রবিবার, সেপ্টেম্বর ২২

চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের দায়ে স্কুল শিক্ষককে ফাঁসিতে ঝোলানোর রায় দিল মধ্যপ্রদেশের আদালত

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ আইন, ২০১২’ (পকসো) আইনে আগেই বদল এনেছিল কেন্দ্র। নতুন অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী, ১২ বছরের কমবয়সিদের ধর্ষণের ন্যূনতম সাজা ২০ বছরের জেল, সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড। সেই ধারাই বজায় রাখল জবলপুর জেলা আদালত। চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত এক স্কুল শিক্ষককে ফাঁসির সাজা শোনালেন বিচারক। এর আগে মধ্যপ্রদেশের মন্দসৌরে নাবালিকা ধর্ষণের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনানো হয়েছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটা গত বছর জুন মাসের। অভিযুক্তের নাম মহেন্দ্র সিংহ গোন্দ। নিজের স্কুলেরই বছর চারেকের একটি শিশুকে অপহরণ করে ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠে মহেন্দ্রর বিরুদ্ধে। শিশুটির পরিবারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে মহেন্দ্রকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জেরার অপরাধ স্বীকারও করে সে।

তদন্তকারীরা জানান, শিশুটির উপর নির্মম ভাবে নির্যাতন চালানো হয়। ধর্ষণের পর শিশুটির জ্ঞানহীন দেহ জঙ্গলে পুঁতে দিয়েছিল মহেন্দ্র। পরিবারের লোকজনই তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। মেডিক্যাল রিপোর্টে দেখা যায়, শিশুটির যৌনাঙ্গে গভীর ক্ষত ছিল। ধারালো কোনও জিনিস দিয়ে এমনভাবে তার যৌনাঙ্গে আঘাত করা হয়েছিল যে ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল ক্ষুদ্রান্তও। তা ছাড়া সারা শরীরে ছিল অজস্র কালশিটের দাগ। শারীরিক অবস্থার ক্রমেই অবনতি হওয়ার পর মধ্যপ্রদেশ থেকে তাকে উড়িয়ে আনা হয় দিল্লির এইমসে। সেখানেই দীর্ঘ সময় চিকিৎসার পর সুস্থ হয় নাবালিকা।

আরও পড়ুন: দুর্ঘটনা নাকি পারিবারিক বিবাদের জের? আগুনে পুড়ে ছাই পাশাপাশি দুই ভাইয়ের বাড়ি, ঝলসে মৃত দুই শিশু-সহ চার

ঘটনার পরই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয় জবলপুরে। ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয় শহর। পথে নেমে বিক্ষোভ দেখান শিশুটির পরিবার ও এলাকার লোকজন। সরব হন শিশু অধিকার রক্ষা কমিশনের আধিকারিকরাও। পকসো আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশ। গত বছর সেপ্টেম্বরে মহেন্দ্রকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনায় জেলা দায়রা আদালত। চলতি বছর জানুয়ারি ২৫ তারিখে সেই রায়ে সম্মতি দেয় মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট।  জবলপুর জেল সুপার গোপাল তামরাকর জানিয়েছেন, আগামী ২ মার্চ ভোর পাঁচটায় ফাঁসি দেওয়া হবে মহেন্দ্রকে।

২০১৮ সালে মধ্যপ্রদেশের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে ২১ জনকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনানো হয়। তার মধ্য়ে ১৯ জন নাবালিকা ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত। মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট এই ১৯ জনের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ডে সায় দেয়। যার মধ্যে রয়েছে মহেন্দ্রর নামও। আদালত সূত্রে খবর, এই ফাঁসি হলে শিশু ধর্ষণে অভিযুক্ত প্রথম কোনও দোষী সাব্যস্তকে পকসোর নতুন আইনে ফাঁসিতে ঝোলানো হবে।

কাঠুয়া-উন্নাওয়ের ঘটনার পরে জনমানসে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখে ভারতীয় দণ্ডবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি, সাক্ষ্যপ্রমাণ আইন এবং শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ আইন ২০১২ (পকসো) পরিবর্তনের জন্য অধ্যাদেশ আনার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র। মহিলাদের ধর্ষণের ঘটনায় ন্যূনতম সাজা ৭ বছর থেকে বাড়িয়ে করা হয় ১০ বছর। ১২ বছরের কমবয়সি মেয়েকে ধর্ষণ করলে ন্যূনতম সাজা ২০ বছরের জেল, সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড। ১২ বছরের কমবয়সিকে গণধর্ষণ করলে সাজা যাবজ্জীবন কারাবাস বা  মৃত্যুদণ্ড। ১৬ বছরের কমবয়সিদের ধর্ষণ করলেও ন্যূনতম সাজা ১০ বছরের বদলে ২০ বছরের কারাদণ্ড। সর্বোচ্চ শাস্তি আমৃত্যু কারাবাস। অধ্যাদেশে বলা হয়, ১৬ বছরের নীচের কাউকে ধর্ষণ বা গণধর্ষণ করলে অভিযুক্তরা আগাম জামিনও পাবেন না। সেই অধ্যাদেশেই পরে সায় দেয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

Comments are closed.