দিল্লির দূষণ রুখতে তৈরি হচ্ছে স্থায়ী কমিটি, অর্ডিন্যান্স জারি কেন্দ্রের

রাজধানীর বায়ুদূষণ ক্রমেই বিপজ্জনক জায়গায় পৌঁছচ্ছে। বাতাসের গুণগত মান এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের গ্রাফ নিম্নমুখী। ধোঁয়াশায় বিপর্যস্ত দিল্লিবাসী। দিন দিন আরও ধূসর হচ্ছে সে ছবি। রাজধানীর বায়ুদূষণের পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে পড়শি রাজ্য পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের খড়পোড়া ধোঁয়াকেই দায়ী করেছে দেশের শীর্ষ আদালত।

২৬৪

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির দূষণ নিয়ন্ত্রণে সবরকম আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পাকাপাকি কমিটি তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। আজ, বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানির আগেই অর্ডিন্যান্সে সই করলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।

রাজধানীর বায়ুদূষণ ক্রমেই বিপজ্জনক জায়গায় পৌঁছচ্ছে। বাতাসের গুণগত মান এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের গ্রাফ নিম্নমুখী। ধোঁয়াশায় বিপর্যস্ত দিল্লিবাসী। দিন দিন আরও ধূসর হচ্ছে সে ছবি। রাজধানীর বায়ুদূষণের পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে পড়শি রাজ্য পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের খড়পোড়া ধোঁয়াকেই দায়ী করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। এই তিন রাজ্যে খড় পোড়ানোর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে প্রাক্তন বিচারপতি এম বি লোকুরের নেতৃত্বে এক সদস্যের কমিটি তৈরি করে সুপ্রিম কোর্ট। তবে কেন্দ্রীয় সরকার জানায় দিল্লি ও তার সংলগ্ন এলাকায় দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য পাকাপাকিভাবে কমিটি তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। গত সোমবার এই কেন্দ্রের তরফে প্রস্তাবও পেশ হয় সুপ্রিম কোর্টে।

সরকারের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেটা বলেছেন, কেন্দ্রের প্রস্তাব খতিয়ে দেখে সম্মতি দেয় শীর্ষ আদালত। প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বাধীন এক সদস্যের কমিটির বদলে ১৮ সদস্যের স্থায়ী কমিটি তৈরির অর্ডিন্যান্স পাশ হয় বুধবার। দিল্লি, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব ও রাজস্থানের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট কমিশন তৈরি হয়েছে বলে খবর। দিল্লি ও জাতীয় রাজধানী এলাকায় দূষণ নিয়ন্ত্রণের যাবতীয় পদক্ষেপ করতে পারবে এই কমিটি। কোনও শিল্প সংস্থা দূষণ ছড়াচ্ছে প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করতে পারবে এই কমিটি। অপরাধ প্রমাণ হলে পাঁচ বছর পর্যন্ত হাজতবাস হতে পারে অপরাধীর। সেইসঙ্গে এক কোটি টাকা জরিমানাও দিতে হবে।

দিল্লি ও জাতীয় রাজধানী এলাকায় দূষণের কারণ পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের চাষিদের খড়কুটো পোড়ানোর অভ্যাস। বিষাক্ত এই ধোঁয়াতেই ভরে গিয়েছে দিল্লির আকাশ। এমনটাই দাবি করে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করেছিলেন দুই পরিবেশবিদ। সেই মামলার শুনানিতেই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ রায় দেয়, ওই তিন রাজ্যে কীভাবে আইন ভেঙে খড় পোড়ানো হচ্ছে তা খতিয়ে দেখার জন্য কমিটি তৈরি হবে।

পরিবেশবিদরা বলছেন,  দিল্লির দূষণের পিছনে অন্যতম বড় কারণ  চাষের খেতে শুকনো খড় পোড়ানো ধোঁয়া। লাগোয়া পঞ্জাব, হরিয়ানা থেকে ওই ধোঁয়া এসে জমছে দিল্লির আকাশে।  দিল্লি-সহ নয়ডা, গ্রেটার নয়ডা, গাজিয়াবাদ, গুরুগ্রামের আকাশ ভরে গেছে ওই খড় পোড়া ধোঁয়াতে। এই ধোঁয়ার সঙ্গেই যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণ সংস্থাগুলির বিষাক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড মিলে গিয়ে ঘন ধোঁয়াশা তৈরি করছে। বাতাসে ভাসমান ধূলিকণার পরিমাণ স্বাভাবিকের থেকে অন্তত আড়াই গুণ বেশি। শীতে বাতাসে ভাসমান এই কণার পরিমাণই চার গুণ ছাড়িয়ে যাবে। ২০১৫ সাল থেকেই উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব এবং হরিয়ানায় খড়কুটো পোড়ানো নিষিদ্ধ করেছিল ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল। তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তাতে রাশ টানা যাচ্ছে না। পরিবেশবিদদের তরফে আইনজীবী বিকাশ সিং বলেছেন, এ বছর খড় পোড়ানো ধোঁয়ার পরিমাণ প্রায় পাঁচ গুণ হয়েছে। দিল্লির বাতাসে যে পরিমাণ ধোঁয়াশা জমা হচ্ছে তাকে নিয়ন্ত্রণে না আনা গেলে ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More