বৃহস্পতিবার, মার্চ ২১

পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার জের, সরকারি নিরাপত্তা কেড়ে নেওয়া হলো ৫ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের উপর থেকে মোস্ট ফেভারড নেশনের তকমা কেড়ে নিয়েছে ভারত। এ বার কাশ্মীরের পাঁচ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার উপর থেকে সরকারি নিরাপত্তা তুলে নিল জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন। এই পাঁচ নেতা হলেন, জম্মু-কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টের নেতা মিরওয়াইজ উমর ফারুখ, শাবির শাহ, হাশিম কুরেশি, বিলাল লোন ও আবদুল ঘানি ভাট।

রবিবার একটি বিবৃতি দিয়ে জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ‘এই পাঁচ নেতার জন্য যে সুরক্ষা ও গাড়ির ব্যবস্থা ছিল, তা তুলে নেওয়া হচ্ছে। কোনও পরিস্থিতিতেই এঁদের সুরক্ষা দেওয়া হবে না। যদি সরকারের তরফ থেকে আরও কোনও সুবিধা তাঁরা পেয়ে থাকেন, সেই সুবিধাও বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

শনিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং দিল্লিতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব রাজীব গৌবা এবং আইবি’র ডিরেক্টর রাজীব জৈনের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, জম্মু-কাশ্মীরের মাটিতে কোনও পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন যাতে শান্তি বিঘ্নিত করতে না পারে, তার জন্য সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারপরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শুক্রবার কাশ্মীরের মাটিতে দাঁড়িয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, “জম্মু-কাশ্মীরের কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী দলের সঙ্গে আইএসআই-এর যোগ আছে। এই দলগুলির মাধ্যমেই তারা কাশ্মীরের মাটিতে সন্ত্রাস ছড়ানোর চেষ্টা করছে। প্রশাসনের তরফে এই বিচ্ছিন্নতাবাদী দলের নেতাদের যে সুরক্ষা দেওয়া হয়, তা নিয়ে আরেকবার চিন্তা করা উচিত।”

জম্মু-কাশ্মীরের স্বরাষ্ট্র সচিব এই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুঁটিয়ে দেখেন। তাতে দেখা যায়, বেশিরভাগ নেতাদেরই সুরক্ষা দেয় রাজ্য প্রশাসন। মিরওয়াইজ উমর ফারুখ, আবদুল ঘানি ভাট, মৌলানা আব্বাস আনসারির মতো হুরিয়ত নেতারা পুলিশি সুরক্ষাও পেয়ে থাকেন।

বৃহস্পতিবার কাশ্মীরের পুলওয়ামাতে জঙ্গি হামলায় ৪৯ জন সিআরপিএফ জওয়ান শহিদ হন। এই হামলার কারণ হিসেবে কাশ্মীর সমস্যাকে তুলে আনেন হুরিয়ত নেতারা। তাঁরা বলেন, “কাশ্মীরের মানুষ ও নেতারা এই রাজ্যে প্রত্যেকটা হত্যার ঘটনায় অনুশোচনা করছেন। তাঁরাই কাশ্মীর সমস্যা মেটাতে দেরি করছেন। তারই খেসারত দিতে হচ্ছে।” তাঁরা আরও বলেন, “যদি আমরা পুরোপুরি কাশ্মীরে শান্তি ফিরিয়ে আনতে চাই, তাহলে প্রথমেই যেটা করতে হবে, তা হলো সব পক্ষের কথা শোনা। সব পক্ষের কথা শুনে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাশ্মীর সমস্যা মেটানো। তারপরেই এই রাজ্যে শান্তি ফিরে আসবে।”

জঙ্গি হামলার পর থেকেই কাশ্মীরের পরিস্থিতি উত্তপ্ত। জারি করা হয়েছে কারফিউ। বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে দোকানে, গাড়িতে। এই পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন প্রশাসন। কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যাবে, তারই ব্লু’প্রিন্ট তৈরিতে ব্যস্ত তাঁরা।

আরও পড়ুন

‘কোনও পাক গায়কের সঙ্গে কাজ করবেন না’, জঙ্গি হামলার পর হুঁশিয়ারি রাজ ঠাকরের

Shares

Comments are closed.