পিঁপড়ে বাইছে মৃত রোগীর চোখে, মাছি উড়ছে ভনভন করে, বরখাস্ত করা হল সরকারি হাসপাতালের পাঁচ ডাক্তারকে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাসপাতালের বিছানায় পড়ে রয়েছে মৃত রোগী। চোখেমুখে পিঁপড়ে বাইছে। মাথার চারধারে ভনভন করছে মাছি। হাত দিয়ে পিঁপড়ে সরাবার চেষ্টা করছেন মৃতের স্ত্রী। মধ্যপ্রদেশের একটি সরকারি হাসপাতালেই দেখা গেল এমন ছবি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ছবি ভাইরাল হতেই তীব্র ধিক্কার জানিয়েছেন নেটিজেনরা। মৃত রোগীকে দীর্ঘ সময় ফেলে রাখা এবং গাফিলতির অভিযোগে হাসপাতালের পাঁচজন ডাক্তারকে ইতিমধ্যেই বরখাস্ত করা হয়েছে।  তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথ।

    যক্ষ্মা নিয়ে শিবপুরি জেলার ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বালচন্দ্র লোধি। বয়স বছর পঞ্চাশেক। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, কয়েকমাস আগে যক্ষ্মা ধরা পড়েছিল ওই রোগীর। সঠিক সময় হাসপাতালে ভর্তি হননি তিনি। তাই ঠিকমতো চিকিৎসাও হয়নি। মঙ্গলবার সকালে তাঁকে ভর্তি নেওয়া হয়। তবে বিকেলেই মৃত্যু হয় তাঁর।

    রোগীর পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি নেওয়ার পর থেকে বালচন্দ্রের কোনও চিকিৎসাই হয়নি। সকাল ১০টা নাগাদ একজন ডাক্তার ওই ওয়ার্ড পরিদর্শনে এসেছিলেন। তার পর থেকে আর কারোর পাত্তা পাওয়া যায়নি। তাঁর মৃত্যুর পরেও কোনও ডাক্তার বা নার্স দেখতে আসেননি। অবহেলায় ফেলে রাখা হয়েছিল তাঁকে। গোটা রাত মৃত স্বামীর পাশেই বসেছিলেন তাঁর স্ত্রী রামশ্রী লোধি। বুধবার সকালে দেখা যায়, পিঁপড়ে ধরে গেছে মৃতদেহে। মাছি উড়ছে মৃত শরীরের চারপাশে। অভিযোগ, ডাক্তার-নার্সদের ডেকেও সাড়া মেলেনি।

    সরকারি হাসপাতালের এমন বেহাল দশা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। এই গাফিলতির জন্য কারা দায়ী সেই বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথ। বরখাস্ত করা হয়েছে পাঁচজন ডাক্তারকে। ওই ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা নার্সদের জিজ্ঞাসাবাদ করা চলছে।

    মৃতরোগীর স্ত্রী রামশ্রীর কথায়, “রাত থেকে মানুষটাকে ফেলে রাখা হয়েছে। দেহে পচন ধরছে। ডাক্তারদের কোনও সাড়া নেই। আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারও করা হয়েছে। এর প্রতিকার চাই! ”

    পড়ুন, দ্য ওয়ালের পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More