বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮

গরু পাচারের অভিযোগে রাস্তায় কান ধরে বসিয়ে ২৪ জনকে বেধড়ক মার, ফের মধ্যপ্রদেশে তাণ্ডব গোরক্ষকদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাঁটু গেড়ে, কান ধরে রাস্তায় সার বেঁধে বসিয়ে রাখা হয়েছে জনা ২৪ জনকে। প্রত্যেকের হাত একে অপরের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বাঁধা। পালিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। মাঝে মাঝেই লোকগুলোর উপর পড়ছে এলোপাথাড়ি লাঠির বাড়ি। শোনা যাচ্ছে হুঙ্কার— ‘জয় শ্রীরাম’। ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুনয় করলেও ভ্রুক্ষেপ নেই তাঁদের ঘিরে দাঁড়ানো দলটির। উল্টে তারা প্রহৃতদের শাসাচ্ছে, ‘বল, গো মাতা কি জয়!’

মে মাসে মধ্যপ্রদেশের সিওনিতে গোমাংস রাখার অভিযোগে রিকশা থেকে টেনে নামিয়ে মারধর করা হয় এক মহিলা ও দুই যুবককে। এ বার ঘটনাস্থল মধ্যপ্রদেশের খাণ্ডওয়া জেলা। গরু পাচারের অভিযোগে প্রায় ২৪ জনকে রাস্তায় কান ধরে বসিয়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল এলাকার স্বঘোষিত গোরক্ষকবাহিনীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনার ভিডিও ভাইরালও করে দেওয়া হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

জেনা পুলিশ সুপার শিবদয়াল সিং জানিয়েছেন, স্থানীয়দের দাবি ২৪ জনের ওই দল নাকি গাড়ি করে মহারাষ্ট্রে গরু পাচারের চেষ্টায় ছিল। তাদের রাস্তা আটকান এলাকার বাসিন্দারাই। খবর পৌঁছে যায় গোরক্ষকদের কানে। লাঠি, বাঁশ নিয়ে প্রায় ১০০ জন যুবক পৌঁছে যান ঘটনাস্থলে। তাঁদের গাড়ি থেকে নামিয়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে কান ধরে বসিয়ে রাখা হয় রাস্তায়। তার পর শুরু হয় এলোপাথাড়ি মার। ঘটনার ভিডিও করতে শুরু করেন একজন।

ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। নির্যাতিতরা খাণ্ডওয়া, সেহোর, দেওয়াস ও হারদা জেলার বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে ছ’জন মুসলিম।

মধ্যপ্রদেশে গোরক্ষকদের তাণ্ডবের এই ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পর  ফিরে এসেছে দাদরি-কাণ্ডের স্মৃতি। ২০১৫-য় উত্তরপ্রদেশের দাদরিতে গোরক্ষকদের মারে প্রাণ হারান মহম্মদ আখলাক।

গত মাসেই হরিয়ানার গুরুগ্রামে গোমাংস পাচারের অভিযোগে দুই ভ্যান চালককে বেধড়ক মারধর করা হয়। অভিযোগ তাঁদের ‘জয় শ্রী রাম’ বলতেও বাধ্য করা হয়েছিল। গত বছর রাজস্থানের আলওয়ারে গরু পাচারকারী সন্দেহে এক জনকে পিটিয়ে মারে স্বঘোষিত গোরক্ষক বাহিনী। ২০১৭-র ৫ এপ্রিল আলওয়ারেই শ-দুয়েক স্বঘোষিত গোরক্ষক পেহলু খান-সহ সাত জনকে বেধড়ক মারধর করে। বাকি ছ’জন প্রাণে বাঁচলেও, মৃত্যু হয় পেহলু খানের। সেই ঘটনার পর দেশজুড়ে তোলপাড় হয়। এমনকী, সংসদেও এ নিয়ে আলোচনা হয়। স্বঘোষিত এই গোরক্ষকদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন বিরোধীরা। সাধারণ মানুষের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়। কিন্তু তার পরও গোরক্ষার নামে গণপিটুনিতে মৃত্যু আটকানো যায়নি। গত দু’বছরে এই ধরনের ঘটনায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

Comments are closed.