শনিবার, ডিসেম্বর ১৪
TheWall
TheWall

ক্যামেরায় ধরা পড়ল এলিয়ান, আসলে সে কিন্তু….

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এলিয়ান বা বাইরের দুনিয়ার প্রাণী আছে কি নেই তা নিয়ে আলোচনা বা বিতর্কের শেষ নেই। অনেকেই অনেক সময় দাবি করেছেন তাঁরা এলিয়ানের দেখা পেয়েছেন। মাঝেমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়াতে স্পেসশিপেরও অনেক ভিডিও দেখা যায়। কিন্তু তাই বলে ক্যামেরাতে এলিয়ানের দেখা পাওয়া সত্যিই বিরল। এমনই এক ভিডিও প্রকাশ হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিন্তু একটু খোঁজখবরের পরেই সত্যিটা বেরিয়ে এল। আর সেটা বেরিয়ে আসতেই হাসির রোল নেটিজেনদের মধ্যে।

২০১৭ সালে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমের এক বাসিন্দা এই ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে দেখা গিয়েছিল ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে অদ্ভুত দেখতে দুটি প্রাণী। তাদের গায়ের রং সাদা। চোখ দুটো বড় বড়। অদ্ভুত দেখতে এই দুই প্রাণী একদৃষ্টে তাকিয়ে ছিল ক্যামেরার দিকে। অবশ্য এক জায়গাতেই দাঁড়িয়েছিল তারা। যেন কিছুটা ভয়ই পেয়েছে ক্যামেরা দেখে। সেই সময় এই ভিডিও নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়।

সম্প্রতি সেই ভিডিও আবার প্রকাশিত হয়েছে। ড্যানিয়েল হল্যান্ড নামের এক ব্যক্তি এই ভিডিও প্রকাশ করেছেন। শুধু প্রকাশ করেননি, এই ভিডিওতে দেখা যাওয়া দুটি প্রাণীর পরিচয়ও জানিয়েছেন তিনি। টুইটারে ভিডিওটি প্রকাশ করে হল্যান্ড বলেন, “আমি নিশ্চিত যাঁরা এই ভিডিও দেখে বলেছিলেন এলিয়ান আছে তাঁরা আসলে দুটি বাচ্চা প্যাঁচা দেখেছিলেন।” তারপরে আরও অনেকে বলেন যে ভিডিওতে ওই দুই প্রাণী আসলে দুটি ইস্টার্ন বার্ন আউল যা মূলত ভারতের পূর্বঘাট পর্বতমালা এলাকায় দেখা যায়। দুটি প্যাঁচা কোনও বাড়ির উপর আশ্রয় নিয়েছিল। তাদের ছবিকেই এলিয়ান বলে চালানো হয়েছিল। ইতিমধ্যেই প্রায় ১২ মিলিয়ন লোক দেখেছেন ভিডিওটি।

এই ভিডিও প্রকাশ হওয়ার পরে নেহরু জুলজিক্যাল পার্কের অধিকর্তা শিবানী ডোংরে জানিয়েছেন, “এই ধরনের প্যাঁচাদের চেহারা মানুষের হৃদপিন্ডের মতো। এটা বলা যায় প্যাঁচাদুটি সবে বড় হচ্ছিল। আর ইস্টার্ন বার্ন আউল বড় হওয়ার সময় এরকম বিদঘুটে দেখতে হয়। কিন্তু ওই প্যাঁচা দুটি বন্য নয়। তারা বহুদিন সেখানেই থাকত। জায়গাটা দেখে একটা নির্মীয়মান বাড়ি বলে মনে হচ্ছে। কোনও প্রাণীর দিকে ক্যামেরা তাক করলে তারা অদ্ভুত আচরণ করে। এটা প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য। তারা আগে থেকেই বুঝতে পেরে ওভাবে দাঁড়িয়েছিল বলে দেখে ওরকম ভূতের মতো লাগছিল। এটা সমতল জায়গা না হলে প্যাঁচাদুটির ডানা ও পায়ের বেশ কিছুটা চোখে পড়ত।”

তবে এলিয়ানের আসল পরিচয় সামনে আসার পর অবশ্য হাসির রোল উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সবাই প্যাঁচাদুটিকে নিয়েই মেতেছেন। কেউ বলছেন প্যাঁচাদুটিকে স্পেসশিপ বানিয়ে দেওয়া উচিত। কেউ আবার বলছেন তিনি এই রকমের প্যাঁচা বাড়িতে রাখতে চান। আবার কারও বক্তব্য প্যাঁচাদুটি জানতেই পারল না তাদের নিয়ে কী শোরগোল পড়ে গেল। জানলে হয়তো অত ভয় পেত না। একটু হাসি দেখা যেত তাদের মুখে।

Comments are closed.