৩০ হাজার সেনা মোতায়েন পূর্ব লাদাখে, শীতের আগে বড় পদক্ষেপ নয়াদিল্লির

সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অতিরিক্ত বাহিনীর জন্য রেশন, বিশেষ পোশাক ও অস্ত্রসস্ত্রের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। খাবার ও অস্ত্র বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রায় ৬ হাজার ট্রাক পাঠানো হচ্ছে। ১৮০ দিন অর্থাৎ ছ’মাসের জন্য ২০ হাজার টনেরও বেশি রেশন পাঠানো হবে লাদাখে, কেরোসিন তেল পাঠানো হবে প্রায় ১৫ হাজার কিলোলিটার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শীতের সময় লাদাখের পাহাড়ি এলাকা আরও দুর্গম হয়ে ওঠে। বিশেষত পাহাড়ি খাঁজ বা ফিঙ্গার এলাকাগুলিতে সতর্ক নজর রাখার প্রয়োজন হয়। চিনের সেনা এই ফিঙ্গার পয়েন্টগুলিই দখল করে বসে আছে। অন্যদিকে, দেপসাং সমতলভূমিতেও ঘাঁটি গেড়ে রয়েছে লাল ফৌজ। কারাকোরাম পাস দিয়ে ভারতীয় নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ঢুকে পড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। তাই সব মিলিয়ে শীতের আগেই পাকাপোক্ত ব্যবস্থা করতে চলেছে ভারতীয় বাহিনী। সূত্রের খবর, পূর্ব লাদাখে ইতিমধ্যেই ৩০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকা, দেপসাং সমতলভূমি, গোগরা, হটস্প্রিং ও প্যাঙ্গং রেঞ্জে এই অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অতিরিক্ত বাহিনীর জন্য রেশন, বিশেষ পোশাক ও অস্ত্রসস্ত্রের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। খাবার ও অস্ত্র বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রায় ৬ হাজার ট্রাক পাঠানো হচ্ছে। ১৮০ দিন অর্থাৎ ছ’মাসের জন্য ২০ হাজার টনেরও বেশি রেশন পাঠানো হবে লাদাখে, কেরোসিন তেল পাঠানো হবে প্রায় ১৫ হাজার কিলোলিটার।

ভারতীয় সেনা সূত্র জানাচ্ছে, পূর্ব লাদাখ থেকে চিনা সেনার পশ্চাদপসারণ কতখানি হয়েছে, সেটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। প্যাঙ্গং এলাকা থেকে চিনের ফৌজ বেশ খানিকটা সরেছে বলে খবর। কিন্তু সেটা কতটা ঠিক, তা স্পষ্ট নয়। ফিঙ্গার পয়েন্ট ৫ থেকে ফিঙ্গার পয়েন্ট ৮ অবধি এলাকায় তাঁবু খাটিয়ে বসে রয়েছে চিনের বাহিনী। তাই ওই এলাকায় টহল দিতে পারছে না ভারতীয় সেনা। হট স্প্রিং সংলগ্ন পেট্রোল পয়েন্ট ১৭এ-তেও পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নয়। তাই এই অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সেনার এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, শীতের সময় বরফে ঢেকে যায় লাদাখের ফিঙ্গার এলাকাগুলো। তুষারপাত শুরু হয়, তাপমাত্রার পারদ নেমে যায় হিমাঙ্কের ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস নীচে। ওই সময়ের জন্য তাই সেনাদের বিশেষ পোশাক পাঠানো হচ্ছে। অতিরিক্ত ছাউনি পাঠানোরও ব্যবস্থা হয়েছে।

ভারতীয় সেনা সূত্র জানাচ্ছে, ১৫ জুন যেখানে চিন ও ভারতীয় বাহিনীর সংঘর্ষ হয়েছিল সেই পেট্রোলিং পয়েন্ট ১৪ থেকে অন্তত দেড় কিলোমিটার পিছিয়েছে চিনের সেনা। অন্যদিকে, গোগরা হট স্প্রিংয়ের ১৫ নম্বর পেট্রোলিং পয়েন্ট, দেপসাং থেকেও সেনা সরানোর খবর মেলে। তবে ভারতীয় সেনা জানায়, কয়েকটা তাঁবু এবং বাহিনী কিছুটা পিছিয়েছে মাত্র। চিনের সেনার সামরিক নির্মাণ ও বেশ কিছু ছাউনি এলএসি-র ভারতীয় নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাতেই রয়ে গেছে। ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতের পরেই গালওয়ান নদীর উপরে কালভার্ট বানিয়েছিল চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি। ট্রাক, বুলডোজার, সাঁজোয়া গাড়ি যাতায়াতের জন্যই ওই অস্থায়ী নির্মাণ করে চিনের বাহিনী। সেই নির্মাণ এখনও রয়েছে।

বস্তুত, শেষবার চুসুল সীমান্তে দুই দেশের সেনা কম্যান্ডার পর্যায়ের বৈঠকের পরেও গালওয়ান নদী উপত্যকা থেকে সামরিক পরিকাঠামো এখনও সরায়নি চিনের বাহিনী। পাহাড়ি ফিঙ্গার এলাকা থেকেও সেনা সরানোর কোনও অভিপ্রায় নেই তাদের। এর মধ্যেই তিব্বত এবং আকসাই চিনে নতুন করে সেনা মোতায়েন শুরু করেছে চিন। তৈরি হচ্ছে হেলিপ্যাড, সামরিক কাঠামো। গত ২০ জুলাইয়ের উপগ্রহচিত্রে দেখা গিয়েছে, তিব্বতের শিকুয়ানহিতে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে নির্মাণকার্য চালাচ্ছে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি। জায়গায় জায়গায় তৈরি হয়েছে অস্থায়ী সেনা শিবির। অনুমান করা হচ্ছে, ট্যাঙ্ক, প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র-সহ মোটর রাইফেল ডিভিশন মোতায়েন করার কাজ চলছে ওই এলাকাগুলিতে। আকসাই চিন লাগোয়া দৌলত বেগ ওল্ডির উপর দিয়ে চিনা যুদ্ধবিমানের আনাগোনাও লক্ষ্য করা গেছে। তাই দৌলত বেগে ইতিমধ্যেই টি-৯০ ও টি-৭২ যুদ্ধট্যাঙ্ক মোতায়েন করেছে ভারতীয় বাহিনী। রাতের বেলা এলাকা পাহাড়া দিচ্ছে অ্যাপাচে ও চিনুক কপ্টার। আর কয়েকদিনের মধ্যেই পূর্ব লাদাখে নামানো হবে ফ্রান্স থেকে কেনা পাঁচ রাফাল ফাইটার জেট। তার আগে দেশের তৈরি দুটি লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে পূর্ব লাদাখে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More