সীমান্ত পেরিয়ে পরিণতি পেল প্রেম, সমঝোতা এক্সপ্রেস মেলালো পঞ্জাবের পালউইন্দর ও পাকিস্তানের কিরণকে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘তু হ্যায় মেরি কিরণ!’ শাহরুখ খানের মতো ভারতের পালউইন্দর এই কথা বলেছিলেন কি না জানা নেই, তবে দেশ-যুদ্ধ-দ্বন্দ্বের তোয়াক্কা না করেই পাকিস্তানের কিরণের সঙ্গে তাঁর প্রেম পরিণতি পেয়েছে শনিবারই। দুই পরিবারের সমঝোতার সূত্র বেঁধে দিয়েছে ভারত-পাক বন্ধুত্বপূর্ণ সফর সমঝোতা এক্সপ্রেস। দু’দেশের সরকারের অনুমতিতেই ফের সীমান্ত পেরিয়ে পুরোদমে গতি বাড়িয়েছে সমঝোতা এক্সপ্রেস। আর তাতে চেপেই পালউইন্দরের প্রেম পাকিস্তান থেকে এসে পৌঁছেছে তাঁর দেশে।

    পুলওয়ামা আত্মঘাতী হামলা, বালাকোটে ভারতীয় বায়ুসেনার প্রত্যাঘাত, অভিনন্দনের প্রত্যাবর্তন এবং নিয়ন্ত্রণরেখায় রোজকার সংঘাত–দু’দেশের মধ্যে উত্তাপের এখন আঁচ তুঙ্গে। দু’দেশের মানুষের মনে বিক্ষোভের আগুন। তবে বাড়তে থাকা উত্তেজনা ভালোবাসাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। যুদ্ধ-যুদ্ধ আবহের মধ্যেই এক মুঠো ঠাণ্ডা হাওয়ার মতো পালউইন্দর-কিরণের প্রেম।’ চুপি চুপি শান্তির কথা বলে যায়। এই খবরও তাই হু হু করে ছড়িয়ে পড়েছে সমস্ত সংবাদ মাধ্যমে, সোশ্যাল মিডিয়ায়।

    এত কিছুর খবর রাখেন না বছর তেত্রিশের পালউইন্দর সিং ও সাতাশের কিরণ চিমা। জানিয়েছেন, শুরুটা হয়েছিল সেই ২০১৬ সালে। আম্বালার টেপলা গ্রামের বাসিন্দা পালউইন্দরের দূর সম্পর্কের আত্মীয় কিরণ। তাঁর পরিবার থাকে পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের শিয়ালকোটে। প্রথম দেখা এক পারিবারিক বিয়েতে। পাকিস্তানে গিয়েছিলেন পালউইন্দরের পরিবার। কিরণের সঙ্গে আলাপ সেখানেই। প্রথম সাক্ষাতের দিনটা ছিল বসন্তের রঙিন হাওয়ার মতো। একই সঙ্গে আনন্দ, একটু লজ্জা, বন্ধুত্ব সেখান থেকে প্রেম।

    দুই পরিবারের অনুমতিতেই বিয়ের তোড়জোড় শুরু হয় গত বছরই। বিয়ের দিন পাকা হয় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। ভালোবাসার দিন ১৪ ফেব্রুয়ারির উচ্ছ্বাসের মধ্যেই খবর আসে পুলওয়ামায় আত্মঘাতী গাড়িবোমা বিস্ফোরণে প্রাণ গিয়েছে ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ানের। হামলার কথা স্বীকার করে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। এর পরের দিনগুলো বিষাক্ত কালো ধোঁয়ার মতো। আঘাত-প্রত্যাঘ্যাত ঘিরে ভারত-পাক সম্পর্ক একেবারে তলানিতে এসে ঠেকে। নিয়ন্ত্রণরেখায় যেন অলিখিত যুদ্ধের দামামা বেজে যায়। সেই সঙ্গে আকাশে যুদ্ধবিমানের চোখ রাঙানি। সব মিলিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের সমস্ত মাধ্যমই বন্ধ হয়ে যায়। সমঝোতা এক্সপ্রেসে জারি হয় নিষেধাজ্ঞা, বিমান চলাচলে কড়াকড়ি। ফলে অনিশ্চিত হয়ে যায় পালউইন্দর-কিরণের বিয়েও।

    তেত্রিশের যুবকের কথায়, “ভেবেছিলাম বিয়েটা আর হবে না। কিরণকে পাকিস্তান থেকে নিয়ে আসারও কোনও রাস্তা নেই। কিন্তু সমঝোতা এক্সপ্রেস চালুর পর ভরসা পাই, আর দেরি করিনি।” পাকিস্তান থেকে এই ট্রেন ছাড়ে প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায়। তাতে চেপেই সীমান্ত পেরিয়ে অম্বালা পৌঁছয় কিরণ ও তাঁর পরিবার। শনিবার চার হাত এক হয়।

    রাজনীতি, কূটনীতি বোঝেন না পালউইন্দর-কিরণ। তাঁরা শুধু শান্তি চান। দুই পরিবার ছড়িয়ে রয়েছে দুই দেশে। মাঝে সীমান্তের বেড়াজাল। যে উত্তাপ এই মুহূর্তে কিছুটা হলেও ছাইচাপা, কিন্তু ধিকি ধিকি জ্বলছে, সেটা আবার কবে আঁচ বাড়িয়ে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়বে তার ভয় পাচ্ছে দুই পরিবারই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More