বুধবার, অক্টোবর ১৬

যুদ্ধের দামামা বাজিয়েছেন অমিত শাহ, ফল ভাল হবে না: বিজয়ন ও স্ট্যালিন  

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার হিন্দি দিবসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের টুইট এবং বক্তৃতা নিয়ে যে পারদ চড়তে শুরু করেছিল দক্ষিণী রাজনীতিতে, রবিবার তা আরও বাড়ল। এ দিন হিন্দি নিয়ে অমিত শাহের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। বললেন, অমিত শাহের মন্তব্য নতুন যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি করে দিচ্ছে। এ দিনও বিজেপি সভাপতিকে নিশানা করলেন ডিএমকে সুপ্রিমো এমকে স্ট্যালিন।

সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য বিজয়ন ফেসবুকে লিখেছেন, “হিন্দি সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারতীয়র মাতৃভাষা নয়। তাঁদের উপর চাপিয়ে দিলে তা হবে দাসত্বের সমান। যাঁদের মাতৃভাষা হিন্দি নয়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিয়েছেন।”

স্ট্যালিন এ দিন বলেন, “আন্না (প্রয়াত ডিএমকে সর্বাধিনায়ক করুণানিধি) বলতেন বেশির ভাগ মানুষ যে ভাষায় কথা বলেন, সেটাকেই যদি জাতীয় ভাষা করতে হয়, তাহলে ময়ূরের বদলে কাককে জাতীয় পাখি হিসেবে ঘোষণা করতে হয়!”

গতকাল অমিত শাহ বলেছিলেন, “সারা দেশে একটা ভাষা হওয়া খুব জরুরি। সারা দুনিয়ায় ভারতের পরিচিতিকে তুলে ধরতে এই মুহূর্তে তা গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি এ-ও বলেন, ভারত বহু ভাষাভাষীর মানুষের দেশ। এবং প্রতিটি ভাষারই নিজস্ব গুরুত্ব রয়েছে। তবে  তার মধ্যেই হিন্দিকে দেশের জাতীয় ভাষা হিসাবে ঘোষণা করার প্রস্তাব রাখেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

হিন্দি দিবসে টুইট করে অমিত শাহ লেখেন, “প্রতি বছর ১৪ সেপ্টেম্বর দিনটি হিন্দি ভাষা দিবস হিসাবে পালিত হয়। যখন ভারতের গণপরিষদ হিন্দিকে ভারতের সরকারি ভাষা হিসাবে গ্রহণ করেছিল, সেই দিনের তাৎপর্যকে চিহ্নিত করেই এই দিনটি পালন করা হয়ে থাকে। দেবনাগরী লিপিতে রচিত হিন্দি, দেশের ২২ টি তফসিলী ভাষার একটি। তবে হিন্দি হল কেন্দ্রীয় সরকারের দুটি সরকারি ভাষার মধ্যে একটি। অন্যটি হল  ইংরেজি ভাষা। তাঁর কথায় “বর্তমানে যদি এমন একটিও ভাষা থাকে যা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষমতা রাখে, তা হল হিন্দি ভাষা। এটি ভারতের সর্বাধিক ব্যবহৃত এবং সহজবোধ্য ভাষা”।

দক্ষিণী রাজনীতি বরাবরই ভাষার প্রশ্নে রক্ষণশীল। করুণানিধিও একসময়ে দ্রাবিড় আন্দোলনের পুরোধা ছিলেন। গতকাল থেকেই ফুঁসছে দক্ষিণী রাজ্যগুলি। রাস্তায় নেমেছে একাধিক কন্নড় সংগঠন। একাধিক স্টেশনের হিন্দিনামে লেপে দেওয়া হয়েছে আলকাতরা। এ দিনও ভাষা নিয়ে সরগরম সেখানকার রাজনীতি।

বিজেপি-র এক মুখপাত্র বলেন, “অমিত শাহ দেশের ঐক্যের প্রশ্নে হিন্দিকে সর্বজনীন করার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, অফিসে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে মাতৃভাষায় কথা বলুন। কারণ সব ভাষারই গুরুত্ব রয়েছে। যাঁরা এই সমস্ত কথা কথা বলছেন, তাঁরা আসলে বিজেপি বিরোধিতার জন্য হয়কে নয় করছেন।”

Comments are closed.