দাদার সঙ্গে পালিয়েছিলি কেন? নাবালিকাকে বেধড়ক পেটালো মুখিয়া

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাঁটু মুড়ে মাটিতে বসে এক যুবক। চারদিকে ঘিরে দাঁড়িয়ে রয়েছে অনেক লোক। আর সবার সামনে এক নাবালিকাকে বেধড়ক মারছে এক বৃদ্ধ। কখনও হাত দিয়ে, কখনও লাঠি দিয়ে, কখনও বা পা দিয়ে। কেউ আটকানোর প্রয়োজনও মনে করছে না। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন ফেলে দিয়েছে এই ভিডিয়ো। কিন্তু কী ওই নাবালিকার অপরাধ? কেনই বা এ ভাবে অমানুষের মতো মারা হচ্ছে তাকে?

ঘটনাটি অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুর জেলার কেপি ডোড্ডি গ্রামের। পুলিশ সূত্রে খবর, তুতো দাদার সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছিল ওই নাবালিকা। কিন্তু গ্রামবাসীরা তাদের ধরে ফেলে। আর তারপরেই গ্রামে বসে সালিশি সভা। সেখানে সবার সামনে ওই নাবালিকাকে মারধর করে গ্রামেরই মুখিয়া।

প্রথমে হাতে চড়-থাপ্পড় মেরে সন্তুষ্ট হয়নি মুখিয়া। পরে লাঠিপেটাও করা হয় নাবালিকাকে। পালিয়ে যাওয়ার শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল তাকে। অথচ কারও কাছ থেকে প্রতিবাদ পর্যন্ত আসেনি। এই ঘটনার ভিডিয়ো কেউ তুলে প্রকাশ করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। তারপরেই সমালোচনার জেরে তা ভাইরাল। এই সভ্য সমাজে এরকম বর্বইতা কেউ করতে পারে, তা ভেবেই আঁতকে উঠছেন সবাই।

এই ঘটনার পর অনন্তপুর জেলার পুলিশ সুপার বি ইয়েসুবাবু জানিয়েছেন, নাবালিকার বাড়িতে গিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, মুখিয়া তাঁদের হয়েই সালিশি করছিলেন। তাই তাঁরা কোনও অভিযোগ করবেন না। অগত্যা বাধ্য হয়েই মহিলা পুলিশকে পাঠানো হয়েছে ওই নাবালিকার কাছে। সে কোনও অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে খবর, যে তুতো ভাইয়ের সঙ্গে সে পালিয়েছিল, তার বয়স ২০। অর্থাৎ, সে সাবালক। ওই যুবকের সঙ্গে নাবালিকার শারীরিক সম্পর্ক হয়ে থাকলে যুবকের বিরুদ্ধেও পকসো ধারায় অভিযোগ দায়ের হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, যদি কোনও অভিযোগ দায়ের না হয়, তাহলে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অভিযোগ দায়ের করবে পুলিশ।

এই ঘটনার পর শিশু অধিকার রক্ষা কর্মী অচ্যুত রাও জানিয়েছেন, তাঁরা ন্যাশনাল কমিশন ফর প্রোটেকশন অফ চাইল্ড রাইটস-এ অভিযোগ জানিয়েছেন। ওই মুখিয়ার বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করার আবেদন জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, “এটা ঘৃণ্য অপরাধ। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। নীতি পুলিশের ভূমিকা নিতে কেউ বলেনি ওই মুখিয়াকে। এর জন্য তাকে শাস্তি পেতেই হবে।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More