন জোশী, মধুর ভান্ডারকর, কঙ্গনা রানাওয়াত ছাড়াও পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী, নৃত্যশিল্পী ও রাজ্যসভার সাংসদ সোনাল মানসিং, কবি বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, অভিনেত্রী কাঞ্চনা মৈত্র, পার্নো মিত্র, কল্যাণ চৌবে, বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ বিশিষ্টজনরা এই চিঠিতে জানান, “বুধবার প্রধানমন্ত্রী মোদীকে লেখা একটা খোলা চিঠি আমাদের অবাক করেছিল। ৪৯ জন ‘স্বঘোষিত অভিভাবক’ এবং সমাজ ও দেশের ‘স্বঘোষিত রক্ষক’ বিশেষ কিছু বিষয়ে নিজেদের চিন্তার কথা ব্যক্ত করেছেন। এই চিঠি দেখেই তাঁদের রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্টতা বোঝা যাচ্ছে।”

তাঁরা আরও জানিয়েছেন, “আমাদের কাছে প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এই চিঠি একটি মিথ্যেকে প্রচার করার প্রচেষ্টা বলেই মনে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জনদরদী কাজকে নেতিবাচকভাবে দেখানোর উদ্দেশ্যেই এই চিঠি দেওয়া। যাঁরা এই খোলা চিঠিতে সই করেছেন, তাঁরা কেন সেই সময় চুপ ছিলেন, যখন নকশালদের হাতে গ্রামের দরিদ্র মানুষদের প্রাণ গিয়েছে। তখন কেন চুপ ছিলেন, যখন কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা স্কুলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। তখন কেন চুপ ছিলেন, যখন দেশের মধ্যে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করা হয়েছে।”

Comments are closed.