মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২

দিল্লি বিমানবন্দরে পরিত্যক্ত কালো ব্যাগে ঠাসা ছিল এইসব জিনিস, চোখ কপালে পুলিশের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি বিমানবন্দরের তিন নম্বর টার্মিনালের কাছে মাঝরাতে একটি পরিত্যক্ত কালো ব্যাগ ঘিরে আতঙ্ক চরমে ওঠে। টানা ২৪ ঘণ্টা ব্যাগটিকে পর্যবেক্ষণে রেখে নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দিল্লি পুলিশ ও ‘বোম্ব ডিটেকশন অ্যান্ড ডিসপোজাল স্কোয়াড’। এক্স-রে ইমেজ, স্ক্যান যাবতীয় নিরীক্ষণের শেষে নিশ্চিত হওয়া যায় বৈদ্যুতিক কোনও জিনিসপত্র নেই সেই ব্যাগে।  এরপরের ঘটনা আরও নাটকীয়। ব্যাগের চেন খুলতেই চোখ কপালে ওঠে পুলিশকর্তাদের। গোটা একটা দিন যে ব্যাগ চোখের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছিল তার মধ্যে কি না পাওয়া গেল এইসব জিনিসপত্র।

রাত ১টা নাগাদ ব্যাগটি খুঁজে পাওয়া যায় দিল্লি বিমানবন্দরের দু’নম্বর গেটের কাছে। ৪ নম্বর পিলারের কাছে পড়েছিল ব্যাগটা। সিআইএসএফের এক আধিকারিক ব্যাগটা উদ্ধার করার পরেই আতঙ্ক ছড়ায় যাত্রীদের মধ্যে। চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়ে যায় বিমানবন্দরে। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দিল্লি পুলিশের স্পেশাল টিম। নামানো হয় ডগ স্কোয়াড। রাত দেড়টা নাগাদ পৌঁছয় বম্ব স্কোয়াড।

রাত তিনটে নাগাদ ব্যাগটিকে বিমানবন্দরের বাইরে সেফ জ়োনে নিয়ে যাওয়া হয়। বম্ব স্কোয়াডের প্রাথমিক অনুমান ছিল ব্যাগের ভিতর ঠাসা রয়েছে আরডিএক্স। নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয় গোটা বিমানবন্দর। নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে দেওয়া হয় যাত্রীদের। গোটা বিমানবন্দরজুড়ে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। বোম আতঙ্ক ছড়ায় রাজধানীর সর্বত্র।

সিআইএসএফ জানিয়েছে, পরিত্যক্ত ব্যাগটি সিআইএসএফ টিসিভি (Threat Containment Vehicle) রেখে পরীক্ষা করার পর বিমানবন্দর থেকে ২-৩ কিলোমিটার দূরত্বে কুলিং পিটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই ব্যাগের চেন খুলতে সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে পুলিশ ও বম্ব স্কোয়াডের বিশেষজ্ঞরা। কোনও বিস্ফোরক নয় বরং ব্যাগের ভিতরে ঠাসা ছিল জামাকাপড়। আর ছিল নানারকমের চকোলেট, কানের দুল, চার্জার এবং বাচ্চাদের খেলনা।

দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (বিমানবন্দর) সঞ্জয় ভাটিয়া জানিয়েছেন, ব্যাগটি বল্লবগড়ের এক বাসিন্দার। মুম্বই থেকে স্পাইসজেটে চেপে যিনি দিল্লির বিমানবন্দরে নেমেছিলেন রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ। তাড়াহুড়োতে চার নম্বর পিলারের সামনে ব্যাগটা ফেলে চলে যান। পরে রাত ১টা নাগাদ সেই ব্যাগই নজরে আসে এক সিআইএসএফ আধিকারিকের। ছড়ায় বোমাতঙ্ক।

স্যার, খুন আমি করেছি

Comments are closed.