কোভিড পজিটিভ ১৭৩ শিখ তীর্থযাত্রী, মহারাষ্ট্র থেকে পঞ্জাবে ফিরেছিলেন তাঁরা

তীর্থযাত্রীদের মধ্যে কোভিড ১৯ ভাইরাস পাওয়া যাওয়ার পরে নান্দেদের হাজুর সাহিব গুরুদ্বারকে সম্ভাব্য করোনা হটস্পট বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। অবশ্য গুরুদ্বার কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী সামাজিক দূরত্ব পালন করা হয়েছিল। কিন্তু তার আগেই সংক্রমণ ছড়িয়ে থাকতে পারে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: পঞ্জাবে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেল। মহারাষ্ট্র থেকে ফেরার পরে ১৭৩ জন শিখ তীর্থযাত্রীর নমুনা পরীক্ষায় কোভিড ১৯ পজিটিভ এল। এই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চিন্তায় পড়েছে পঞ্জাব প্রশাসন।

    জানা গিয়েছে, করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে লকডাউন হওয়ায় মহারাষ্ট্রের নান্দেদে হাজুর সাহিবে আটকে পড়েছিলেন এই শিখ তীর্থযাত্রীরা। ২২ এপ্রিল থেকে অনুমতি নিয়ে পঞ্জাবে ফেরা শুরু করেন তাঁরা। কিন্তু রাজ্যে ফিরলেও পাঁচ দিন পরে তাঁদের কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে খবর।

    পঞ্জাবের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলবীর সিং সিধু এই ঘটনার জন্য বিরোধী আকালি দলের দিকে তোপ দেগেছেন। তাঁর অভিযোগ, এই তীর্থযাত্রীদের ঠিকমতো কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়নি। এমনকি মহারাষ্ট্রের শিবসেনা সরকারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছেন তিনি। সেখানে যদিও জোট সরকারে তাঁর নিজের দল কংগ্রেসও রয়েছে।

    বলবীর সং সিধুর বক্তব্য, “মহারাষ্ট্র সরকার এই তীর্থযাত্রীদের কোনওরকমের সাহায্য করেনি। নিজেদের ব্যবস্থা তাঁদেরই করে নিতে হয়েছিল। এমনকি তীর্থযাত্রীদের নমুনা পরীক্ষাও করেনি মহারাষ্ট্র সরকার।”

    অন্যদিকে আকালি দল এই ঘটনার দায় নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি করেছে। তাদের অভিযোগ, পঞ্জাবে আসার পরে এই তীর্থযাত্রীদের নমুনা পরীক্ষার ব্যাপারে কোনও নির্দেশিকা দেননি তিনি।

    জানা গিয়েছে, লকডাউনের ঠিক আগে পঞ্জাব থেকে প্রায় ৪০০০ শিখ তীর্থযাত্রী নান্দেদে গিয়েছিলেন। ২৫ মার্চ লকডাউন হওয়ায় তাঁরা আটকে পড়েন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অনুমতির পরে ৩৫০০-র উপর তীর্থযাত্রী পঞ্জাবে ফিরেও গিয়েছেন। তাঁদের মধ্যেই এই আক্রান্তদের খোঁজ মিলেছে।

    আরও পড়ুন ১০ হাজার ট‌পকে গেল মহারাষ্ট্রের আক্রান্ত, মুম্বইতে বাড়তে পারে লকডাউন

    পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, তাঁর রাজ্যে করোনা আক্রান্তদের বেশিরভাগই নিজামুদ্দিনের মসজিদে তবলিঘি জামাতের জমায়েত ও নান্দেদে যাওয়া শিখ তীর্থযাত্রীদের থেকেই হয়েছে। এই মন্তব্যের জন্য অনেকেই তাঁর সমালোচনা করেছেন।

    এই ঘটনার পরে পঞ্জাবের মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ মিনিস্টার ওম প্রকাশ সোনি জানিয়েছেন, “আমরা বুঝতে পারিনি এত বেশি সংখ্যায় করোনা আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া যাবে। আরও ৩০০ তীর্থযাত্রীর নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। আমরা এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের জনগণকে ভয় না পেয়ে বাড়িতে থাকার আর্জি জানাচ্ছি। আমাদের এই লড়াই জিততেই হবে।”

    তীর্থযাত্রীদের মধ্যে কোভিড ১৯ ভাইরাস পাওয়া যাওয়ার পরে নান্দেদের হাজুর সাহিব গুরুদ্বারকে সম্ভাব্য করোনা হটস্পট বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। অবশ্য গুরুদ্বার কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী সামাজিক দূরত্ব পালন করা হয়েছিল। কিন্তু তার আগেই সংক্রমণ ছড়িয়ে থাকতে পারে।

    এই মুহূর্তে পঞ্জাবে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫৩৯। তার মধ্যে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More