শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

চায়ে ঘুমের বড়ি মিশিয়ে অজ্ঞান করে, গলায় দড়ির ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে স্বামীকে খুন স্ত্রী ও তার প্রেমিকের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মৃতদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে চমকে উঠেছিলেন দুঁদে পুলিশ কর্তারা। ভয়ানক আক্রোশ না থাকলে এমন নির্মম ভাবে খুন করা যায় না। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা গেছে, প্রথমে চায়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অজ্ঞান করে দেওয়া হয়। পরে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করতে করতে মারা হয়। মুখে বালিশ বা ওই জাতীয় কিছু চাপা দেওয়ার ছাপও স্পষ্ট।

ঘটনা ১৫ জুলাইয়ের। মুম্বইয়ের রামদেব পার্কের এনজি সিলভার স্প্রিং আবাসনের। মৃতের নাম প্রমোদ (৪৩)। খুনের অভিযোগে প্রমোদের স্ত্রী দীপ্তি পাটানকর (৪০) ও তাঁর প্রেমিক সমাধান উদ্ধভ পাশানকরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন প্রমোদ। তাঁর স্ত্রী ছিলেন গোরেগাঁওয়ের একটি স্কুলের কর্মী। তাঁদের একটি মেয়েও রয়েছে। জেরায় দীপ্তি জানিয়েছেন, সমাধানের সঙ্গে তাঁর আলাপ ২০১৫ সাল থেকে। তিনি পুণের বাসিন্দা। এর আগেও দু’জনে মিলে প্রোমদকে খুন করার চেষ্টা করেছিলেন। চায়ে ঘুমের বড়ি মিশিয়েছিলেন বার দুয়েক। তবে প্রতিবারই বেঁচে যান প্রমোদ।

নভগর থানার পুলিশ সুপার রাম ভালসিং জানিয়েছেন, ঘটনার দিন মেয়েকে নিজের বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দীপ্তি ও সমাধান প্রমোদের চায়ে ঘুমের বড়ি মেশান। অজ্ঞান হয়ে গেলে তাঁকে তুলে আনেন বেডরুমে। এর পরেই শুরু হয় অকথ্য নির্যাতন। প্রমোদের মৃত্যুর পরে তাঁর চায়ের কাপে লিপস্টিকের চিহ্ন এঁকে দেন দীপ্তি। বালিশের নীচে রাখা হয় দু’টি কন্ডোম। এর পর প্রমোদের মোবাইল ও হাজার দুয়েক টাকা নিয়ে পালিয়ে যান দু’জনে।

জেরায় প্রথমে পুলিশকে দীপ্তি জানিয়েছিলেন, প্রমোদের সঙ্গে বহু মেয়ের সম্পর্ক ছিল। সেই থেকেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। তবে দীপ্তির কথায় অনেক অসঙ্গতি দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। আবাসনের সিসিটিভি ফুটেজ ও দীপ্তির মোবাইলের কল লিস্ট চেক করে সমাধানকে পাকড়াও করা হয়। দু’জনেই অপরাধ স্বীকার করেছেন। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩২৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Comments are closed.