লকডাউনে গত মাসে ১২ কোটি ভারতীয় কাজ হারিয়েছেন, দাবি গবেষণায়

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণ রুখতে লকডাউন চলছে দেশে। কিন্তু এই লকডাউনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতিতে। ইতিমধ্যেই এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে আর্থিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বিশ্ব ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫ কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্য সীমায় পৌঁছে গিয়েছেন। তার মধ্যে ভারতেই রয়েছেন ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ। গত এক মাসে দেশে ১২ কোটি ভারতীয় কাজ হারিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

    সেন্টার ফর মনিটারিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি নামের একটি বেসরকারি সংস্থা এই তথ্য দিয়েছে। তাদের তরফে জানানো হয়েছে ১২ কোটি ২০ লক্ষ ভারতীয় গত এক মাসে কাজ হারিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই হকার, নির্মাণ কাজে যুক্ত শ্রমিক, রিকশা চালক, রাস্তার পাশে দোকান নিয়ে বসা বিক্রেতা প্রভৃতি।

    ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সিটির তরফে একটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, এই লকডাউনের ফলে বিশ্ব ব্যাঙ্কের তরফে চিহ্নিত দারিদ্র্য সীমার নীচে নতুন করে প্রায় ১১ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষ পৌঁছে যাবে। বিশ্বজুড়ে এই সংখ্যাটা ৬০ শতাংশ অর্থাৎ ৮১ কোটি ২০ লক্ষ থেকে ৬৮ শতাংশ অর্থাৎ ৯২ কোটিতে পৌঁছে যাবে। এই পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। এর আগে প্রায় এক দশক আগে এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিল পৃথিবী।

    শিকাগো বুথ’স রুস্টান্ডি সেন্টার ফর সোশ্যাল সেক্টর ইনোভেশন নামের একটি সংস্থা জানিয়েছে, লকডাউনের পর থেকে ভারতের ৮০ শতাংশের বেশি পরিবারের রোজগার কমেছে। কোনও রকমের সাহায্য ছাড়া তাঁদের পক্ষে বেশিদিন সংসার চালানো মুশকিল। এপ্রিল মাস থেকে ভারতের ২৭ রাজ্যের ৫৮০০ বাড়িতে সার্ভে করে পাওয়া গিয়েছে এই তথ্য।

    আরও পড়ুন লকডাউন ৪-এর পর কী, পথ খুঁজতে চূড়ান্ত ব্যস্ততা প্রধানমন্ত্রীর দফতরে

    সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, “লকডাউনের আগে মাথাপিছু রোজগার, লকডাউনের প্রভাব এবং তার ফলে বিভিন্ন সংস্থার তরফে সাহায্যের ভিত্তিতে এই বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গিয়েছে, ২৫ মার্চ থেকে লকডাউন ঘোষণা করার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ১০ কোটির বেশি মানুষ কাজ হারিয়েছেন। তাঁরা বেশিরভাগই দৈনিক মজুরি ও চুক্তিভিত্তিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।”

    এই গবেষণা করে রিপোর্ট দিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো বুথ স্কুল অফ বিজনেসের অর্থনীতির অধ্যাপক মেরিন বারট্রান্ড, সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি প্রাইভেট-এর চিফ ইকনমিস্ট কৌশিক কৃষ্ণণ ও প্যারেলমান স্কুল অফ মেডিসিনের এক অধ্যাপক।

    এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৩৪ শতাংশ পরিবারের অবস্থা এতটাই খারাপ, যে তারা কোনও সাহায্য না পেলে এক সপ্তাহের বেশি নিজেদের জীবনধারণ করতে পারবে না। ভারতে রোজগারের একটা পরিমাপ করে এই আর্থিক ক্ষতির একটা তালিকাও করা হয়েছে। সেটি হল-

    • যাঁদের রোজগার মাসে ৩৮০১ টাকার কম তাঁদের মধ্যে ৮৪ শতাংশ পরিবারের রোজগার কমেছে।
    • যাঁদের রোজগার মাসে ৩৮০১ টাকা থেকে ৫৯১৪ টাকা তাঁদের মধ্যে ৯২ শতাংশ পরিবারের রোজগার কমেছে।
    • যাঁদের রোজগার মাসে ৫৯১৪ টাকা থেকে ৮১৪২ টাকা তাঁদের মধ্যে ৯৩ শতাংশ পরিবারের রোজগার কমেছে।
    • যাঁদের রোজগার মাসে ৮১৪২ টাকা থেকে ১২৩৭৪ টাকা তাঁদের মধ্যে ৮৫ শতাংশ পরিবারের রোজগার কমেছে।
    • যাঁদের রোজগার মাসে ১২৩৭৪ টাকা থেকে ১,০১,৯০২ টাকা তাঁদের মধ্যে ৬৬ শতাংশ পরিবারের রোজগার কমেছে।

    এই তথ্যে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, যেসব পরিবারের মাসিক রোজগার বেশি, তাঁদের ক্ষতি কম হয়েছে। তার কারণ হল, তাঁরা সরকারি চাকরি বা অন্য কোনও স্থিথিশীল কাজে যুক্ত। ফলে এই সময়ের মধ্যেও কাজ চালিয়ে রোজগার করতে তেমন সমস্যা হয়নি তাঁদের। কিন্তু যাঁদের প্রতিদিনের হিসেবে কিংবা চুক্তির হিসেবে কাজ, তাঁদের সমস্যা সবথেকে বেশি হয়েছে।

    লকডাউনের এই প্রভাব কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকারের ক্ষেত্রে প্রতিকূল পরিস্থিতি আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে গবেষণায়। কারণ প্রথমবার গরিব মানুষদের উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়েই ক্ষমতায় এসেছিলেন মোদী। পরের বার গরিব মানুষদের উদ্দেশে তাঁর সরকারের সরাসরি কিছু প্রকল্প যেমন বিনামূল্যে গ্যাস, কৃষকদের ও মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ভাতা, বাড়ি তৈরির ভাতা প্রভৃতি কাজের ফলে আরও বেশি ভোট পেয়ে ক্ষমতায় আসেন তিনি। কিন্তু এই লকডাউনের ফলে বেকারত্ব ও ভারতে দারিদ্র্যের হার বাড়তে থাকলে তা মোদী সরকারের বিরুদ্ধে যেতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More