শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

সাত সকালে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল বহুতল, মহারাষ্ট্রের ভিওয়ান্ডিতে মৃত ২, ধ্বংসস্তুপে আটকে অনেকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জরাজীর্ণ বাড়িটা যে কোনও দিন ভেঙে পড়বে এমন আশঙ্কাই করেছিলেন বাসিন্দারা। পুরসভার কর্মীদের সাহায্যে বাড়ি খালি করার কাজও চলছিল। দুর্ঘটনা ঘটে গেল তারই মধ্যে। বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময়েই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল চার তলা বাড়িটি। মাথার উপর কংক্রিটের চাঙড় ভেঙে পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হল দু’জনের। মহিলা ও শিশু-সহ চার জনকে উদ্ধার করা গেলেও,  ধ্বংসস্তুপের ভিতর ১০-১২ জনের আটকে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মহারাষ্ট্রের ভিওয়ান্ডিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে শনিবার সকালে। ওই আবাসনে মোট ২২টি পরিবার বাস করত। ঘটনার সময় ওই আবাসনটি ফাঁকা করার কাজ চলছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ব্যাগ-পত্তর গুছিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসছিলেন বাসিন্দারা। সেই সময় কয়েকজন তাঁদের জিনিসপত্র নিতে ফের বাড়ির ভিতর ঢোকেন। আর তখনই বহুতলটি ধসে পড়ে। যাঁরা ভিতরে ঢুকেছিলেন তাঁদের মধ্যেই দু’জনের মৃত্যু হয়। আটকে পড়েন আরও অনেকে। মৃতের সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারী দল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চোখের সামনেই হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে বাড়িটি। চার দিকে তখন কংক্রিটের চাঙড়, ধুলো-কাদার আস্তরণ আর তালগোল পাকিয়ে যাওয়া ধাতব কাঠামোর স্তূপ। আর্তনাদ শোনা যায় মানুষজনের। স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)। পৌঁছয় পুলিশও। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ। দ্রুত আশপাশের বাড়িগুলিও খালি করে দেওয়া হয়। আহতদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় হাসপাতালে।

ভিওয়ান্ডি-নাজিমপুর মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের কমিশনার অশোক র‍্যাঙ্কাম জানিয়েছেন, চার জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের দ্রুত উদ্ধার করা হবে। তাঁর কথায়, “বাড়িটা মাত্র আট বছরের পুরনো। কিন্তু এর মধ্যেই বাড়ির নানা অংশ ধসে পড়তে শুরু করেছিল। বাসিন্দারাই অনেকদিন ধরেই অভিযোগ করছিলেন। আবাসন ফাঁকা করার কাজ শুরু করেছিলাম আমরা। কয়েকজন অনুমতি না নিয়েই হঠাৎ করে বাড়ির ভিতরে ঢুকে যান, আর সেই সময়েই দুর্ঘটনা ঘটে যায়।”

আট বছরের পুরনো ওই আবাসনটি ভেঙে পড়ার দায় কার সে নিয়ে শুরু হয়েছে চাপান-উতোর।  স্থানীয়দের অভিযোগ, জরাজীর্ণ বাড়িটি সারানোর জন্য বহু বছর ধরে তাঁরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছেন। তবু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এলাকায় এমন আরও জীর্ণ বাড়ি রয়েছে, বর্ষায় সেগুলি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

Comments are closed.