রবিবার, আগস্ট ২৫

মদের গোডাউনে আয়কর হানা, উদ্ধার হিসেব বহির্ভূত ৭০০ কোটি টাকা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আয়কর দফতরের আধিকারিকরা হানা দেন তামিলনাড়ুর একটি বড় বিয়ার ও আইএমএফএল ( ভারতে তৈরি বিদেশি মদ ) কোম্পানির গোডাউনে। আর সেখানে তল্লাশি করেই উদ্ধার হয়েছে হিসেব বহির্ভূত ৭০০ কোটি টাকা।

এই আয়কর হানা অবশ্য হয়েছে মঙ্গলবার, তবে তা প্রকাশ্যে এসেছে রবিবার। ইনকাম ট্যাক্স-এর তরফে এ দিনই সবটা জানানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, তামিলনাড়ুর ৫৫টি জায়গায় এই হানা দিয়েছিলেন আয়কর আধিকারিকরা। চেন্নাই, কোয়েম্বাটোর, থাঞ্জাভুর প্রভৃতি জায়গায় হানা দেওয়া হয়েছিল।

আয়কর দফতরের তরফে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, “মঙ্গলবার তামিলনাড়ুর একটি বড় বিয়ার ও আইএমএফএল ( ভারতে তৈরি বিদেশি মদ ) কোম্পানির গোডাউনে হানা দেন আয়কর আধিকারিকরা। সেখান থেকে হিসেব বহির্ভূত ৭০০ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। পুরোটাই বর্তমানে আয়কর দফতরের হেফাজতে রয়েছে।” তবে সেই কোম্পানির নাম জানায়নি ইনকাম ট্যাক্স।

আয়কর দফতর সূত্রে খবর, বেশ কয়েক মাস ধরে ওই কোম্পানির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তাঁদের কাছে জমা হচ্ছিল। ওই কোম্পানি আয়করের হাত থেকে বাঁচতে অনেক রকমের পদ্ধতি অবলম্বন করছিল। এইসব অভিযোগের সূত্র ধরেই হানা দেয় আয়কর দফতর।

আয়কর দফতর আরও জানিয়েছে, শুধুমাত্র মালের হেরফের নয়, সেখানে কর্মরত স্টাফদের বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রেও ট্যাক্স ফাঁকি দিত তারা। বেশিরভাগ কর্মচারীকেই মাইনে দেওয়া হতো ক্যাশে। এ ছাড়া অনেক কাজই ক্যাশে চলত। ফলে তার কোনও কর দিতে হতো না ওই কোম্পানিকে।

জানা গিয়েছে, ওই কোম্পানির বেশ কিছু গোডাউনে একসঙ্গে হানা দেয় আয়কর আধিকারিকরা। হানা দেওয়া হয় কোম্পানির মালিক, ম্যানেজারের বাড়িতেও। দুটি গোডাউন থেকে ৪০০ কোটি টাকা ও ৩০০ কোটি টাকা উদ্ধার করেন আধিকারিকরা।
জেরার মুখে অবশ্য ওই কোম্পানির মালিক সবকিছু অস্বীকার করেছেন বলেই খবর। তাঁর দাবি, তাঁকে ফাঁসানোর জন্যই কেউ এ সব করেছে। তাঁর গোডাউনে টাকা রেখে আয়কর আধিকারিকদের জানানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে আধিকারিকরা এ সব কথায় বিশ্বাস করছেন না। এই টাকার উৎস কী, সে ব্যাপারেই জেরা করা হচ্ছে কোম্পানির মালিককে।

Comments are closed.