সুশান্তের মৃত্যু নিয়ে আমাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে, নোংরা রাজনীতির অভিযোগ আদিত্য ঠাকরের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর থেকে তাঁকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করলেন মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী তথা মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ও শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরের ছেলে আদিত্য ঠাকরে। এই ঘটনাকে নোংরা রাজনীতি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

সম্প্রতি মারাঠিতে একটি বিবৃতি জারি করে আদিত্য জানিয়েছেন বলিউডে কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকা কোনও অপরাধ নয়। তিনি বলেন, “আমি হিন্দু হৃদয়সম্রাট বালাসাহেব ঠাকরের নাতি এবং আমি বলতে চাই মহারাষ্ট্র, শিবসেনা ও ঠাকরে পরিবারের সম্মানহানি হয়, এমন কোনও কাজ আমি করব না।”

সুশান্তের মৃত্যু নিয়ে নোংরা রাজনীতি করা হচ্ছে এবং তাতে তাঁকে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আদিত্য। তিনি বলেন, “এটা নোংরা রাজনীতি, কিন্তু আমি মাথা ঠান্ডা করে রয়েছি। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে মহারাষ্ট্র সরকার। কিছু লোক মানতে পারছে না যে তাতে আমরা জিতছি। তাই তারা সুশান্ত সিং রাজপুতের ঘটনাকে রাজনৈতিক করার চেষ্টা করছে।”

এই প্রথমবার সুশান্তের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁকে যুক্ত করার বিষয়ে মুখ খুললেন মহারাষ্ট্রের পর্যটন মন্ত্রী। গত কয়েক দিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল মুম্বই পুলিশ সুশান্তের বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তীর কাছের সম্পর্কে থাকা এক রাজনৈতিক নেতাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। আদিত্য ঠাকরের সঙ্গে এক নায়িকার ছবিও ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকে দাবি করে ছবিটি রিয়ার। তবে পরে জানা যায়, ছবিটি অন্য এক নায়িকার।

এই প্রসঙ্গে আদিত্য বলেন, “বলিউড মুম্বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এই ইন্ডাস্টির উপর কয়েক হাজার মানুষের জীবন নির্ভর করে। আমার সসঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির কয়েকজনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। সেটা অপরাধ নয়।”

৩০ বছরের এই তরুণ মন্ত্রী আরও বলেন, “মহারাষ্ট্র পুলিশের খ্যাতি আন্তর্জাতিক। কিন্তু যারা আইনের উপর বিশ্বাস না রেখে যুক্তিহীন অভিযোগ করছেন, তারাই তদন্তের গতি আটকাতে চাইছেন। যারা এইসব যুক্তিহীন দাবি করছেন, তাদের কাছে প্রমাণ থাকলে তা পুলিশকে গিয়ে জমা দিন।”

গত সোমবার মুম্বই পুলিশ কমিশনার পরম বীর সিং জানিয়েছেন, সুশান্তের মৃত্যুর পর থেকে তাঁর আত্মীয় ও অনাত্মীয়, ঘনিষ্ঠ কর্মচারী, বান্ধবী ও তাঁর পরিবারের লোকজন সহ মোট ৫৬ জনের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। প্রত্যেকের জবানবন্দি নিয়েই নাকি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে সুশান্ত বাইপোলার ডিসঅর্ডারে ভুগছিলেন। তার জন্য চিকিৎসা চলছিল। তিনি নিয়মিত ওষুধও খেতেন। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে যন্ত্রণাহীন মৃত্যুর উপায়, বাইপোলার ডিসঅর্ডার নিয়ে গুগলে সার্চ করছিলেন সুশান্ত। সুশান্তের অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫ কোটি টাকা রিয়া চক্রবর্তীর অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফারের যে অভিযোগ অভিনেতার পরিবার করেছেন, তার কোনও প্রমাণ মেলেনি বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে সুশান্তের মৃত্যুর তদন্ত নিয়ে চরম টানাপড়েন চলছে বিহার ও মুম্বই পুলিশের মধ্যে। বিহার পুলিশ দাবি করেছে, তদন্তে সঠিকভাবে সহযোগিতা করছে না মুম্বই পুলিশ। বিহারের ডিজিপি গুপ্তেশ্বর পাণ্ডে দাবি করেছেন, তদন্তের জন্য বিহার পুলিশের আইপিএস বিনয় তিওয়ারি মুম্বই গেলে তাঁকে একরকম জোর করেই কোয়ারেন্টাইনে ঢুকিয়ে দেন বৃহন্মুম্বই পুরসভার আধিকারিকরা। তদন্তে বাধা দিতেই এই কাজ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এর জবাবে মুম্বই পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, তারা সব রকমভাবে সাহায্য করছে। কিন্তু বিহার পুলিশই কোনও নিয়ম মানছে না।

সুশান্তের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিবার, ফ্যান ও রাজনৈতিক মহলের একাংশের তরফে ক্রমাগত সিবিআই তদন্তের দাবি করা হয়েছে। যদিও এই দাবি খারিজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার সুশান্তের মৃত্যুর ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও। একই দাবি করেছেন বিহারের রাজ্যপালও।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More