মধ্যপ্রদেশে রিলায়েন্সের পাওয়ার প্ল্যান্টে দুর্ঘটনা, মৃত অন্তত ২, নিখোঁজ ৪

এক বছরে এই ধরনের ঘটনা এই নিয়ে তিনবার ঘটল। এর আগে ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কর্পোরেশন লিমিটেডের এসার প্ল্যান্টে একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছিল। তখনও গাফিলতির অভিযোগ উঠেছিল সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশের সিংগ্রাউলিতে রিলায়েন্সের পাওয়ার প্ল্যান্টে দুর্ঘটনা। কয়লা চালিত এই পাওয়ার প্ল্যান্টের টক্সিক বর্জ্য যেখানে ধরে রাখা হয়, সেখানে ফাটল দেখা দেয়। দুর্ঘটনার কবলে পড়ে দু’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। তার মধ্যে একজন শিশুও আছে। এই দুর্ঘটনায় চারজন নিখোঁজ বলেও খবর।

    জানা গিয়েছে, মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপাল থেকে ৬৮০ কিলোমিটার দূরে এই সিংগ্রাউলিতে এক বছরের মধ্যে এই নিয়ে তৃতীয়বার এই ধরনের গ্যাস লিক করে দুর্ঘটনা ঘটল। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দলের ৩০ কর্মী গিয়ে পৌঁছন। তাঁরা উদ্ধারকাজ শুরু করেছেন।

    সিংগ্রাউলির জেলাশাসক কেভিএস চৌধরী জানিয়েছেন, “এখনও পর্যন্ত আট বছরের এক শিশু ও ৩৫ বছরের এক ব্যক্তির দেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও চারজন নিখোঁজ। তাদের মধ্যে ওই মৃত শিশুর বোন, তার মা এবং মৃত ব্যক্তির ছেলেও রয়েছে। আমরা আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করছি, যাতে নিখোঁজদের খুঁজে বের করা যায়। এই টক্সিকের কোপে চাষের জমি ও ফসলও নষ্ট হয়েছে। এখনও পর্যন্ত দু’জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”

    এই দুর্ঘটনার ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে কীভাবে এই টক্সিক বর্জ্য চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। তার কবলে পড়ে জমি ও ফসল নষ্ট হচ্ছে।

    রিলায়েন্স পাওয়ারের তরফে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “টক্সিক বর্জ্য যেখানে থাকে, সেখানে ফাটল ধরায় এই দুর্ঘটনা হয়েছে। ফলে কিছু ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এই ঘটনার পিছনে কেউ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধারকাজের মধ্যেই পাওয়ার প্ল্যান্টের কাজ চলবে।”

    এই দুর্ঘটনার পরে রিলায়েন্স পাওয়ার প্ল্যান্টের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সন্দীপ নামের এক বাসিন্দার অভিযোগ, “তিন মাস আগে আমরা এই পাওয়ার প্ল্যান্টের বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলাম। তখনও এই টক্সিক বর্জ্য রাখার জায়গায় লিক হয়েছিল। কোম্পানি আমাদের লিখিত বয়ান দিয়েছিল, এই ধরনের ঘটনা আর কোনও দিন হবে না। জেলাশাসক নিজে সবটা খতিয়ে দেখে বলেছিলেন, দুর্ঘটনার কোনও সম্ভাবনা নেই। প্রশাসনের গাফিলতিতেই এই দুর্ঘটনা হয়েছে। হাজার হাজার একর জমি নষ্ট হল। দু’জন মারা গেল। ফসল নষ্ট হল। স্থানীয় প্রশাসন ও পাওয়ার প্ল্যান্টের সিইও-র বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হওয়া উচিত।”

    এক বছরে এই ধরনের ঘটনা এই নিয়ে তিনবার ঘটল। এর আগে ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কর্পোরেশন লিমিটেডের এসার প্ল্যান্টে একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছিল। তখনও গাফিলতির অভিযোগ উঠেছিল সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More