ভয়ঙ্কর নয় ‘মিশন শক্তি’, ৪৫ দিন পর বায়ুমণ্ডলেই ধ্বংস হবে মাইক্রোস্যাটের টুকরোগুলি, দাবি করলো ডিআরডিও

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: “ভয়ের কোনও কারণ নেই। কৃত্রিম উপগ্রহ বিনাশকারী ক্ষেপণাস্ত্র এস্যাটের প্রয়োগ মোটেও ভয়ঙ্কর নয়, ” ভারতের ‘মিশন শক্তি’ নিয়ে নাসার উদ্বেগে দাঁড়ি টেনে বললেন ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার (ডিআরডিও) প্রধান জি সতীশ রেড্ডি। তিনি জানালেন, যতটা আশঙ্কা নাসার, তাদের দৃঢ় বিশ্বাস তেমন কিছুই ঘটবে না। কারণ ২৭ মার্চের পর থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে বায়ুমণ্ডলেই ধ্বংস হয়ে যাবে মাইক্রোস্যাটের ধ্বংসাবশেষগুলি।

গত ২৭ মার্চ পৃথিবী থেকে ৩০০ কিলোমিটার উপরে নিজেদেরই কৃত্রিম উপগ্রহ ‘মাইক্রেস্যাট’কে উপগ্রহ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ‘এস্যাট’ ছুড়ে ধ্বংস করেছিল ভারত। ডিআরডিও এবং ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর এই মিলিত প্রয়াসের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘মিশন শক্তি’। তবে এই শক্তি প্রদর্শনের পরে উঠেছিল নানা প্রশ্ন। বাহুবলের প্রদর্শনের পর কি বিপদ বাড়ল মহাকাশে? গোয়েন্দা-উপগ্রহ এমিস্যাট এবং ২৮টি বিদেশি কৃত্রিম উপগ্রহ শক্তিশালী পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিক্যাল (পিএসএলভি-সি-৪৫)-এর পিঠে চাপিয়ে মহাকাশে পাঠানোর আগে এই চিন্তাই ভাবিত করেছিল ইসরোর বিজ্ঞানীদের। পরে অবশ্য নির্বিঘ্নেই উৎক্ষেপণ হয় এমিস্যাট-এর।

ভারতের এস্যাট ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োগ কতটা বাস্তবসম্মত হয়েছে সেই নিয়ে অবশ্য বিজ্ঞানীদের মতভেদে ইতি হয়নি। নাসা দাবি করেছিল, এই শক্তির প্রয়োগ ‘ভয়ঙ্কর ও ভয়াবহ ঘটনা। ‘ নাসার তরফে জিম ব্রিডেনস্টিন বলেছিলেন, পৃথিবীর লো-অরবিটে অর্থাৎ ৩০০ কিলোমিটার উপরে থাকা কৃত্রিম উপগ্রহ মাইক্রস্যাটকে এক ধাক্কায় তছনছ করে দিয়েছে এই ক্ষেপণাস্ত্র। স্বভাবতই এর পরে পৃথিবীর লো-অরবিটে ছড়িয়ে পড়েছে উপগ্রহের ধ্বংসাবশেষ। এমন চারশোরও বেশি টুকরো চিহ্নিত করা গিয়েছিল বলে দাবি করেছিল নাসা। বলা হয়েছিল, এই অরবিটের কিছু উপরেই ৩৭০ কিলোমিটার কক্ষপথে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস)। কোনও ভাবে এই ছড়িয়ে পড়া টুকরোগুলি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ধাক্কা মারলে বড় বিপদ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। ক্ষতি হতে পারে মহাকাশচারীদেরও।

‘এস্যাট’ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে উপগ্রহ ধ্বংসের যে পরীক্ষাটা ভারত করেছে , তা আমেরিকা করেছিল ১৯৫৯ সালে। তবে সেই সময় এতটাও ভয়ের কোনও কারণ ছিল না। কারণ মহাকাশে তখন এত বেশি রকেট বা উপগ্রহের উৎক্ষেপণ হতো না, তাই স্পেস ডেব্রি-র সংখ্যাও ছিল অনেক কম। ২০০৭ সালে পৃথিবীর কক্ষপথের ৫৩০ মাইল উপরে অ্যান্টি-স্যাটেলাইট  ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা  করেছিল চিন। সেই সময় মহাকাশে ছড়িয়ে পড়েছিল প্রায় ৩,০০০ স্পেস ডেব্রি।

ইসরোর স্যাটেলাইট সেন্টারের প্রাক্তন ডিরেক্টর ডঃ এম আন্নাদুরাই বলেছেন, “স্পেস ডেব্রি হল স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সময় তার কিছু টুকরোটাকরা, বা লঞ্চ ভেহিক্যালের ভেঙে পড়া কিছু অংশ, যে গুলো পৃথিবীর কক্ষপথে বা মহাকাশে থেকে যায়। এগুলোর ওজন কয়েক টন হতে পারে। তবে ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োগের পরে উপগ্রহের ভেঙে পড়া টুকরোর আকার হয় অনেক ছোট। সেগুলো কিছুদিন পরেই মহাশূন্যে বিনষ্ট হয়ে যায়।”

ইসরো ও  ডিআরডিও-র দাবি, নাসার উল্লেখ করা যে ২৪টি টুকরো ক্রমশ আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের দিকে উঠে আসছে বলে দাবি করা হয়েছিল সেগুলোর আকার অনেক কম। ২৭ মার্চের পর থেকে মহাকাশে ও পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে মাইক্রোস্যাটের যে টুকরোগুলি জমা হয়েছে সেগুলো আর কিছুদিন পরেই জ্বলে নষ্ট হয়ে যাবে। সুতরাং আশঙ্কার কোনও কারণ নেই।

আরও পড়ুন:

ভারতের ‘মিশন শক্তি’ ভয়ঙ্কর, উপগ্রহের ধ্বংসাবশেষ তছনছ করতে পারে স্পেস স্টেশন, আশঙ্কা নাসার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More