রবিবার, অক্টোবর ২০

বন্যায় আক্রান্ত ৪৩ লক্ষ মানুষ, কাজিরাঙার ৯৫ শতাংশ জলমগ্ন, অসমে জারি লাল সতর্কতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : অসমে দিনদিন বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। সোমবার অসম সরকার গোটা রাজ্য জুড়ে লাল সতর্কতা জারি করেছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের ৩০ জেলার ৪ হাজার ১৫৭টি গ্রাম জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বন্যাতে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। সোমবার আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫।

অসমের ৩৩ জেলার মধ্যে ৩০টি জেলার প্রায় ৪৩ লক্ষ মানুষ জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। তার মধ্যে সবথেকে খারাপ অবস্থা বারপেটা, গোয়ালপাড়া, মরিগাঁও, ন’গাঁও, হাইলাকান্দি প্রভৃতি জেলার। ব্রহ্মপুত্রের জল প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটির অবস্থাও খারাপ। এ ছাড়া রাজ্যে যে আরও ১০ নদী রয়েছে, সবার জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে।

বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পরেই তা মোকাবিলার কাজ করছে রাজ্য সরকারের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর। ১৫টি দলের ৩৮০ জন আধিকারিক বন্যাদুর্গত মানুষদের নিরাপদে সুরক্ষিত জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কাজ করছেন। এ ছাড়া বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নামানো হয়েছে সেনা। ইতিমধ্যেই বন্যার কবল থেকে প্রায় ৮৩ হাজার মানুষকে সরিয়ে ১৮৩টি ত্রাণশিবিরে নিয়ে আসা হয়েছে। বেশ কিছু জায়গায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে গিয়েছে।

বন দফতরের তরফে জানানো হয়েছে কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের প্রায় ৯৫ শতাংশ এলাকা জলমগ্ন। একশৃঙ্গ গণ্ডারের জন্য বিখ্যাত এই উদ্যানে গত দু’দিনে ১৭টি বন্য জন্তুর মৃত্যু হয়েছে। জলের হাত থেকে বাঁচার জন্য পশুরা জঙ্গল ছেড়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। ফলে জন্তুদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হিমশিম খাচ্ছে বন দফতর। এই বন্যায় চাষ-আবাদ ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৯০ হাজার হেক্টর জমি প্লাবিত হয়ে গিয়েছে। ক্ষেত ডুবে চাষীদের মাথায় হাত। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও রাজ্যের অর্থনীতিতে তার প্রভাব ভালোভাবেই পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরকেও তৈরি থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল। বিভিন্ন জায়গায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা কাজ করছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। এ ছাড়া গবাদি ও বন্য পশুদের জন্য ভেটারনারি হাসপাতালগুলিকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোমবার মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করে অসমের বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপারে খোঁজ নেন। কী কী ক্ষতি হয়েছে ও বর্তমানে কী পরিস্থিতি তার বিবরণ প্রধানমন্ত্রীকে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মোদী জানিয়েছেন, কেন্দ্র এই পরিস্থিতিতে সবরকম সাহায্য করবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন, মানুষদের বিপদ থেকে উদ্ধার করতে যা দরকার হয়, সব করতে হবে।

Comments are closed.