বিষবাষ্পে ভরেছে দেশ! উনিশ সালেই মৃত্যু ১৬ লাখের, দূষণের কবলে বিপন্ন শিশুরাও

এ দেশে দূষণের কার্ভ বেড়েই চলেছে। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রক পর্ষদের তথ্য বলছে, বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেড়েছে। কলকাতা, বেঙ্গালুরু, দিল্লি, মুম্বই, চেন্নাইয়ের বাতাসেও ধূলিকণার পরিমাণ বাড়ছে। ভয়াবহ পরিস্থিতি রাজধানীতে।

১৭২

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো:  বাতাসের বিষেই নাজেহাল দেশ। বায়ু, জল, যানবাহনের দূষণ-মানচিত্রে ভারতের স্থান ক্রমেই উপরের দিকে উঠছে। ‘স্টেট অব গ্লোবাল এয়ার’ (SOGA)এর রিপোর্ট আগেই বলেছিল প্রতি বছর দূষণের কারণে ভারতে ১২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। সম্প্রতি এসওজিএ-র সমীক্ষা বলছে, গত বছর উনিশ সালেই বায়ুদূষণ ও সম্পর্কিত জটিল রোগের কারণে ভারতে প্রায় ১৬ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

এ দেশে দূষণের কার্ভ বেড়েই চলেছে। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রক পর্ষদের তথ্য বলছে, বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেড়েছে। কলকাতা, বেঙ্গালুরু, দিল্লি, মুম্বই, চেন্নাইয়ের বাতাসেও ধূলিকণার পরিমাণ বাড়ছে। ভয়াবহ পরিস্থিতি রাজধানীতে। ধোঁয়াশায় ঢেকেছে আকাশ। যানবাহনের ধোঁয়ার সঙ্গে মিশেছে পরশি রাজ্য উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থান থেকে ছড়িয়ে পড়া খড়পোড়া বিষাক্ত ধোঁয়া।

Which Cities Have the Best Air Quality in India and Which Are the Most Polluted? – Smart Air

এসওজিএ-র রিপোর্ট বলছে, বায়ুদূষণের অর্থ হাওয়ায় ভাসমান কণা এবং বিষাক্ত গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া। দূষিত কণার পরিমাণ বাড়লে শ্বাসযন্ত্রের রোগ, ফুসফুসের দুরারোগ্য ব্যধির প্রকোপ বাড়ে। সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, বায়ুদূষণের প্রভাবে এখন আর শুধু ফুসফুস বা শ্বাসনালীর রোগ নয়, শরীরের শরীরের বেশির ভাগ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের উপরেই দূষণের প্রভাব পড়ছে। যার ফলে ক্যানসার, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্রনিক ফুসফুসের রোগ এমনকি অবসাদও দেখা গিচ্ছে রোগীর। যে কোনও জটিল রোগের রিস্ক ফ্যাক্টর বলা হচ্ছে বায়ুদূষণকেই।

India: SC admits govt's plea against ban on diesel vehicles | Carbon Copy

দূষণের কারণে ২০১৯ সালে কী কী রোগের প্রকোপ বেড়েছে তার একটা তালিকা সামনে আনা হয়েছে। বলা হয়েছে, গত বছর অন্তত ৬০ শতাংস মানুষের মৃত্যু হয়েছিল ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিসঅর্ডার বা সিওপিডির কারণে। এটি ফুসফুসের এমন এক জটিল রোগ যাতে শ্বাসপ্রশ্বাসের প্রক্রিয়াই বন্ধ হয়ে যায়। তীব্র শ্বাসকষ্টে ছটফট করতে করতে মৃত্যু হয় রোগীর। ৪৩ শতাংশের মৃত্যুর কারণ শ্বাসযন্ত্রের নানা রোগ, হার্টের রোগে মৃত্যু হয় প্রায় ৩২ শতাংশের। ইস্কিমিক স্ট্রোকের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা ৩৫ শতাংশ।

Majority of air pollution deaths in India linked to diesel vehicle emissions: Study - The Economic Times

পরিবেশবিদরা বলছেন, শুধু ভাসমান ধূলিকণা (পিএম১০) ও অতিসূক্ষ্ম ধূলিকণাই (পিএম ২.৫) নয়, যানবাহনের সংখ্যা বাড়ায় বাতাসে নাইট্রোজেন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রাও বিপজ্জনক হারে বাড়ছে। বায়ুমণ্ডলে ওই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা (পিএম)-গুলি খুব সহজে মিশে যেতে পারে। কিন্তু যদি পিএম কণাগুলির ব্যাস বেশি হয় তাহলে বায়ুমণ্ডলে মিশে যেতে সময় লাগে বেশি। বিদ্যুৎকেন্দ্র, গাড়ি, ট্রাক, অগ্নিকাণ্ড, ফসল পোড়ানো ও কারখানার চিমনি থেকে এই দূষণ-কণাগুলি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বাতাসের ধূলিকণাকে আশ্রয় করে বিষবাস্প তৈরি করে। দেখা গেছে, দেশের প্রায়  ৭৬.৮% মানুষই দূষিত বাতাসে শ্বাস নেন বা শ্বাস নিতে বাধ্য হন। দূষণ-কণাগুলি খুব সহজে ফুসফুসের অনেক গভীরে ঢুকে যেতে পারে। যার কারণেই হৃদরোগ, স্ট্রোক, শ্বাসকষ্ট ও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।

Delhi air pollution: Why farmers of Punjab, Haryana do not quit stubble burning despite visible consequences - Education Today News

এসওজিএ-র রিপোর্ট বলছে, কমবয়সী বা নবজাতকদের এই দূষিত বাতাসের কারণে জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। ২০১৭ সালের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল বায়ুদূষণের কারণে কমবয়সীদেরই মৃত্যু বেশি হয়েছিল। অথচ পরিবেশবিদরা বলছেন, বায়ুদূষণের মাত্রা যদি ঘনমিটার-পিছু ১০ মাইক্রোগ্রাম কমানো যায়, তা হলে শ্বাসরোগ, হৃদ্‌রোগের মাত্রা তিন শতাংশ কমতে পারে।  দূষণে রাশ টানতে হলে ধোঁয়ায় রাশ টানা জরুরি।গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে উন্নত করলে এই সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। সেই সঙ্গে শিল্প-কারখানার ধোঁয়া এবং আবর্জনা পোড়ানো ও কৃষিজমিতে খড়পোড়া ধোঁয়ায় লাগাম টানতে হবে। এর জন্য যথাযোগ্য ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারকেই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More