রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫

মোদী সরকারের ১০০ দিনে সাড়ে ১২ লক্ষ কোটি টাকা উধাও বাজার থেকে!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ৩০ মে দ্বিতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসে মোদী সরকার। তার পরের ১০০ দিনে বার বার ধস নেমেছে শেয়ার বাজারে। বিনিয়োগকারীরা হারিয়েছেন ১২ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকা। সোমবার বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন, অর্থাৎ বিএসই-তে নথিভুক্ত কোম্পানিগুলির মোট মূল্য ছিল ১৪১, ১৫, ৩১৬. ৩৯ কোটি টাকা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার আগের দিন ওই মূল্য ছিল ১৫৩, ৬২, ৯৩৬. ৪০ কোটি টাকা।

৩০ মে-র পর থেকে সেনসেক্সের পতন হয়েছে ৫.৯৬ শতাংশ বা ২৩৫৭ পয়েন্ট। নিফটি ফিফটি ইনডেক্সের পতন হয়েছে ৭.২৩ শতাংশ বা ৮৫৮ পয়েন্ট। গত কয়েক মাসে আর্থিক বিকাশের গতি ধীর হয়ে গিয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অনেকে বিনিয়োগ করা অর্থ বাজার থেকে তুলে নিয়েছেন। কর্পোরেট সংস্থাগুলির উপার্জনও কমে গিয়েছে। এই সব কারণে শেয়ার সূচক ক্রমশ নামছে।

দ্বিতীয় এনডিএ সরকারের পক্ষ থেকে প্রথমবার বাজেট পেশ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ওপরে সুপার রিচ ট্যাক্স বসিয়েছিলেন। এর ফলে অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী এদেশের বাজার থেকে সরে যেতে থাকেন। কয়েক মাস পরে সুপার রিচ ট্যাক্স প্রত্যাহার করা হয়।

ন্যাশনাল সিকিউরিটিজ ডিপোজিটারি লিমিটেডের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, দ্বিতীয় এনডিএ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে ফরেন পোর্টফোলিও ইনভেস্টাররা ২৮, ২৬০. ৫০ কোটি টাকার শেয়ার বেচে দিয়েছেন।

আইডিবিআই ক্যাপিটালের রিসার্চ দফতরের প্রধান এ কে প্রভাকর বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই বাজারে মন্দা দেখা গিয়েছিল। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে লং টার্ম ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স ও ডিভিডেন্ড ডিস্ট্রিবিউশন ট্যাক্স চালু করা হয়। এর ফলে শেয়ার সূচক নামতে থাকে। এর পরে আসে আইএল অ্যান্ড এফএস ক্রাইসিস। তাতে শেয়ার বাজারে পতনের গতি বৃদ্ধি পায়।

আইএল অ্যান্ড এফএস বা ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেড একটি কোর ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানির নাম। ২০১৮ সালে সংস্থাটি ঋণদাতাদের অর্থ ফেরত দিতে পারেনি। তা থেকে বাজারে আতঙ্ক দেখা যায়। তাকেই আইএল অ্যান্ড এফএস ক্রাইসিস বলা হয়। শেয়ার বাজারে এই সংকটের বিরূপ প্রভাব পড়ে।

Comments are closed.