বুধবার, অক্টোবর ১৬

চিকিৎসা না পেয়ে চার দিনের শিশুর মৃত্যু, ধুন্ধুমার হাসপাতালে, সুপারকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে দৌড়োদৌড়ি করতে গিয়েই কেটে গিয়েছিল ঘণ্টা তিনেক। দুধের শিশু তখন শ্বাসকষ্টে ছটফট করছে। তাকে বুকে আঁকড়েই ডাক্তার-নার্সদের হাতে পায়ে ধরছিলেন অভিভাবকরা। ঠাঁই হয়নি কোথাও। শেষে হাসপাতালের সিঁড়িতেই মৃত্যু হলো চার দিনের শিশুর। ঘটনাকে ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তরপ্রদেশের দুই হাসপাতাল।

গত ১৫ জুন বরেলির মেল হাসপাতালে জন্মেছিল উর্বসী। জন্মের পরেই তার কিছু শ্বাসজনিত সমস্যা দেখা দেয়। গতকাল, বুধবার সেই সমস্যা চরমে ওঠে। শিশুটির বাড়ির লোক জানিয়েছেন, গতকাল সকাল থেকেই ছটফট করতে শুরু করে উর্বসী। ডাক্তার-নার্সদের ডেকে আনলে, তারা জানায় হাসপাতালে বেড কম, অতএব পাশের উইমেন হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে শিশুটিকে। তৎক্ষণাৎ বাচ্চা কোলে নিয়ে পাশের হাসপাতালে ছোটেন অভিভাবকরা। সেখানেও মেলে না ঠাঁই। অভিযোগ, পরিষেবা মিলবে না বলেই জানিয়ে দেয সেই হাসপাতালের সুপার। ফের তাদের ফিরে আসতে হয় মেল হাসপাতালে। সেখানেও মুখ ফিরিয়ে নেন চিকিৎসকরা।

“এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছোটাছুটি করি আমরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাতে পায়ে ধরি। ফল হয়নি। তখন ঠিক করি বাড়ি ফিরে আসবো। তার আগেই হাসপাতালের সিঁড়িতে আমাদের কোলেই প্রাণ বেরিয়ে গেছে মেয়ের,” হাহাকার উর্বসীর ঠাকুমা কুসমা দেবীর।

দীর্ঘকালীন ধর্মঘট কাটিয়ে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার মুখেই ফের চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ সামনে আসায় বিক্ষোভ শুরু হয় বরেলির দুই হাসপাতালেই। শিশু মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। শিশুটির মেডিক্যাল স্লিপ, এবং দুই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির খবর সামনে এনে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয়রা। মেল হাসপাতালের সুপার ডঃ কমলেন্দ্র স্বরূপ গুপ্ত ও উইমেন হাসপাতালের সুপার ডঃ অলকা শর্মাকে বরখাস্ত করার দাবি ওঠে।

ঘটনার তীব্র নিন্দা করে টুইট করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। টুইটারে তিনি লেখেন, “দুই হাসপাতালের সুপারকেই বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে স্বাস্থ্য দফতর। মেল হাসপাতালে যথেষ্ট ডাক্তার-নার্স থাকেন, চিকিৎসা পরিকাঠামোও ভাল, তা সত্ত্বেও এমন কেন হলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। #NewUp -তে সরকারি হাসপাতালের এমন গাফিলতি কখনওই বরদাস্ত করা হবে না।”

Comments are closed.