বুধবার, জুলাই ১৭

পুলওয়ামার থানায় গ্রেনেড হামলা, গুরুতর জখম ৩

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের অশান্ত উপত্যকা। এ বার পুলওয়ামার একটি পুলিশ স্টেশনে গ্রেনেড ছুঁড়েছে জঙ্গিরা। গুরতর জখম হয়েছেন তিনজন। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানেই চিকিৎসা চলছে আহত তিনজনের। জানা গিয়েছে, মোট ১০ জন ভর্তি রয়েছেন হাসপাতালে। কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা এলাকা।

মঙ্গলবারের এই গ্রেনেড হামলার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে সোমবার এই পুলওয়ামাতেই সেনার গাড়ি লক্ষ্য করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সেনা সূত্রে খবর পুলওয়ামার আরিহাল গ্রামে ৪৪ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের একটি গাড়ির কাছে বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। এই বিস্ফোরণে ক্যাসপার গাড়িটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই আইইডি বিস্ফোরণে শহিদ হয়েছেন ২ জওয়ান। আহত হয়েছেন ১৬ জন।

এর আগে সোমবার দুপুর নাগাদ অনন্তনাগের আচাবল এলাকায় গুলির লড়াই শুরু হয়। জঙ্গিদের গোপন ডেরার খোঁজে এলাকা ঘিরে ফেলে সেনা-পুলিশ যৌথ বাহিনী। শুরু হয় এনকাউন্টার। নিজেদের গোপন আস্তানা থেকে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে সন্ত্রাসবাদীরা। পাল্টা জবাব দেয় সেনারাও। সূত্রের খবর, জঙ্গিদের গুলিতে মারাত্মক ভাবে জখম হন আর্মি মেজর কেতন শর্মা। সেনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় তাঁর।

গত ১২ জুন অনন্তনাগ বাস স্ট্যান্ডের কাছে কে পি চকে তল্লাশি অভিযান চালানোর সময় সিআরপিএফ বাহিনীর উপর আক্রমণ করে দুটি বাইকে করে আসা জঙ্গিরা। অতর্কিত এই হানায় প্রথমে হতচকিত হয়ে পড়েন সিআরপিএফ জওয়ানরা। গুলি লেগে ৫ সিআরপিএফ জওয়ান শহিদ হন। আহত হন আরশাদ খান। তাঁকে ভর্তি করা হয় কাশ্মীর ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল কলেজে। সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় এইমস-এ। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা জানান, বুকে গুলি লেগেছিল তাঁর। আনা হয়েছিল অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায়। হাসপাতালেই মৃত্যু হয় জওয়ান আরশাদ খানের।

চলতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি সেনা কনভয়ে আত্মঘাতী জইশ হামলার পর থেকেই লাগাতার এনকাউন্টার চলছে উপত্যকায়। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি সপ্তাহের জঙ্গিদের গুলিতে শহিদ হয়েছেন ১০ জনেরও বেশি সেনা জওয়ান। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, গোটা উপত্যকায় শান্তি ভঙ্গ করার জন্য দফায় দফায় নাশকতা চালানোর চেষ্টা করছে জঙ্গিরা। জইশ, হিজবুলের তো রয়েছেই, পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গি সংগঠন থেকেও মদত আসছে উপত্যকার জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির কাছে।

Comments are closed.