অনলাইনে ক্লাস করতে ফোন চুরি! কিশোরকে ধরে মোবাইল কিনে দিল পুলিশ

কোভিড পরিস্থিতিতে অনলাইন শিক্ষাই এখন পঠনপাঠনের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। কিন্তু অভাবের কারণে স্মার্ট ফোন কেনা হচ্ছিল না চেন্নাই কর্পোরেশন স্কুলের এক ছাত্রের। অগত্যা পড়ার তাগিদেই ফোন চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ল সে।

৩৩

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অভাবের তাড়নায় দু’বেলা পেট ভরে খাওয়াই যে পরিবারে মহার্ঘ্য, সেই পরিবারে পড়াশুনার জন্য স্মার্ট ফোন বিলাসিতাই বটে!

কোভিড পরিস্থিতিতে অনলাইন শিক্ষাই এখন পঠনপাঠনের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। কিন্তু অভাবের কারণে স্মার্ট ফোন কেনা হচ্ছিল না চেন্নাই কর্পোরেশন স্কুলের এক ছাত্রের। অগত্যা পড়ার তাগিদেই ফোন চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ল সে।

দু’দিন আগে চেন্নাই সেন্ট্রাল অঞ্চলে নিজের পাড়াতে একটি দোকান থেকে মোবাইল হাতাতে গিয়ে ধরা পড়ে ওই কিশোর। স্থানীয়রাই তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এর পর পুলিশের প্রশ্নের মুখে আসল কথা কবুল করে ওই কিশোর।

সে জানিয়েছে, তার বাবা একটি বিস্কুটের দোকানে কাজ করে। মা পরিচারিকার কাজে যুক্ত। স্কুলের পড়ার জন্য মোবাইল.না পেয়েই সে মোবাইল চুরি করতে গিয়েছিল। এরপরই ওই ছাত্রকে শাস্তি না দিয়ে একটি স্মার্ট ফোন কিনে দেন এক পুলিশকর্মী। তাকে বলা হয়েছে, পড়াশুনা করতে যা সমস্যা হবে পুলিশকে বলতে। কিন্তু সতর্ক করে.দেওয়া হয়েছে, এরপরও যদি সে চুরির পথে হাঁটে তাহলে কড়া শাস্তি পেতে হবে।

অনেকের মতে বহু দরিদ্র, নিম্নবিত্ত পরিবারে স্মার্ট ফোন কেনার সঙ্গতি নেই। ফলে বহু ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে। একটি সমীক্ষায় গত জুলাই মাসে দাবি করা হয়েছিল, এই অনলাইন ব্যবস্থা অর্থনৈতিক অনগ্রসর পরিবারের ছেলেমেয়েদের স্কুলছুট করতে বাধ্য করবে। যা আগামী দিনে শিক্ষাক্ষেত্রে বড় সংকট তৈরি করবে। অনেকের মতে, চেন্নাইয়ের এই ঘটনাও যেন সেই ইঙ্গিতই দিয়ে গেল!

ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকাল অর্গানাইজেশনের আগের সমীক্ষাগুলিতে দেখা গিয়েছিল, আট থেকে দশ বছর বয়সী বেশিরভাগ শিশুই স্কুলছুট হচ্ছে। এর কারণ হয়তো অনেক। পথের দূরত্ব, বিনা পয়সার স্কুলে সন্তানদের পাঠাতেও গরিব পরিবারগুলির যথেষ্ট খরচ হয়। বেশিরভাগই মনে করে  পড়াশোনার বদলে শিশুটি রোজগার করলে পরিবারের লাভ হবে।  সমীক্ষা বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে, স্কুলে পড়াশোনার গড়পড়তা হার এখনও বেশ কম। তাই বাচ্চাদের স্কুলমুখো করতে সরকারি ব্যবস্থায় মিড ডে মিলের লোভ দেখানো হয়, কিন্তু সেখানেও অনেক গলদ। জীর্ণ স্কুলবাড়ি, শিক্ষক না এলেও গ্রামের পরিবারগুলো প্রতিবাদ করে না। গরিব শিশুরা নিয়মিত স্কুল যায় না, অনেকেই স্কুল ছেড়ে দেয় প্রাথমিকের গণ্ডি না পেরোতেই। যে ক’দিন স্কুলে আসে তখনও যে পড়াশোনায় খুব আগ্রহ দেখায়, এমনও নয়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More