রবিবার, সেপ্টেম্বর ২২

ধর্ষণ করতে বাধা কাউন্সিলরকে! বেধড়ক পিটিয়ে, ন্যাড়া করে গ্রামে ঘোরানো হল মা-মেয়েকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯ বছরের সদ্যতরুণীকে গণধর্ষণ করতে এসেছিল দুষ্কৃতীর দল। অভিযোগ, তার পুরোভাগে ছিলেন এলাকার কাউন্সিলর! কিন্তু মেয়েকে গণধর্ষণ থেকে বাঁচিয়ে দেন ৪৮ বছরের মা। বিনিময়ে অবশ্য প্রবল মার খান তিনি। কিন্তু শেষমেশ রুখে দিতে পারেন দুষ্কৃতীদের। সেই ‘অপরাধে’ নির্মম শাস্তি পেতে হল সেই মা-মেয়েকে। অভিযোগ, দু’জনকেই বেধড়ক মারধর করে, মাথা ন্যাড়া করে ঘোরানো হয়েছে গোটা গ্রাম।

বুধবার বিহারের বৈশালী জেলার ভগবানপুর এলাকার এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সকলে। মা-মেয়ের উপরে নৃশংস অত্যাচারের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই নিন্দায় সরব হন সকলে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ৭ জনের মধ্যে চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এক জন মূল অভিযুক্ত, এলাকার কাউন্সিলর মহম্মদ খুরশিদ। অভিযোগ, তারই নেতৃত্বে মেয়েটির বাবার অবর্তমানে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। একদল লোক ওই তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। তাতে সর্ব শক্তি দিয়ে বাধা দেন তাঁর মা। যদিও তাঁকে বেধড়ক মার খেতে হয়।

ভগবানপুর থানার অফিসার সঞ্জয় কুমার জানিয়েছেন, ঘটনাটি সত্যি বলেই জেনেছেন তাঁরা। সেই মতো সক্রিয় হয়েছে পুলিশ। গ্রেফতারও হয়েছে অভিযুক্তরা। তিনি জানান, ৪৮ বছরের ওই মা-কে মারধরের পর তাঁদের বাড়ি ছেড়ে চলে যায় অভিযুক্তরা। পরে তারা ফের ফিরে আসে, সঙ্গে এক নাপিতকে নিয়ে। জোর করে মা ও মেয়ের মাথা ন্যাড়া করে সারা গ্রামে ঘোরায় তারা।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধে সাড়ে ছ’টা নাগাদ আচমকাই হামলা করা হয় ওই মা-মেয়ের উপরে। কাউন্সিলর খুরশিদ দলবল নিয়ে এসে দাবি করে, তাঁরা নাকি অবৈধ ভাবে মাংস বিক্রির ব্যবসা করছে।

অভিযোগ, গোটা ঘটনায় নীরব থাকতে দেখা গিয়েছে প্রতিবেশীদের। সন্ধের পরে সাহস সঞ্চয় করে পুলিশে অভিযোগ জানান মা ও মেয়ে। মেয়েটির অভিযোগ, স্থানীয় কাউন্সিলর মহম্মদ খুরশিদ কয়েক মাস ধরেই তাঁকে বিরক্ত করছে। মা ও মেয়ে দু’জনের শরীরেই হেনস্থার ক্ষত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পুলিশের কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে রাজ্য মহিলা কমিশনও।

Comments are closed.