সাত হাজার স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠাবে ইসরো, নজর রাখবে সীমান্তে, বলছেন নীতি আয়োগের সদস্য

সাত হাজার ন্যানো স্যাটেলাইট আগামী সাত বছরের মধ্যে পৃথিবীর কক্ষে বসিয়ে দেবেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। এই কৃত্রিম উপগ্রহগুলি আকারে ছোট, ওজনে হাল্কা। তবে এর কার্যক্ষমতা বিশাল।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো ও ডিফেন্স রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)-এর যৌথ উদ্যোগে গত কয়েক বছরে একাধিক নজরদারি উপগ্রহকে পৃথিবীর কক্ষে পাঠানো হয়েছে। এই কৃত্রিম উপগ্রহগুলির মূল কাজই হল পৃথিবীর নানা প্রান্তের হাল হকিকতের খবর পাঠানো, দেশের সীমান্ত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ খবর দেওয়া, শত্রু সেনার গোপন অভিসন্ধি ফাঁস করে দেওয়া। চিন ইতিমধ্যেই আরও ৯টি ‘আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট’ পাঠিয়েছে মহাকাশে। তবে ভারতের পরিকল্পনা আরও বড়। ডিআরডিও-র প্রাক্তন ডিরেক্টর জেনারেল ও নীতি আয়োগের সদস্য ভি কে সারস্বত জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের মধ্যে আরও সাত হাজার স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠাতে চলেছে ইসরো। তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে এখন থেকেই।

সারস্বত বলেছেন, সাত হাজার ন্যানো স্যাটেলাইট আগামী সাত বছরের মধ্যে পৃথিবীর কক্ষে বসিয়ে দেবেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। এই কৃত্রিম উপগ্রহগুলি আকারে ছোট, ওজনে হাল্কা। তবে এর কার্যক্ষমতা বিশাল। সীমান্ত পাহারা দেওয়া তো বটেই, এই স্যাটেলাইটগুলির হাই-রেজোলিউশন ক্যামেরা শত্রুদের গোপন ডেরার খোঁজও দিতে পারবে অনায়াসেই। বিশেষত চিন ও পাক সীমান্তে শত্রু সেনার বিন্যাসের খবর পাঠাবে গ্রাউন্ড স্টেশনে। দেশের সুরক্ষার জন্য যা অন্যতম বড় হাতিয়ার হবে বলেই মনে করছেন ডিআরডিও-র প্রাক্তন চিফ সায়েন্টিস্ট ও প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা সারস্বত।

ইসরো জানিয়েছে, স্মল লিফ্ট লঞ্চ ভেহিকল বা এসএসএলভি (SSLV) রকেটে চাপিয়ে মহাকাশে পাঠানো হবে কৃত্রিম উপগ্রহগুলিকে। এই এসএসএলভি রকেটের ওজন বইবার ক্ষমতা ৫০০ কিলোগ্রামের কাছাকাছি। পৃথিবীর নিম্ন কক্ষে ৫০০ কিলোমিটার থেকে ৩১০ কিলোমিটার অরবিটে কৃত্রিম উপগ্রহকে প্রতিস্থাপন করার ক্ষমতা আছে এই রকেটের। মূলত ন্যানো স্যাটেলাইটকে পৃথিবীর কক্ষে বসানোর জন্য এই জাতীয় রকেট ব্যবহার করে ইসরো।

ইসরোর সবচেয়ে বড় রকেট হল জিওসিনক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (জিএসএলভি)-এফ১০।রাশিয়া, আমেরিকা, ফ্রান্স, চিন, জাপানের পর মহাকাশে এই সর্বাধুনিক ক্রায়োজেনিক রকেট পাঠিয়েছে ইসরো। শ্রীহরিকোটার সতীশ ধবন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের দ্বিতীয় লঞ্চ প্যাড থেকে  জিস্যাট সিরিজের নজরদারি উপগ্রহ জিস্যাট-১ মহাকাশে পাঠাতে এই রকেট ব্যবহার করে চমকে দিয়েছিল ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।

২০১২ সাল থেকে ন্যানো স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠাতে শুরু করেছে ইসরো। এই জাতীয় কৃত্রিম উপগ্রহের ওজন কম এবং খুব সহজেই এদের উড়িয়ে নিয়ে লোয়ার আর্থ অরবিট বা পৃথিবীর নিম্ন কক্ষে বসানো যায়। ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রায় হাজার খানেক ন্যানোস্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠিয়েছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। এই স্যাটেলাইট যেমন আবহাওয়ার খবর দেয় তেমনি দেশের প্রতিরক্ষার কাজেও এদের লাগানো যায়।

চলতি বছর জানুয়ারিতেই ‘হাই পাওয়ার’ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট জিস্যাট-৩০ মহাকাশে পাঠিয়েছে ভারত। তবে এই ভারী কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের জন্য ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির (ইএসএ) সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল ইসরো।  ফ্রেঞ্চ গিনি থেকে আরিয়ানা-৫ রকেটের পিঠে চাপিয়ে জিস্যাট-৩০ পৃথিবীর কক্ষে পাঠানো হয়েছিল। জিস্যাট-৩০ উপগ্রহে রয়েছে ‘কমিউনিকেশন ট্র্যান্সপন্ডার’।  ইসরো জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অংশের মধ্যে তো বটেই, এশিয়ার বিভিন্ন দেশ, গালফ দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখবে এই জিস্যাট-৩০। এর কার্যক্ষমতা থাকবে ১৫ বছর। এর আগে ভারতীয় নৌ বাহিনীকে সাহয্যের জন্য ২০১৩ সালে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল জিস্যাট-৭ স্যাটেলাইটটিকে। যাকে সেনা বাহিনীতে রুক্মিনী নামেও ডাকা হয়ে থাকে। ভারত মহাসাগরে কড়া নজরদারি চালায় এই উপগ্রহ, শত্রু জাহাজের গতিবিধি টের পেলেই সেই বার্তা পাঠায় গ্রাউন্ড স্টেশনে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More