মালাবার নৌমহড়ায় অংশ নিতে অস্ট্রেলিয়াকে ডাক, চিনকে চাপে রাখতে কৌশলগত পদক্ষেপ ভারতের

অক্টোবরের গোড়াতেই চার দেশের বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। কূটনৈতিক শিবিরের মতে, প্রকৃতপক্ষে এই অক্ষের জন্মই হয়েছিল চিন-বিরোধিতার উপর ভিত্তি করে। 

৬৯

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাদাখ সংঘাতের আবহেই চিনকে চাপে রাখতে মালাবার নৌমহড়ায় অংশ নিতে অস্ট্রেলিয়াকে নিমন্ত্রণ পাঠাল ভারত। চিনের সঙ্গে সীমান্ত সংঘাত চলাকালীনই ভারত মহাসাগরে যৌথ নৌসেনা মহড়া করেছে ভারত ও জাপান।  বঙ্গোপসাগরের বার্ষিক নৌমহড়ায়  ভারতের সঙ্গে জাপান, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া এই চার শক্তির চতুর্দেশীয় অক্ষ বা কোয়াডকে সামরিক চেহারা দেওয়ার লক্ষ্যে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছিল আগেই। সীমান্ত উত্তেজনার এই টানটান পরিস্থিতে এবার সেই লক্ষ্যেই এগোতে চলেছে ভারত।

অক্টোবরের গোড়াতেই চার দেশের বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। কূটনৈতিক শিবিরের মতে, প্রকৃতপক্ষে এই অক্ষের জন্মই হয়েছিল চিন-বিরোধিতার উপর ভিত্তি করে। সমুদ্রপথে বেজিংয়ের একাধিপত্য,  সীমান্তবর্তী দেশগুলির ভূখণ্ডের প্রতি চিনের আগ্রাসন রুখতেই একজোট হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারত, আমেরিকা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া। সমুদ্রপথে চিনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়তে এ বছর মালাবার নৌমহড়ায় অস্ট্রেলিয়াকে নিমন্ত্রণ পাঠানো হবে কিনা সে নিয়ে আলোচনা চলছিল। সোমবার সরকারি সূত্রে জানা গেছে, চতুর্দেশীয় অক্ষে অস্ট্রেলিয়াকেও অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নভেম্বরের শেষে বঙ্গোপসাগরে নৌমহড়ায় ভারত, জাপান, আমেরিকার সঙ্গে অংশ নেবে অস্ট্রেলিয়াও।

Australia, Japan, Join U.S. for Trilateral Naval Exercise | The Lemoore  Navy News | hanfordsentinel.com

মালাবারে এই বার্ষিক নৌসেনা মহড়া তথা মালাবার এক্সারসাইজ আগে ছিল ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক নৌসেনা মহড়া। পরে জাপানও যোগ দেয় এই মহড়ায়। ২০১৭ সালে ভারত, জাপান ও আমেরিকা ত্রিপাক্ষিক নৌমহড়া হয় বঙ্গোপসাগরে। এই নৌসেনা মহড়ার পোশাকি নাম ছিল ‘মালাবার ২০১৭।’ ভারত মহাসাগর শুধু নয় চিনের নৌসেনার তৎপরতা লক্ষণীয় বঙ্গোপসাগরেও। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলেন, জলযুদ্ধে চিনা ডুবোজাহাজের ক্ষমতা চিন্তার কারণ। চোরাগোপ্তা হামলা চালাতেই বেশি অভ্যস্ত তারা। এবছরও মালাবার এক্সারসাইজ হবে বঙ্গোপসাগরেই। সূত্রের খবর, ডুবোজাহাজের যুদ্ধকৌশল বিশেষভাবে অনুশীলন করা হতে পারে।

ভারত প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে চিনের একাধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছে। গালওয়ান সীমান্ত সংঘাতের আগেই ভারত মহাসাগরে ক্ষেপণান্ত্র প্রতিরোধী চিনা যুদ্ধজাহাজের আনাগোনা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। ভারত মহাসাগরে বিশেষ ব্যবসায়িক এলাকা (এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন) ও আঞ্চলিক জলসীমার কাছাকাছি কয়েকটি চিনা জাহাজকে ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছিল। বেজিং দাবি করেছিল, জলদস্যু দমনের জন্যই নামানো হয়েছিল ওই জাহাজগুলিকে। কিন্তু ভারতীয় নৌসেনার নজরদার বিমানে ধরা পড়ে চিনা জাহাজগুলিকে ঘিরে রেখেছে পিপল’স লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) যুদ্ধজাহাজ। ভারত মহাসাগরে ভারতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা বরাবরই নজরে রয়েছে বেজিংয়ের।

মালাবার নৌমহড়ার প্রস্তুতির সঙ্গেই সমুদ্র ও আকাশের বৃহত্তর সামরিক মহড়া ‘ট্রপেক্স’-এর জন্যও প্রস্তুতি শুরু করতে চলেছে ভারত। নাম না করলেও মূলত চিনকে বার্তা দেওয়াই এই নৌ-মহড়ার অন্যতম উদ্দেশ্য। জলপথে নিউক্লিয়ার অ্যাটাক সাবমেরিন, যুদ্ধজাহাজ সাজিয়ে, আকাশপথে কমব্যাট ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট উড়িয়ে ভারত দেখিয়ে দেবে যে কোনও জায়গাতেই তারা অপ্রতিরোধ্য। ট্রপেক্স নৌ-মহড়ে হবে আগামী বছর জানুয়ারিতে। তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে এখনই। অক্টোবরে যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন নিয়ে প্রস্তুতি চালাবে ভারতের নৌসেনা। এই প্রস্তুতিতে যোগ দেবে নৌসেনার ওয়েস্টার্ন কম্যান্ড ডিফেন্স অব গুজরাত (DGX) এবং ইস্টার্ন ন্যাভ্যাল কম্যান্ড অপারেশনাল রেডিনেস এক্সারসাইজ (ENCORE) । ভারতীয় নৌসেনা সূত্র জানাচ্ছে, প্রায় এক মাস ধরে চলবে এই নৌ-মহড়ার প্রস্তুতি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More