শনিবার, অক্টোবর ১৯

৯৩ লক্ষ টাকা ঘুষ! ২ বছর আগের ‘সেরা তহসিলদার’ জেলে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’বছর আগে রাজ্যের সেরা তহসিলদারের পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। আর কিনা সেই অফিসারের বাড়ি থেকেই উদ্ধার হলো ৯৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ক্যাশ ও ৪০০ গ্রাম সোনা। দুর্নীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তেলঙ্গনার রঙ্গ রেড্ডি জেলার তহসিলদার ভি লাবণ্যকে। তাঁকে গ্রেফতার করেছেন দুর্নীতি-দমন শাখার অফিসাররা।

ভি লাবণ্যর তহসিলের কৃষকদের কাছে অভিযোগ পেয়ে তাঁর বাড়িতে দুর্নীতি-দমন শাখার অফিসাররা হানা দান। প্রথম অভিযোগ উঠেছিল লাবণ্যর জুনিয়র আনতাইয়ার উপর। ভাস্কর নামের এক কৃষকের জমির কাগজপত্র ঠিক করে দেওয়ার বদলে তার থেকে ৮ লক্ষ টাকার ঘুষ চান রাজস্ব আধিকারিক আনতাইয়া। বলা হয়, ৩ লক্ষ টাকা তিনি নেবেন ও ৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে লাবণ্যকে। তার আগে অবশ্য পাসবুক খুলে দেওয়ার জন্য ভাস্করের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেন আনতাইয়া। কিন্তু ৮ লক্ষ টাকা চাইলে দুর্নীতি-দমন শাখার আধিকারিকদের দিয়ে সব কথা জানান ভাস্কর।

দুর্নীতি-দমন শাখার অফিসারদের কথা মতো ৪ লক্ষ টাকা দিতে রাজি হন ভাস্কর। সেই টাকা নেওয়ার সময় হাতেনাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। জেরার মুখে লাবণ্যর কথা স্বীকার করেন আনতাইয়া। তারপরেই লাবণ্যকে জেরা করেন অফিসাররা। কিন্তু জেরার মুখে ঘুষের কথা অস্বীকার করেন তিনি। তারপরেই তাঁর বাড়িতে হানা দেন অফিসাররা। লাবণ্যর বাড়ি থেকে ওই বিপুল পরিমাণ টাকা পাওয়ার পর তাঁকে জেলে পাঠানো হয়েছে। এমনকী তাঁর গাড়ি থেকে পাট্টাদারদের অনেক পাসবুক পাওয়া গিয়েছে। দুর্নীতি-দমন শাখার অফিসারদের অনুমান, ওই সব পাসবুক তিনি রেখে দিতেন। তারপর সেগুলো ফেরত দেওয়ার বদলে টাকা চাইতেন।

লাবণ্যর স্বামী গ্রেটার হায়দরাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের সুপারিন্টেনডেন্ট। তাঁকেও জেরা করছেন আধিকারিকরা।

জানা গিয়েছে, কর্ণাটকের রাজস্ব বিভাগের বিরুদ্ধে এই দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে মার্চ মাসে এক কৃষক একটি ভিডিয়ো তুলে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন। মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওকে উদ্দেশ করে তিনি অভিযোগ করেন, রাজস্ব দফতরের আধিকারিকদের হাতে কীভাবে তাঁদের হেনস্থা হতে হয়। এরপরে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন কেসিআর। মুখ্যমন্ত্রী এও বলেন, রাজস্ব দফতরের আধিকারিকরা যাতে এ ভাবে দুর্নীতি না করতে পারেন, তার জন্য তিনি আইনে বদল আনবেন।

Comments are closed.