রবিবার, অক্টোবর ২০

গণপিটুনি রুখতে কেন্দ্রের মন্ত্রিগোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেবেন অমিত শাহই

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গণপিটুনির ঘটনা রুখতে কেন্দ্রে মোদী সরকারের মন্ত্রিগোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেবেন অমিত শাহই।
যে হেতু বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ বর্তমানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। এবং গণপিটুনি দেশের আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যা। তাই পদাধিকার বলে এ ব্যাপারে মন্ত্রিগোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেবেন তিনিই।

অমিত শাহ ছাড়াও ওই মন্ত্রিগোষ্ঠীতে থাকবেন বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, পরিবহণ মন্ত্রী নিতিন গডকড়ী, আইন মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ এবং সামাজিক বিচার মন্ত্রী থাওয়ার চাঁদ গেহলট।

দেশে গণপিটুনির ঘটনা উত্তোরত্তর বৃদ্ধির পাওয়ার ব্যাপারে গত শুক্রবারই উদ্বেগ জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এ ব্যাপারে গত বছর কেন্দ্রীয় সরকার ও দশটি রাজ্য সরকারকে যে নির্দেশ সর্বোচ্চ আদালত দিয়েছিল তা কেন বাস্তবায়িত হয়নি জানতে চেয়েছিল।

প্রসঙ্গত, গত বছর মে-জুন মাসে গোটা দেশে স্রেফ ছেলেধরা অভিযোগে কুড়ি জনকে পিটিয়ে মারা হয়েছিল। ইদানীং গো হত্যা বন্ধ বা জয় শ্রীরাম স্লোগানের নামে সেই প্রবণতা নতুন করে শুরু হয়েছে। এর পরই ৪৯ জন বিদ্বজ্জন বিহিত চেয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখেছেন।

এ হেন পরিস্থিতিতে সরকারি সূত্রেই বলা হচ্ছে, গণপিটুনি রুখতে যথাযথ পদক্ষেপের জন্য আলোচনা শুরু করতে চলেছে মন্ত্রিগোষ্ঠী।

আগে এই মন্ত্রিগোষ্ঠীর নেতৃত্বে ছিলেন প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। সূত্রের খবর, তখনই স্বরাষ্ট্র সচিব রাজীব গৌবার নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি মন্ত্রিগোষ্ঠীর কাছে এক প্রস্থ সুপারিশ পেশ করেছিল। তাতে বলা হয়েছিল, গণপিটুনির ঘটনাকে ঠেকাতে আর পাঁচটি সামাজিক পদক্ষেপের পাশাপাশি ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং ফৌজদারী দণ্ডবিধিতেও সংশোধন এনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা করতে হবে। এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের মতও ছিল তাই।

তবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর জি কিষাণ রেড্ডি-র বক্তব্য, সব ধরনের গণপিটুনির ঘটনার চরিত্র এক নয়। তাই সব দিক বিবেচনা করে দেখছে মন্ত্রিগোষ্ঠী।

যদিও এই মন্ত্রিগোষ্ঠী কতটা কার্যকরী পদক্ষেপ করতে পারবে তা নিয়ে অনেকে সন্দিহান। অনেকের মতে, শাসক দলের একাংশ নেতা গণপিটুনির ঘটনায় উস্কানি দিচ্ছেন। বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি তা জানেন না তা নয়। তিনিই আবার মন্ত্রিগোষ্ঠীর প্রধান। সব মিলিয়ে ব্যাপারটা বিশ্বাসযোগ্য ঠেকছে কি?

Comments are closed.