রবিবার, আগস্ট ১৮

অটোর ভিতরে নাগাড়ে চড়-থাপ্পড়, শ্লীলতাহানি, ক্ষতবিক্ষত তরুণীকে রাস্তায় ফেলে পালাল দুষ্কৃতীরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাড়ির রাস্তা না ধরে ভিন্ রাস্তায় অটোর মুখ ঘোরাতেই সন্দেহ হয়েছিল তরুণীর। তার দু’পাশে তখন ঠেসে বসেছে দুই যাত্রী। সামনে চালকের পাশে আরও একজন। চিৎকার করার আগেই চেপে ধরা হয় তরুণীর মুখ। তারপর শুরু হয় নির্যাতন। টাকা পয়সা কেড়ে নিয়ে অজ্ঞান অবস্থায় রাস্তার ধারেই তরুণীকে ফেলে পালায় অটো।

ঘটনা গাজিয়াবাদের। এক মাস আগে এখানেই অটোরিক্সার ভিতরে ছিনতাইবাজদের কবলে পড়েন বছর ত্রিশের এক দন্ত চিকিৎসক। ধরপাকড়ের পরেও ফের একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি।

নির্যাতিতা তরুণী দিল্লি ইউনিভার্সিটির ছাত্রী। জানিয়েছেন, রাত তখন সোয়া ১০টা। ইলেকট্রনিক সিটি মেট্রো স্টেশনের কাছ থেকে অটোয় উঠেছিলেন তিনি। ইন্দিরাপুরমে তাঁর বাড়ি। অটোয় যখন তিনি চাপেন, ভিতরে একজনই যাত্রী ছিল। বছর কুড়ির একটি ছেলে। সেই ভিতরে বসতে বলে তরুণীকে। অটো চলতে শুরু করার মিনিট খানেক বাদেই ওঠে আরও দু’জন। একজন বসে তরুণীর পাশে, অন্যজম সামনে অটোচালকের পাশের সিটে।

তরুণীর বাড়ির পথ মোহন নগরের রাস্তা না ধরে আচমকাই অটো বাঁক নেয় বিজয় নগরের দিকে। নির্যাতিতার কথায়, তিনি চালককে বার বার বললেও সে কথা কানে তুলছিল না। আশপাশের যাত্রীদের হাবভাবও বদলাচ্ছিল ধীরে ধীরে। নিজেদের মধ্যে অশ্লীল কথা বলতে শুরু করেছিল তারা। হঠাৎই একজন চেপে ধরে তরুণীর মুখ। অন্যজন তরুণীর শরীর ছোঁয়ার চেষ্টা করতে থাকে। বাধা দিলে তারা নির্বিচারের চড়-থাপ্পড় মারতে থাকে। তরুণী জানিয়েছেন, একজন ছুরি দেখিয়ে পুলিশকে কিছু না জানানোর জন্য হুমকি দেয়। ব্যাগের ২০০ টাকা কেড়ে নিয়ে জখম অবস্থায় তাঁকে ফেলে দেয় রাস্তার ধারে। সেখান থেকে কোনও মতে বাড়ি ফেরেন তিনি।

এসএসপি উপেন্দ্র কিশোর আগরওয়াল জানিয়েছেন, গাজিয়াবাদের সিআইএসএফের কাছের রাস্তা ছিনতাইবাজদের উপদ্রব অনেক বেড়ে গেছে। বিশেষত রাতের দিকে অটোগুলিতেই এমন ঘটনা ঘটছে। পুলিশের শাসানিতেও কাজ হয়নি। আততায়ীদের খোঁজ চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৯৪ ও ৩৫৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Comments are closed.