বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

ঘূর্ণিঝড় ‘বায়ু’: বাতিল ৭০টি ট্রেন, সরানো হলো ৩ লক্ষ লোক, গুজরাত উপকূলে জারি হাই অ্যালার্ট

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুজরাত উপকূলের খবই কাছে পৌঁছে গিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘বায়ু’। বৃহস্পতিবার বিকেলেই আছড়ে পড়তে পারে গুজরাত উপকূলে। আবহবিদদের অনুমান, ১৫৫-১৬৫ কিলোমিটার গতিবেগে গুজরাত উপকূলে আছড়ে পড়বে এই ঘূর্ণিঝড়। তাঁরা জানিয়েছেন, গুজরাট উপকূলে আছড়ে পড়ার পরেও ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত এই ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি একই রকম থাকবে।

হাই অ্যালার্ট জারি হয়েছে সমগ্র গুজরাত উপকূলে। বাতিল হয়েছে ৭০টি ট্রেন। আরও ২৮টি ট্রেনের যাত্রাপথে পরিবর্তন হতে পারে। এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ৩ লক্ষ লোককে গুজরাত উপকূল থেকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ১০ হাজার লোককে দিউ থেকেও নিয়ে যাওয়ায় হয়েছে অপেক্ষাকৃত উঁচু এবং নিরাপদ স্থানে। মঙ্গলবার সন্ধে ৬টা থেকেই শুরু হয়েছে রেল পরিষেবার এই বাতিল প্রক্রিয়া। আগামী ২ দিন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পরিষেবা ব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে গুজরা্ত প্রশাসন। তবে সৌরাষ্ট্রের ওখা থেকে রাজকোট পর্যন্ত এবং আহমেদাবাদ পর্যন্ত দু’টি বিশেষ ট্রেন চালানোর ব্যবস্থা করেছে গুজরাট সরকার। বন্ধ রাখা হয়েছে সমস্ত স্কুল-কলেজ। ১৫ জুন পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের উপকূলে এবং সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত দেশ। বর্ষার দেখা নেই। তারই মধ্যে আবহবিদরা জানিয়েছিলেন, গভীর নিম্নচাপের ফলে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়েছে আরব সাগরের কাছে লক্ষদ্বীপে। শক্তি বাড়িয়ে সেই ঘূর্ণিঝড় ক্রমশ এগোচ্ছে গুজরাত উপকূলের দিকে। ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে। ইতিমধ্যেই যে যে এলাকায় ক্ষতি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে সেই সব এলাকায় পৌঁছে গিয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দল (NDRF)। উদ্ধার কাজ এবং ত্রান শিবিরের ব্যবস্থা যাতে ঠিক ভাবে সে জন্য এনডিআরএফ-এর ৫২টি দল এর মধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে গুজরাতে। প্রতি দলে ৪৫ জন করে কর্মী রয়েছেন।  উদ্ধারকাজের জন্য তৈরি রয়েছে বিশেষ নৌকা। রয়েছে গাছ কাটার অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও টুইট করে জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফেও সমগ্র পরিস্থিতির উপর নজদারি চালানো হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদদের অনুমান, ঘুর্ণিঝড় প্রভাব ফেলবে মুম্বইতেও। প্রায় ৪০০ উড়ানের পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ইতিমধ্যেই বুধবার মধ্যরাত থেকে গুজরাতের বেশ কিছু বিমানবন্দরে আগামী ২৪ ঘণ্টার জন্য উড়ান বাতিল করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে, পড়বন্দর, দিউ, ভাবনগর, কেশোদ এবং কান্দালা। আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেবে সুরাত বিমানবন্দর। দ্বারকা , সোমনাথ, সাসন এবং কচ্ছ এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে পর্যটকদেরও।

Comments are closed.