মঙ্গলবার, জুন ২৫

১৪ বছরের মেয়েকে স্কুলে গণধর্ষণের পর ৬ দিন ধরে লঙ্কা খাইয়ে প্রায়শ্চিত্তের চেষ্টা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক সপ্তাহ ধরে লঙ্কা আর পেঁপেই ওর খাবার ছিল। কারণ, ও গর্ভবতী। একটা ঘরে বন্দি করে রেখে ওকে নানা রকম লতাপাতাও খাওয়ানো হয়েছে যাতে বমি করে করে গর্ভপাত হয়ে যায়। এমনই নৃশংস ঘটনার খবরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দেরাদুনের এক বোর্ডিং স্কুলকে কেন্দ্র করে। পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে দিনের পর দিন চলে নৃশংস অত্যাচার।

স্কুলের সুনাম বজায় রাখতে হবে। রাখতেই হবে। সেই কারণে স্কুলের উদ্যোগেই মেয়েটির উপরে এমন অত্যাচার চলেছে বলে খবর। ২০১৮ সালের ১৪ অগস্ট গণধর্ষণের শিকার হয় ওই মেয়েটি। ধর্ষণ করে স্কুলেরই দ্বাদশ শ্রেণির এক দল ছাত্র। স্কুলের লজ্জা ঢাকতে মরিয়া কর্তৃপক্ষ কী কী করেছিল তা এখন প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।

সেই সময়ে স্বাধীনতা দিবসের রিহার্স্যাল চলছিল স্কুলে। সন্ধ্যার পরে গানের দিদিমণি ডাকছে বলে চার ছাত্র ওই মেয়েটিকে ডেকে নিয়ে যায়। ধর্ষণ চালায়। ওরা ভেবেছিল লাজুক স্বভাবের মেয়েটি কাউকে নালিশ করবে না। কিন্তু ঘটনা চাপা থাকে না মেয়েটি গর্ভবতী হওয়ার পরে।

সেই বছরই ১৬ সেপ্টেম্বর চার ছাত্র (দু’জন নাবালক), স্কুলের ডিরেক্টর লতা গুপ্ত, প্রিন্সিপ্যাল জিতেন্দ্র, হোস্টেল ওয়ার্ডেন মঞ্জু ও অ্যাডমিনিস্ট্রেটর দীপক মালহোত্রা ও তাঁর স্ত্রী হোস্টেল ইনচার্জ তানু মালহোত্রাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একটি শিখ ট্রাস্ট পরিচালিত স্কুলটির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে সিবিএসই। তবে রাজ্যে শিক্ষা দফতরের অধীনে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুল চালু থাকে। বন্ধ হয়ে যায় স্কুলের হোস্টেল।

গত আট মাস ধরে চলছে বিচার প্রক্রিয়া। আর সেই সময়ে অভিযুক্ত ও আক্রান্তের বয়ান থেকে উঠে এসেছে মারাত্মক সব কাহিনি। জানা গিয়েছে, ঘটনা যাতে জানাজানি না হয় সেটা দেখতে অভিযুক্ত চার ছাত্র স্কুলের অন্য ব্রাঞ্চে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। স্কুল ছাত্রদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে দেখে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয় মেয়েটি।

পুলিশের তদন্তকারী অফিসার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ধর্ষণের পরে মেয়েটি নিজের হোস্টেলে ফিরে আসে এবং ওয়ার্ডেনকে জানায়। কিন্তু ওয়ার্ডেন তানু মালহোত্রা গোটা ঘটনা শুনে মেয়েটিকেই দোষারোপ করেন। সে নিশ্চয়ই ছাত্রদের উস্কেছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। মেয়েটি গর্ভবতি জানার পরে স্কুলের পক্ষে শুরু হয় নৃশংশ অত্যাচার।

পুলিশ জানিয়েছে, ৯ সেপ্টেম্বর স্কুলের উদ্যোগে প্রেগন্যান্সি টেস্ট হয়। পজেটিভ জানার পরে শুরু হয় গর্ভপাতের চেষ্টা। চলে তানু মালহোত্রার টোটকা চিকিৎসা। কাঁচা পেঁপে, প্রচুর লঙ্কা আর লতাপাতার রস খাওয়ানো হতে থাকে ছ’দিন ধরে। সপ্তম দিনে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পরে মেয়েটি। তার পরেই নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় একটি ক্লিনিকে। স্কুলের পক্ষে লতা গুপ্ত ও দীপক মালহোত্রা মা-বাবা সেজে ক্লিনিকে যান। বলেন, মেয়ের অনিয়মিত ঋতুস্রাব হচ্ছে। চিকিৎসক আলট্রাসাউন্ড করতে বললেও ধরা পড়ার ভয়ে তা করা হয়নি।

এত কিছু সত্বেও ওই মেয়ের অভিভাবকদের কোনও খবরই দেয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ। পরে হাসপাতালের থেকে সব জানতে পেরে মেয়েটিকে উদ্ধার করে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি। তারাই বাড়িতে খবর দেয়।

Comments are closed.