সোমবার, আগস্ট ১৯

২৪ ঘণ্টায় আরও ১২, বানভাসি অসমে মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ৬২, বিপন্ন ৪৪ লক্ষ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাড়ছে বৃষ্টির বেগ, ফুঁসে উঠছে নদী, বাড়ছে জলস্তর, আর সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যু মিছিল। শনিবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২ জনে। রাজ্যের প্রায় ৩৩টি জেলা জলের তলায়। বিপন্ন অন্তত ৪৪ লক্ষ মানুষ। এখনই পরিস্থিতি উন্নতির সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর , বরং আগামী ২৪ ঘণ্টায় অবিরাম বৃষ্টি চলবে এবং তাতে জলস্তর আরও বাড়তে পারে।

অসম রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, জলের নীচে চলে গিয়েছে বাকসা, হোজাই ও মাজুলির জেলার ৩ লক্ষ ৭৮ হাজার ৫৯২ একর চাষযোগ্য জমি। জলের তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মোরিগাঁও, বারপেটা, দক্ষিণ সালমারা, নলবাড়ি, ধুবরি, করিমগঞ্জ, শিবসাগর, হেইলাকান্দি জেলা। ব্রহ্মপুত্রের জল প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটির অবস্থাও খারাপ। এ ছাড়া রাজ্যে যে আরও ১০ নদী রয়েছে, সবার জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে।

বন্যার জলে ভেসে গেছে গ্রামের পর গ্রাম। প্রায় ২ লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া। ৬৮৯ টি শরণার্থী শিবিরে আর ঠাঁই নেই। নতুন ২৪০টি শিবির বানানো হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে।

বন দফতর সূত্রে খবর,  কাজিরাঙা অভয়ারণ্যের ৪৩০ বর্গ কিলোমিটার এলাকার নব্বই শতাংশই জলের তলায়। টানা বৃষ্টিতে গত ১৩ জুলাই থেকে প্রায় ১২৯টি পশুর মৃত্যু হয়েছে। প্রাণ গেছে ১০টি গন্ডার ও একটি হাতির। জল থেকে বাঁচতে অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গার দিকে রওনা দিয়েছে তারা। বেশিরভাগই বেরিয়ে আসছে জনবসতি এলাকায়। ফলে জন্তুদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হিমশিম খাচ্ছে বন দফতর।এমন অবস্থায় চোরাশিকারিদের উপদ্রব কমাতে শতাধিক বন দফতরের কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরকেও তৈরি থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল। বিভিন্ন জায়গায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা কাজ করছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। এ ছাড়া গবাদি ও বন্য পশুদের জন্য ভেটারনারি হাসপাতালগুলিকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Comments are closed.