সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩

গলা কাটল ঘুড়ির ধারালো মাঞ্জা সুতো, দিল্লির রাস্তায় মৃত্যু সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের, জখম আরও ছয়

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাইক চালাতে চালাতেই গলায় একটা তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করেন ২৮ বছরের মানব শর্মা। যেন ধারালো ব্লেড চালিয়ে দিয়েছে কেউ গলায়। সেকেন্ডের মধ্যেই গলা চিরে ফালাফালা হয়ে যায়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যু হয় দিল্লির বাসিন্দা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার মানবের। পুলিশ জানিয়েছে, স্বাধীনতা দিবস ও রাখী পূর্ণিমার দিনে দিল্লির মায়াপুরী, দ্বারকা, রোহিনী, পূর্ব ও উত্তরপূর্ব দিল্লি এবং পশ্চিম দিল্লির নানা প্রান্ত থেকে অন্তত ১৫ জনের গলায় চেপে বসেছিল ঘুড়ির মাঞ্জা সুতো। তাঁদের মধ্যে ছ’জনের অবস্থা গুরুতর।

পুলিশের সহকারী ডেপুটি সুপার রাজেন্দ্র সিং সাগর জানিয়েছেন, দুই বোনকে সঙ্গে নিয়ে রাখীর দিনে আত্মীয়ের বাড়ি রোহিনী এলাকায় যাচ্ছিলেন মানব শর্মা। বিকাশপুরী-মীরা বাগের রাস্তায় আচমকাই তাঁর গলা থেকে রক্ত ঝরতে শুরু করে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় বাইক। স্থানীয়দের সাহায্যে মানবকে নিয়ে বালাজি অ্যাকশন হাসপাতালে পৌঁছন তাঁর দুই বোন। চিকিৎসকরা জানান, কাচের গুঁড়ো মাখানো কড়া মাঞ্জা সুতোয় গলা কেটেছে মানবের। কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয় তাঁর।

ডিসিপি জানিয়েছেন, মানবের মৃত্যু কারণ চিনা মাঞ্জা বা দেশীয় কড়া মাঞ্জা সুতো কি না সেটা ময়নাতদন্তের পরেই জানা যাবে। চিনা মাঞ্জা সুতো আগেই নিষিদ্ধ করেছিল প্রশাসন। তার পরেও এই সুতোর বিক্রি চলছে রাজধানীতে। অজ্ঞাতপরিচয় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪এ ও ৩৩৬ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দিল্লির মায়াপুরী এলাকায় এমনই মাঞ্জা সুতোতে গলা কেটেছে ৪৯ বছরের হর সিংয়ের। তাঁর অবস্থা গুরুতর। পুলিশ জানিয়েছে,  উত্তর-পশ্চিম দিল্লি থেকে এমন ঘটনার অভিযোগ এসেছে অসংখ্য।  দিল্লি পুলিশের মুখপাত্র মনদীপ সিং রান্ধওয়ার কথায়, দিল্লির আরও ছ’টি জায়গায় মাঞ্জা সুতোয় জখম হয়েছেন অনেকে। তাঁদের ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে।

চিনা মাঞ্জা কী?

নাইলনের সুতোর উপরে সিন্থেটিক আঠা দিয়ে ধাতু ও কাঁচের গুঁড়ো মাখিয়ে তৈরি হয় চিনা মাঞ্জা। ব্লেডের মতো ধারালো এই মাঞ্জা সুতোর সামান্য ঘষাতেই ফালাফালা হয়ে যেতে পারে চামড়া। গলায় চেপে বসলে প্রাণহানির সম্ভাবনাও রয়েছে। এই ধরনের মাঞ্জা সুতোকে ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক জাতীয় পরিবেশ আদালত। এর বিক্রিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গত এক বছরে উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত, দিল্লিতে একাধিক মৃত্যুর জন্য এই মাঞ্জা সুতোই দায়ী বলে জানা গিয়েছে। এই সুতোর ধারে মারা গিয়েছে বহু পাখিও। সে বিষয়ে চিন্তা প্রকাশ করে জাতীয় পরিবেশ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘পেটা’। চিনা মাঞ্জা তৈরি, বিক্রি, কেনা ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে দেয় জাতীয় পরিবেশ আদালত।

Comments are closed.